kalerkantho

দুবাই থেকে ভারতে পাচার ট্রানজিট রুট বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে সোনা উদ্ধার মামলার আসামিদের তথ্য

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুবাই থেকে ভারতে সোনা পাচারে বাংলাদেশকে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রানজিট রুট হিসেবে। হোতারা ভারতে বসে দুবাইয়ের পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছে এই অপকর্ম। এই পাচারকাজে রয়েছে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। আর ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার হওয়া বাংলাদেশজুড়ে রয়েছে এই পাচারকারী সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বেনাপোল, কুমিল্লা ও দামুড়হুদা পয়েন্ট দিয়ে ভারতে পৌঁছে যায় দুবাইয়ের সোনার বড় বড় চালান।

সোনা পাচারের এই যজ্ঞে সরাসরি জড়িত দুবাই, বাংলাদেশ ও ভারতের প্রভাবশালী চোরাকারবারিরা। এ কারণে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে নেওয়াটা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামে গত ৩ মার্চ দুটি পৃথক অভিযানে ৭০০ সোনার বারসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। প্রথম দফায় আসামিরা বিস্তারিত তথ্য না দেওয়ায় তাঁদের চারজনকে আদালতের মাধ্যমে দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর মধ্যে দুজনকে দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য দুজনকে আজ সোমবার আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে।

দুই মামলায় রিমান্ডে পুলিশের একাধিক প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ১০০ সোনার বারসহ গ্রেপ্তার হওয়া লাভু শাহা ও বিলাল হোসেন। প্রথম দফায় চার দিন ও পরের দফায় দুই দিনসহ মোট ছয় দিনের রিমান্ড শেষে তাঁদের গতকাল মহানগর হাকিম আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ ছাড়া জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ৬০০ সোনার বারসহ গ্রেপ্তার হওয়া করিম খান কালু ও রাকিব প্রথম দফায় পাঁচ দিন এবং দ্বিতীয় দফায় তিন দিন রিমান্ডে ছিলেন।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের পরিচয়সহ বেশ কিছু তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলা যাবে না।’ জোরারগঞ্জ থানার অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মোহাম্মদ মশিউদ্দৌলা রেজাও একই কথা বলেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, ‘এই পাচার কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত। এর বেশি বলতে চাই না।’

এই তিন কর্মকর্তা শুধু ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য পাওয়া গেছে শব্দের মধ্যেই প্রাপ্ত তথ্যাদি সীমাবদ্ধ রাখলেও কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে জানা গেছে, চারজন আসামিই সোনা পাচারের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তারা জানান, বিমান, বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পাচারকারী ও হুন্ডি ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে এই সোনা পাচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ আছে বাংলাদেশের পাচারকারীদের। জিজ্ঞাসাবাদে লাভু শাহা ও বিলাল হোসেন স্বীকার করেছেন, তাঁরা গ্রেপ্তারের আগে আরো পাঁচ-সাতবার সোনার বার বহন করেছেন।

ধরা পড়েনি দুটি চালান!

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জেনেছে, পাচারের সোনাগুলো বের হয়েছে রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে। এর নেপথ্যে রয়েছে রিয়াজউদ্দিন বাজারকেন্দ্রিক সোনা পাচারকারী এবং হুন্ডি ব্যবসায়ীরা।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩ মার্চ সোনা পাচারের সময় ধরা পড়েছে দুই চালানে ৭০০ বার। কিন্তু কাছাকাছি সময়ে বা ওই দিনই আরো সোনার বার পাচার হয়েছে বলে তাঁরা শুনেছেন।

ওই মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী জানান, দুবাই থেকে পাচারের সোনা নিয়ে আসা যাত্রী ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে যান। ঢাকা থেকে ডমিস্টিক ফ্লাইটের যাত্রী হিসেবে অন্যজন বিমানে উঠে চালান বুঝে নেন। বিমানটি চট্টগ্রামে পৌঁছার পর আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ইমিগ্রেশন করতে হলেও ডমিস্টিক ফ্লাইটের যাত্রীরা অভ্যন্তরীণ পথে দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারেন। এ কারণে সোনার চালান বেশি আসছে চট্টগ্রামে।

মন্তব্য