kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফাঁকা হচ্ছে এমপি হোস্টেল

প্রথম অধিবেশনের আগেই বরাদ্দ পাচ্ছেন নতুনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইন প্রণেতাদের আবাসস্থল ‘এমপি হোস্টেল’ ছাড়তে শুরু করেছেন সাবেক সংসদ সদস্যরা। একাদশ সংসদে যাঁরা পুনর্নির্বাচিত হননি তাঁদের নিয়ম অনুযায়ী চলতি মাসের মধ্যে বাসা ছাড়তে বলা হয়েছে। বাসা খালি করার পাশাপাশি নতুনদের বরাদ্দ দেওয়ার কাজও শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়ের হোস্টেল শাখা। নতুন সংসদ সদস্যরা প্রথম অধিবেশনের আগেই এমপি হোস্টেলের বাসায় উঠতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সূত্র মতে, মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ন্যাম ফ্ল্যাটের ছয়টি ভবন এবং নাখালপাড়ায় পুরনো এমপি হোস্টেলের চারটি ভবনে সংসদ সদস্যদের সরকারি আবাস। মন্ত্রিপরিষদের বাইরে থাকা সংসদ সদস্যদের সেখানে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত বছর ৩৫০ জন এমপির মধ্যে ২৯২ জনকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাঁদের অনেকেই অবশ্য বরাদ্দ নিয়েও ফ্ল্যাটে থাকেননি। সংসদ সদস্যদের আবাসনের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংসদ কমিটি গত আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমপি হোস্টেলে থাকেন না এমন এমপিদের বাসা ছেড়ে দিতে বলে। একাদশ সংসদের নতুন সদস্যদের জন্য বাসা খালি করার জন্য ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দশম সংসদের প্রধান হুইপ ও সংসদ কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ কালের কণ্ঠকে জানান, নতুন এমপিদের জন্য বাসা বরাদ্দের কার্যক্রম আগেই শুরু হয়েছে। নতুনদের জন্য বাসা প্রস্তুত করতে বেশ কিছু ফ্ল্যাট খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে সংসদ কমিটি গঠিত হবে। এরপর নতুন করে বাসা বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে নতুন এমপিদের অনেকেই ঢাকায় এসে হোটেল ও আত্মীয়-স্বজনের বাসায় আশ্রয় নিচ্ছেন। খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হোটেলে থেকে শপথ অনুষ্ঠান পার করলাম। এখন লম্বা অধিবেশন শুরু হবে। তার আগে বাসাটা বরাদ্দ পেলে ভালো হতো। বিষয়টি নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করব।’

সংসদ সচিবালয়ের হোস্টেল শাখার কর্মকর্তারা জানান, একাদশ সংসদে নতুন এমপির সংখ্যা কম হওয়ায় বাসা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। অনেকেই ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন। এ পর্যন্ত ১০-১২টির মতো আবেদন জমা পড়েছে। অনেকেই এসে খোঁজখবর নিয়েছেন। কিন্তু নতুন সংসদ কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সবাই বাসা বরাদ্দ পাবেন। তাঁরা আরো জানান, দশম সংসদের সদস্যদের মধ্যে যাঁরা একাদশ সংসদে নেই তাঁরা বাসা ছাড়তে শুরু করেছেন। অনেকেই এ মাসের শেষে বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বাসা ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন। বাসা খালি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তা নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হবে। নতুন করে ৫০টির মতো ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া লাগতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।

তবে বাসা বরাদ্দ দেওয়ার আগে বাসা ব্যবহারের নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কারণ অতীতে দেখা গেছে, এমপি হোস্টেল এমপিদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে অধিকাংশ এমপি থাকেন না। সেখানে থাকে তাঁদের কর্মচারী, ড্রাইভার, দলীয় কর্মী ও আত্মীয়-স্বজনরা। এমনকি বিভিন্ন মামলার আসামিরা সেখানে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে তারা নানা অসামাজিক কাজও করে থাকে। সংসদ কমিটি সে সময় এ বিষয়ে অর্ধশতাধিক এমপিকে সতর্ক করে চিঠি দেয়। কিন্তু বহিরাগতদের উচ্ছেদের এই উদ্যোগ পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তাই এবার আগে থেকে নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় সংসদ সচিবালয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা