kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুদকের নামে প্রতারণা বন্ধ করার উদ্যোগ

দুই কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার আহ্‌বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে টেলিফোনে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন কৌশলে চাঁদাবাজি চলছে সারা দেশে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ। এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনার প্রমাণ পাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে দুদক। এ বিষয়ে জরুরি কিছু উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ওই ধরনের প্রতারণা থেকে প্রতিকার পেতে তাত্ক্ষণিকভাবে দুই কর্মকর্তার যে কারোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে দুদকের পক্ষ থেকে। ওই দুই কর্মকর্তা হলেন দুদকের পরিচালক (গোয়েন্দা) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী (মোবাইল ফোন নম্বর ০১৭১১-৬৪৪৬৭৫) এবং উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য (মোবাইল ফোন নম্বর ০১৭১৬-৪৬৩২৭৬)।

দুদকের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য কালের কণ্ঠকে বলেন, অনেক প্রতারক রয়েছে যারা কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থায় বিভিন্ন অনৈতিক তদবির করছে। প্রতারকচক্র কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের কর্মকর্তাদের আত্মীয়, বন্ধু কিংবা অন্য কোনো স্বজন পরিচয় দিয়ে অনৈতিক তদবির করছে। কমিশন এ জাতীয় কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বহুমাত্রিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, নিজস্ব গোয়েন্দা উৎসসহ বিভিন্ন উৎস থেকে কমিশন অবহিত হয়েছে যে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে একাধিক প্রতারক বা প্রতারকচক্র কমিশনের মামলা অথবা কাল্পনিক মামলা অথবা কাল্পনিক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি অথবা অভিযুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করছে।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতারকদের আইনের আওতায় আনা একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা কমিশন নিরলসভাবে পরিচালনা করছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কারণ, দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুসারে কোনো একক ব্যক্তির অভিপ্রায় অনুসারে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যেমন সুযোগ নেই, তেমনি অভিযুক্ত হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া কমিশনের কর্মকর্তাদের অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত বিষয়ে শুধু পত্রের মাধ্যমেই যোগাযোগের নির্দেশনা রয়েছে, টেলিফোন বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নয়। এ অবস্থায় যদি কোনো ব্যক্তি কমিশনের কর্মকর্তা কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে টেলিফোন করে বা ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে কমিশনের কর্মকর্তা বা স্বজন পরিচয় দিয়ে অনৈতিক কোনো বিষয়ে তদবির করে তাহলে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, কমিশনের গোয়েন্দা তৎপরতায় ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের রাজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে প্রতারক ফয়সল রানা ওরফে মো. ফয়েজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা