kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাঁধ মেরামত নিয়ে অভিযোগ

পিআইসির কেউই কৃষক নন

তাঁদের ওই হাওরে কোনো জমিও নেই। তাই তাঁরা বাঁধ মেরামতকাজেও ব্যাপক অনিয়ম করে যাচ্ছেন

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার একটি হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতকাজে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার উপজেলার সরস্বতীপুর গ্রামের কৃষক আনিছ মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ওই অভিযোগ দাখিল করেন। এতে বলা হয়, উপজেলার গুরমার হাওর ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতের দায়িত্বে থাকা ৬৫ নম্বর পিআইসির সভাপতিসহ পাঁচ সদস্যের কেউই প্রকৃত কৃষক নন।

জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার আটটি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীন স্থানীয় কৃষকদের সমন্বয়ে ৮৭টি পিআইসি গঠন করা হয়। ওই কাজের জন্য পাউবো থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ওই সব বাঁধ মেরামতের কাজ গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা।

অভিযোগে বলা হয়, কমিটিগুলো প্রকৃত কৃষকদের সমন্বয়ে গঠন করার কথা থাকলেও সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ও ধর্মপাশা উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব মাহমুদুল ইসলামের যোগসাজশে গুরমার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতের জন্য গঠিত ৬৫ নম্বর পিআইসির সভাপতি হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের কেউই প্রকৃত কৃষক নন। এমনকি তাঁদের ওই হাওরে কোনো জমিও নেই। তাই তাঁরা বাঁধ মেরামতকাজেও ব্যাপক অনিয়ম করে যাচ্ছেন।

পিআইসির সভাপতি হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বাবার রেখে যাওয়া কিছু বোরো জমি রয়েছে পাশের কাইলনী হাওরে।’ কমিটির অন্য সদস্যদেরও ওই হাওরে কোনো জমি নেই বলে তিনি স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘পিআইসি গঠনে আমার কোনো হাত নেই। সেটি সম্পূর্ণভাবে উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির দায়িত্ব। আমি শুধু বাঁধের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা তদারক করার দায়িত্বে রয়েছি। তবে অভিযোগের বিষয়টিও আমরা তদন্ত করে দেখব।’

উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাঁধের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে গেছে। এখন কি এ ধরনের অভিযোগ করা ঠিক? তবে বাঁধ মেরামতকাজে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা