kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

এবার ভেঙে পড়ল ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা

আতঙ্কে বারান্দায় আশ্রয় নিচ্ছে রোগী ও স্বজনরা

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার ভেঙে পড়ল ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার তিন দিনের মাথায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডেও একই ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ার ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে চার বছরের শিশু জুনায়েত ও তার মা শীলা (৩৮)। এ অবস্থায় আতঙ্কে ওই ভবন ছেড়ে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে।

ভুক্তভোগী ইতনা ইউপির ডিগ্রিরচর গ্রামের রনজু শেখের স্ত্রী শীলা বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের পুরনো দোতলা ভবনে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশুপুত্র জুনায়েতকে নিয়ে বেডের ওপর বসে ছিলাম। হঠাৎ ওই বেডের ওপর ছাদ থেকে পলেস্তারা ভেঙে পড়ে। এ সময় আমিসহ অন্য বেডের রোগীরা আতঙ্কে ওই রুম থেকে দ্রুত বের হয়ে যাই। খবর পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে আসে।’

চিকিৎসা নিতে আসা জুলিয়া বেগম জানান, দুই দিন আগেই পলেস্তারা খসে পড়ার কারণে ভয়ে তিনি গতকাল সকালে তিন দিন বয়সী নাতনি বৃষ্টিকে নিয়ে প্রসূতি ওয়ার্ড ছেড়ে নতুন ভবনের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে থাকা রাশিদা বেগম বলেন, ‘নাতি ইছাকে (১১ মাস) নিয়ে বেডে বসে ছিলাম। চোখের সামনেই পলেস্তারা ভেঙে পড়ল। মেঘ-বৃষ্টি আসলে এই ছাদের নিচে থাকতে ভয় করে।’

এর আগে গত সোমবার দুপুরে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পায় অনেক রোগী। গতকালও দোতলায় অন্তত ৫০ জন রোগী ভর্তি ছিল।

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ছাদের অধিকাংশ স্থানে ফাটল ধরেছে।’ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. লুৎফুন নাহার জানান, গত সোমবার পুরুষ ওয়ার্ডে ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ার খবর মিডিয়ায় প্রচারের পর মঙ্গলবার স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের যশোর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী শামসুল আলম ও যশোর-নড়াইলের সহকারী প্রকৌশলী তানজিলা ফেরদৌসীসহ অন্য কর্মকর্তারা হাসপাতাল ভবনটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তাঁরা মন্তব্য করেন, ‘পুরুষ ওয়ার্ডে সব বিম ও ক্র্যাক দেখা যাচ্ছে, যা বড় ধরনের ভবনধসের পূর্বলক্ষণ। এ ছাড়া ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা ও কনক্রিট খুলে আসছে। পুরুষ ওয়ার্ডের ব্লকটি ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সেটি ব্যবহার না করার সুপারিশসহ রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরেরও সুপারিশ করেছেন তাঁরা।

এদিকে হাসপাতালের পুরনো দোতলা ভবনের ছাদসহ একাধিক স্থানে বড় বড় ফাটল চোখে পড়েনি পরিদর্শনে আসা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের। অথচ গতকাল দুপুরে একদল সাংবাদিক আরএমওসহ পরিদর্শনে গিয়ে অন্য ওয়ার্ডসহ মহিলা ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ও পলেস্তারা ঝুলে থাকতে দেখতে পান।

অভিযোগ উঠেছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে দায়িত্বে গাফিলতি করেছেন। কেননা পরিদর্শন শেষে তাঁরা পুরুষ ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করার এক দিন পরই ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটল।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের যশোর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী শামসুল আলম হাসপাতাল পরিদর্শনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ওই পুরনো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে রোগীদের স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। সে জন্য নতুন ভবন দরকার পড়বে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে নতুন তিনতলা ভবন ও কোয়ার্টার নির্মাণ করা হলেও তা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তা চালু হচ্ছে না। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন ভবন হস্তান্তর করা হয়। জনবল কাঠামো অনুমোদন না হওয়ায় অকেজো পড়ে আছে নতুন ভবনটি।

মন্তব্য