kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

সিভিল সার্জনসহ দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

গণধর্ষণ শেষে হত্যার অসংগতিপূর্ণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে হাইকোর্টের তিরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিভিল সার্জনসহ দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

গণধর্ষণ শেষে সীমা রানী নামের এক মাদরাসাছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় অসংগতিপূর্ণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ায় পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. শাহ মো. মোজাহিদুল ইসলাম ও মেডিক্যাল অফিসার রেজাউর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। অসংগতিপূর্ণ প্রতিবেদন দেওয়ার কারণে সিভিল সার্জন ক্ষমার আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ।

মেডিক্যাল অফিসারের দেওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে এক স্থানে লেখা হয়েছে, গলায় দাগ রয়েছে। আরেক জায়গায় লেখা হয়েছে, জোরপূর্বক যৌন কার্যক্রম (ফোর্সফুল সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স)। পরে মতামত অংশে লেখা হয়েছে, শ্বাসরোধজনিত ও দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যু (অ্যাসপেশিয়া রেজাল্টিং ফ্রম স্ট্রঙ্গুলেশন হুইচ ওয়াজ অ্যান্টিমর্টেম অ্যান্ড অ্যাকসিডেন্টাল ইন নেচার)। এরপর সিভিল সার্জনও তাঁর মন্তব্যে এই প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

আদালত এই প্রতিবেদন দেখে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা হতে পারে না। এখানে অ্যান্টিমর্টেম হতে পারে। কিন্তু অ্যাকসিডেন্টাল হবে কেন? আদালত বলেন, এভাবে যদি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেন, তাহলে জাতির কাছে কী বার্তা যায়? এভাবে প্রতিবেদন দেওয়ার কারণে একটি মামলার বিচার প্রভাবিত হয়, এমনকি রায় উল্টে যায়; যেখানে বাদী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। আদালত বলেন, যেখানে মেয়েটির মা ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন, সেখানে চিকিৎসক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কিভাবে অসংগতিপূর্ণ মন্তব্য করেন? এরপর সিভিল সার্জনের ক্ষমার আবেদন খারিজ করে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর রাঙ্গাবালী হামিদিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সীমা রানীকে (১৩) নিজ বাড়িতে গণধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা করতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। শেষ পর্যন্ত গত ৩ জানুয়ারি পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সীমার মা তাসলিমা বেগম আটজনের বিরুদ্ধে একটি নালিশি অভিযোগ করেন। পরে ২০ জানুয়ারি থানা অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। এই মামলার আসামি দীনেশ চৌকিদার হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকালে তিনি সিভিল সার্জনের দেওয়া মেডিক্যাল সনদ দাখিল করেন। এ অবস্থায় গত ৮ মে হাইকোর্ট সিভিল সার্জনকে তলব করে এ ধরনের প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চান। এ আদেশে গতকাল তিনি হাইকোর্টে হাজির হন।

মন্তব্য