kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গা নিপীড়ন প্রসঙ্গে জাতিসংঘের বিশেষ দূত

আইসিসিতে না পারলে ট্রাইব্যুনালে বিচার হোক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আইসিসিতে না পারলে ট্রাইব্যুনালে বিচার হোক

রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিচারের দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদ যদি আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে (আইসিসি) দিতে না পারে তবে নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার (বিশেষ দূত) ইয়াংহি লি। গতকাল সোমবার বিকেলে জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৪০তম অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর প্রশ্নোত্তর পর্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন।

ইয়াংহি লির উপস্থাপন করা প্রতিবেদনটি কয়েক দিন আগেই অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘সেফ জোন’ (নিরাপদ অঞ্চল) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে উদ্বেগ জানান। কারণ হিসেবে বলেন, তাতে করে রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা সেফ জোনেই সীমিত হয়ে পড়বে। অন্যদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের কথা বলা হয়েছে। নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত হলে ‘সেফ জোনের’ প্রয়োজন পড়ে না। তাই ‘সেফ জোন’ ও ‘নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন’ ধারণাটি সাংঘর্ষিক।

কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে নোয়াখালীর ভাসান চরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েও উদ্বেগ জানান ইয়াংহি লি। তাঁর আশঙ্কা, এর মধ্য দিয়ে নতুন সংকট সৃষ্টি হবে। তিনি আরো বলেছেন, গত ১৮ মাসে রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারে ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ইয়াংহি লি গতকাল তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে বলেন, ‘কক্সবাজারে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিয়ে ভয়ংকর মানবিক সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ যা করেছে তা অন্য কোনো দেশই করবে না। মিয়ানমারসৃষ্ট সংকটের কারণে বাংলাদেশ যে মহানুভবতা দেখাচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি বাংলাদেশকে তা অনির্দিষ্টকাল ধরে দেখিয়ে যেতে বলবে? আমরা কি রোহিঙ্গাদের বলব যে তাদের এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকাল ধরে থাকতে হবে? আমরা কি মিয়ানমারে সংঘাত-সহিংসতার মধ্যে বসবাসরত লোকদের বলব যে কোনো সহযোগিতা করতে পারব না এবং তাদের নিপীড়ন হওয়া অব্যাহতই থাকবে?’

ইয়াংহি লি বলেন, “ওই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোনো দ্বিমত ছাড়াই ‘না’। তাই আমি আপনাদের (আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়) কথা বন্ধ করে কাজ শুরুর ওপর জোর দেব। মিয়ানমারের সমস্যাগুলো দূর করতে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই একতাবদ্ধ হতে হবে।”

জাতিসংঘের ওই বিশেষ দূত মানবাধিকার পরিষদকে জানান, এমন কোনো ইঙ্গিত তিনি পাননি যার ওপর ভিত্তি করে তিনি পরিষদকে জানাতে পারেন যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করাকেই সবার অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। মিয়ানমারের জেনারেলদের অপরাধের দায়মুক্তি দিয়ে কোনো সামাজিক পুনর্মিলন হবে না। তাদের বিচারের দায়িত্ব আইসিসির কাছে ন্যস্ত করা উচিত। ইয়াংহি লি সৌদি আরব ও ভারত থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ‘ফেরত পাঠানো’র ঘটনায় উদ্বেগ জানান। 

আলোচনা পর্বে বিভিন্ন দেশ ইয়াংহি লির বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মিয়ানমারের সমালোচনা করে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে।

অন্যদিকে মিয়ানমারের দূত গতকাল ইয়াংহি লির বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ এনে তাঁকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ছাড়া মিয়ানমারের ওপর আইসিসির কোনো এখতিয়ার নেই উল্লেখ করে ওই আদালতে মিয়ানমারের বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার ভাবনা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের নিপীড়নকে আন্তর্জাতিক আইনে ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন। নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায় মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দিতে পারে না। তবে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকে ওই দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন।

গতকালের আলোচনায় প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির থেকে দুজন রোহিঙ্গা নারী অংশ নেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা