kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

একজন রোশা আকতার

‘সেলাই দিদিমণি’র জীবনযুদ্ধের গল্প

কাজী আয়েশা ফারজানা, বোয়ালখালী   

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘সেলাই দিদিমণি’র জীবনযুদ্ধের গল্প

টিন আর বাঁশ দিয়ে বানানো একটি এক চালা ঘরে বসবাস করেন তিনি। বয়স ৪০ বছর। চেহারায় মলিনতার ছাপ। জীবনের দুর্বিষহ যন্ত্রণা বোবা কান্না হয়ে জমে আছে চোখের এক কোণে। সব আশা-আকাঙ্ক্ষার কবর রচনা হয়েছে অনেক দিন আগে; কিন্তু জীবনযুদ্ধে থেমে যাননি। পা নেই, কৃত্রিম পা নিয়ে ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন। ওই অবস্থায়ই করেন সেলাইসহ সংসারের সব কাজ। আর দশটা মানুষের মতো দ্রুত কাজ করা সম্ভব হয় না তাঁর। কষ্ট হয়, তবু সেলাই মেশিন চালিয়ে জীবনের হাল ধরেছেন। আশপাশের মেয়েরাও তাঁর কাছে সেলাই শেখে।

প্রায় ৩০ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ করেন এই গল্পের নায়িকা রোশা আকতার। কিন্তু প্রতিবন্ধিতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সব বাধা ডিঙিয়ে দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার  সারোয়াতলী ইউনিয়নের অনগ্রসর গ্রাম মাঝিরপাড়া। এই গ্রামের কৃষক আবদুল জলিলের ঘরে জন্ম রোশা আকতারের। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। এক দুর্ঘটনায় এলোমেলো হয়ে গেল সব কিছু। বিয়ের পরের বছরই রাস্তা পার হতে গিয়ে বেপরোয়া গাড়ির চাকায় পিষ্ট হন রোশা। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে বেঁচে ফিরলেও পাল্টে যায় তাঁর জীবনের সমীকরণ। কেটে ফেলতে হয় দুটি পা।

স্বামীর ঘরে আর ঠাঁই হয়নি তাঁর। স্বামী আবার বিয়ে করে শুরু করলেন নতুন সংসার। আর রোশা আকতারের আশ্রয় হলো বাপের বাড়িতে। তাঁকে যত্নেই আগলে রাখলেন মা-বাবা। কিন্তু ভাগ্যে সেই সুখও বেশি দিন সইলো না।

কয়েক বছর পরই মারা যান মা-বাবা। শেষ ভরসাটুকু হারিয়ে গেলেও জীবন থেমে থাকেনি, নতুন যুদ্ধ শুরু হলো তাঁর। হাতে তুলে নিলেন সুই-সুতা, নিলেন সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ। ১০ বছর ধরে সেলাইকাজ করেই সংসার চালান তিনি।

মন্তব্য