kalerkantho

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হওয়ায় উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিভিন্ন মহলের দাবি আমলে না নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্বেগ জানিয়েছে রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আইনটির ৩২ ধারা নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। তারা বলেছে, এই আইন মানুষের মুক্তচিন্তা ও বাক্স্বাধীনতার পরিপন্থী। এ ছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

আইন সালিশ কেন্দ্র (আসক): মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা এই সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নতুন আইনে বলা হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হবে। কিন্তু আসক উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে যে বিতর্কিত ৫৭ ধারায় উল্লিখিত মত প্রকাশের অধিকার সংকুচিত করার বিভিন্ন দিক নতুন আইনে সন্নিবেশিত রয়েছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আসক মনে করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারায় সন্নিবেশিত বিধানাবলি সংবিধানের মৌলিক চেতনা, বিশেষ করে মুক্তচিন্তা, বাক্স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।’

গণমাধ্যমকর্মীদের বক্তব্য : বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসির সম্পাদক জায়েদুল আহসান পিন্টু বলেন, ‘শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, গবেষকদের জন্যও এই আইন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গবেষণা করতে গেলেও চিন্তাভাবনা করতে হবে গবেষণা করা ঠিক হবে কি না।’

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তায় অনিরাপদ সাংবাদিকতা?’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি এসব কথা বলেন।

পিন্টু বলেন, ‘এই আইনের বিশেষ কিছু ধারায় বলা হয়েছে, সংরক্ষিত কিছু কার্যালয়ে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারবেন না। এর অর্থ সাংবাদিকদের সাংবাদিকতায় বাধা। যদি প্রবেশ করেনও, তিনি তখন মামলার মুখোমুখি হবেন। একজন সাংবাদিক তাঁর অনুসন্ধানের জন্য সরকারি কোনো কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না? কোনো তথ্য নিতে পারবেন না?’

জায়েদুল আহসান পিন্টু আরো বলেন, ‘সাংবাদিকরা সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ফাঁস করে দিচ্ছেন। আর এ কারণেই আমলারা চাচ্ছেন সাংবাদিকরা যেন এটা ফাঁস না করতে পারেন।’

রাজধানীর শুক্রাবাদে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে এই বৈঠকি সরাসরি সম্প্রচার করে এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে তা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বৈঠকিতে আরো অংশ নেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা