kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুর্নীতিবাজদের লজ্জা ফেরাতে চায় দুদক

৩০ বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতিবাজদের লজ্জা ফেরাতে চায় দুদক

দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গতকাল মতবিনিময় করে দুদক। ছবি : কালের কণ্ঠ

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘আমরা লোভের জিহ্বা কেটে দিতে চাই। সেটা আমরা কাটা শুরু করেছি। দুর্নীতি করলে এখন নিশ্চিতভাবে শাস্তি হয়। ৬৩ শতাংশ শাস্তি এমনিতে হয়নি।’ তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের লজ্জা ফেরাতে চেষ্টা করছে দুদক।

গতকাল রবিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌশলপত্র-২০১৯’-এর ওপর মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দুদক চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘লজ্জা এখন কেউ পায় না। একসময় বলা হতো অর্থ অনর্থের মূল। কিন্তু সব সময় অর্থ অনর্থের মূল নয়। অনেক সময় অর্থই অর্থের মূল। অর্থ মানেই পাওয়ার বা ক্ষমতা। মানুষ অর্থের পেছনে ছোটে। এটাতে এখন লজ্জা পায় না তারা। আমরা লজ্জা ফেরানোর চেষ্টা করছি। দুর্নীতিবাজদের লজ্জা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা। মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা এবং মূল্যবোধসম্পন্ন উন্নয়নের প্রয়োজন। দুদককে ভয় পায় না, এমন লোক হয়তো সমাজে নেই। তবে ভয় দিয়ে সব কিছু জয় করা যায় না।’

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারাই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সবচেয়ে যোগ্য এবং মেধাবী সন্তান। আপনাদের কাছ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে নতুন ধারণা, সৃজনশীল আইডিয়া এবং সর্বোপরি কর্মপন্থা গ্রহণ করতে চাই।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়। এ বিষয়টি অনুধাবন করেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বচনী ইশতেহারে দুর্নীতি দমনের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়েছে। এক দিন বা এক বছরেই এ থেকে পরিত্রাণের উপায় নেই। একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় দুর্নীতি অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে। দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে শিক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

মতবিনিময়সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামস আসিফ চৌধুী বলেন, ‘দুদক স্কুলপর্যায়ে সততা সংগঠন করলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের কোনো সংগঠন করেনি।’ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এথিকস ক্লাব গঠনের আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অর্পিতা মহাজন বলেন, ‘দুর্নীতি কমাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং তাত্ক্ষণিক ফল চাই।’

আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজের মো. আশিকুর রহমান মিয়া বলেন, ‘আমরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছি কি না, এটি বড় প্রশ্ন।’ দুর্নীতিকে একটি চেইন অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি আরো বলেন, ‘নিচের দিকে কর্মরত কর্মকর্তারা জানেন তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও দুর্নীতিপরায়ণ। তাই দুর্নীতি করলে কিছু হবে না।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘অপরাধীদের বিচার দ্রুত করা না গেলে অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়।’ তিনি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিরা রহমান বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল দুর্নীতি। ছোট ব্যবসায়ীরা এ দুর্নীতি করছে এবং তারাই নিরাপদ খাদ্যের জন্য হুমকি।’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘কৃষি ভর্তুকির অর্থ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিকট পৌঁছানোর আগেই বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি সংঘটিত হয়।’

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী টোটন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘দুর্নীতি যারা করে তাদের জন্য ভয় ও লজ্জার ব্যবস্থা করতে হবে।’ দুর্নীতি দমনে তিনি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

এ সময় দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্নীতি দুটি পর্যায়ে বেশি হয়। একটি প্রাতিষ্ঠানিক এবং অন্যটি ব্যক্তি পর্যায়ে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা