kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

বিশেষ লেখা

মনে করেছি আমি মানুষ, আমিও পারব

সেলিমা আহমাদ   

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মনে করেছি আমি মানুষ, আমিও পারব

বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় নারীর চলার পথ কঠিন। পরিবার, কর্মক্ষেত্র থেকে বাধা আসবে। তার জন্য হতাশ হলে চলবে না। সাহস নিয়ে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। আর সেই স্বপ্ন পূরণে নিজেকে তৈরি করতে হবে। লেখাপড়া শিখে, প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে যোগ্য করতে পারলেই নারী তার মর্যাদা পাবে।

একসময়ে এ দেশে নারীকে লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়া হতো না। দিন পাল্টাচ্ছে। নারীরা শিক্ষিত হচ্ছে। যোগ্যতা দিয়ে নিজের অধিকার আদায় করে নিচ্ছে। গত ১০ বছরে এ দেশে নারীর ক্ষমতায়নে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অঙ্গনে নারীদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে।

আজ আমরা যারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছি তাদের আগামীর নারীদের চলার পথের প্রতিবন্ধকতা দূর করে যেতে হবে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমি সে চেষ্টাই করব। অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের পথ সহজ করতে চাই। ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে চাই। গ্রামের একজন নারী যাতে সহজে স্বাবলম্বী হতে পারে সে ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেব।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। আমাকে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তবে আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতোই আমার জীবন। লেখাপড়া চলাকালে বিয়ে হয়। সংসার করেছি, সঙ্গে পড়ালেখা চালিয়ে গেছি। ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় উচ্চশিক্ষা নিয়েছি। স্বাধীনভাবে কাজ করব বলে চাকরি না করে ব্যবসা করি। ছোট্ট পরিসরে কাজ শুরু করে আজ পরিবহন খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। শুধু মুনাফা অর্জন নয়, পেশা জীবনের শুরু থেকেই সামাজিক দায়িত্ববোধে কাজ করছি। 

একজন ব্যবসায়ীর দায়বদ্ধতা অনেক। সে শুধু নিজের জন্য নয়, সবার জন্য কাজ করে। নীতি-আদর্শ, দূরদৃষ্টি, পরিশ্রম করার মানসিকতা, সততা, অধ্যবসায় না থাকলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা পাওয়া যায় না। অনেক হিসাব কষে ব্যবসায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বাধা আসবে। কিন্তু ভেঙে পড়লে চলবে না। চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করতে পারাই একজন মানুষের জীবনের সার্থকতা, তৃপ্তি।

নারী হিসেবে করুণা নিয়ে কখনো কাজ করিনি। বরং মনে করেছি—আমি মানুষ, আমিও পারব। তবে নারী হওয়ায় কর্মজীবনে আমাকে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা নারীদের প্রতিও রয়েছে বৈষম্যমূলক আচরণ। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তারা নানাভাবে বাধার মুখোমুখি হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, নানামুখী প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও একজন নারীর কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা, সততা, নিষ্ঠা আর সুন্দর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকলে কেউ তাকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। সর্বশক্তিমানের আশীর্বাদ থাকবে তার ওপর।

লেখক : সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও নিটল নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান

অনুলিখন : ফারজানা লাবনী

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা