kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

ছাতকে আ. লীগে গোলাগুলি, নিহত ১

সুনামগঞ্জ ও ছাতক প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে সুনামগঞ্জের ছাতক শহরের জালালিয়া মাদরাসার সামনে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছাতক থানার ওসি গোলাম মোস্তফাসহ আহত হয়েছে কমপক্ষে ৫০ জন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ রয়েছে ৩০ জন। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত পৌর শ্রমিক লীগের সদস্য সাহাব উদ্দিন (৫০) ছাতক পৌর এলাকার বাগবাড়ি আব্দুস সোবাহানের ছেলে। তিনি মেয়র কালাম চৌধুরীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনায় পুলিশ ২৮ জনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ছাতকের সুরমা নদীতে বালু বহনকারী নৌকা থেকে চাঁদা তোলার জন্য সম্প্রতি ছাতক পৌরসভার ৯ কাউন্সিলর মিলে ‘শাহজালাল সমিতি’ নামে একটি সংগঠন গঠন করেন। এই সংগঠনের ব্যানারে নদীতে প্রতি নৌকা থেকে এক হাজার টাকা করে চাঁদা তোলা হতো। সম্প্রতি ছাতক পুলিশ নদীতে চাঁদা তোলার সময় দুই চাঁদাবাজকে আটক করে। এ নিয়ে ছাতকের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী সঙ্গে তাঁরই আপন ছোট ভাই সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরীর বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার রাতে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে শামীম চৌধুরীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন সদ্য বরখাস্ত হওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও একাধিক মামলার আসামি সাহেল আহমদ। তাদের গুলিতেই নিহত হন আবুল কালাম চৌধুরীর সমর্থক সাহাব উদ্দিন। সংঘর্ষে ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল, এসআই সৈয়দ আব্দুল মান্নান, কনস্টেবল সাকির আহমদ ও ইমরান আহমদসহ কমপক্ষে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় পুলিশ ১৬৩ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৫২টি টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে। সংঘর্ষ থামলে শ্রমিক লীগের সদস্য সাহাব উদ্দিনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে সংঘর্ষের পর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পৌর মেয়র কালাম চৌধুরীর ভাই জামাল চৌধুরী, চাচা এলাইস চৌধুরীসহ ২৮ জনকে আটক করে পুলিশ।

ছাতক থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দুই পক্ষই গোলাগুলি করেছে। এতে একজন নিহত হয়েছে। আমিসহ চার পুলিশ গুলিবিদ্ধ হয়ে এখন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।’

মন্তব্য