kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তুমব্রু খালে স্থাপনা নির্মাণ চলছেই

তোফায়েল আহমদ, তুমব্রু সীমান্ত ঘুরে এসে   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তুমব্রু খালে স্থাপনা নির্মাণ চলছেই

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় তুমব্রু খালের ওপর পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার। শূন্যরেখায় খালের ওপর কেন এই স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, তা জানতে চেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত সোমবার মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশকে (বিজিপি) চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠির জবাব গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেয়নি তারা। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি।

কয়েক দিন ধরে বিজিপির তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের সীমান্তে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে তুমব্রু খালের ওপর পাকা পিলার স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুনধুম ইউনিয়নের তুমব্রু বাজারের কাছে শূন্যরেখায় তুমব্রু খালের ওপর সেই পাকা পিলারের ওপর গতকাল ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে সীমান্ত এলাকার জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

গতকাল দুপুরে তুমব্রু এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিজিপির তুমব্রু ক্যাম্পের পাশে খালের ওপর পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, গত সোমবারের চিঠির জবাব না দিয়েই বিজিপি এই স্থাপনা তৈরির কাজ করে চলেছে।

স্থাপনাটি সেতু নাকি বাঁধ, তা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। সীমান্ত এলাকার লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার কক্সবাজারের বিজিবি কর্মকর্তারা এলাকাটি পরিদর্শন করেন। বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম বায়েজিদ খান সীমান্ত পরিদর্শন করার পরপরই স্থাপনা নির্মাণের কারণ জানতে চেয়ে বিজিপিকে চিঠি দেওয়া হয়।

সেক্টর কমান্ডার বায়েজিদ খান সাংবাদিকদের জানান, তুমব্রু খালের ওপর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কাঁটাতারের বেড়া সংস্কার করছে। খালের ওপর আগে কাঠের খুঁটি ছিল, সেটি পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখানে আরসিসি পাকা পিলার দেওয়া হচ্ছে। এটি কোনো সেতু বা বাঁধ নয়। তবে সীমান্তের শূন্যরেখায় কেন তারা এটি নির্মাণ করছে তা জানতে চেয়ে বিজিপিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মহলকে এরই মধ্যে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিয়ানমার-বাংলাদেশের যৌথ নদীর নিম্নমুখী গতিধারায় জিরো লাইন থেকে ৫০ মিটার অভ্যন্তরে মিয়ানমার কর্তৃক একটি কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে।’

মিয়ানমার এর আগে এই সীমান্তের দক্ষিণে উলুবনিয়া সীমান্তে খালের ওপর বাঁধ নির্মাণ করে। এ ঘটনায় সীমান্তে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তুমব্রু শূন্যরেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘মিয়ানমার হয়তো বা খালপার থেকে সাড়ে চার হাজার রোহিঙ্গাকে তাড়ানোর কৌশল হিসেবেই খালে পাকা পিলারের সাহায্যে ব্রিজ নির্মাণ করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা