kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

মায়ের অবর্তমানে লালন পালনকারী বাবাকেই হত্যা করল ছেলে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর বিয়ে না করে শিশুপুত্র তানজিমকে নিজেই লালন-পালন করে বড় করেন বাবা আনোয়ার হোসেন। সেই ছেলের বয়স এখন ৩০ বছর এবং বাবা আনোয়ারের বয়স ৮০ বছর। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই ছেলে তানজিমের হাতেই খুন হলেন অসুস্থ বাবা আনোয়ার হোসেন। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গুলুটিয়া গ্রামে গত রবিবার রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

গতকাল সোমবার সকালে স্বজনরা আনোয়ারকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পিতৃহত্যার দায় স্বজনদের কাছে স্বীকার করেছেন ছেলে হাসান তানজিম।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তখন হাসানের বয়স ছিল মাত্র দু-তিন মাস। আনোয়ার হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। নিজেই ছেলেকে লালন-পালন করেন। একসময় তিনি মানিকগঞ্জ শহরে একটি ফার্মেসি চালাতেন। প্রায় ১০ বছর ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে বিছানায় পড়া ছিলেন। ছেলে তানজিমই তাঁকে দেখাশোনা করতেন। ঠিকা কাজের মেয়ে তাঁদের রান্নাবান্না করে দিতেন। তানজিম পেশায় ইলেকট্রিক মেকানিক। পাশাপাশি বাড়িতে তাঁর একটি মুরগির খামারও রয়েছে।

অন্যান্য দিনের মতো গত রবিবার রাতে বাবা ও ছেলে বাড়িতেই ছিলেন। আনোয়ার হোসেনের বাড়ির পাশেই তাঁর বড় ভাইয়ের বাড়ি। বড় ভাইয়ের স্ত্রী বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম গতকাল সকালে দেবর আনোয়ার হোসেনের ঘরের দরজা খোলা এবং লাইট জ্বলতে দেখে এগিয়ে যান। ঘরে ঢুকে তিনি বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় আনোয়ার হোসেনকে দেখতে পান। কিন্তু ডাকাডাকি করেও তানজিমকে পাননি। তাঁর চিত্কারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। পরে পুলিশকে খবর দেয়।

এরপর সকাল ১১টার দিকে এলাকার লোকজন বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটি ক্ষেতে কর্দমাক্ত অবস্থায় হাসানকে পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় অসংলগ্নভাবে তিনি তাঁর বাবাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

আনোয়ার হোসেনের স্বজন ও গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তানজিম খুবই ভদ্র ও শান্তশিষ্ট ছেলে ছিলেন। প্রায় ১০ বছর ধরে বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবাকে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবাযত্ন করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাত্ করে তিনি কেন তাঁর বাবাকে হত্যা করলেন, তা বোঝা যাচ্ছে না। তারা জানায়, আনোয়ার হোসেনের বেশ কিছু জমিজমা আছে। এ ছাড়া পোস্ট অফিসে বেশ ভালো অঙ্কের টাকা জমা রয়েছে। মূলত জমি থেকে আয় এবং ব্যাংকের জমানো টাকার লভ্যাংশ দিয়ে বাবা ও ছেলের সংসার চলত। এর মধ্যে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তাঁর সাবেক স্ত্রীর কোনো যোগাযোগ ছিল না। তবে তানজিমের সঙ্গে তাঁর মায়ের যোগাযোগ ছিল। মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি রকিবুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, আনোয়ার হোসেনের মুখমণ্ডলে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তানজিম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা