kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

কনস্টেবল নিয়োগে ৮০ লাখ টাকা বাণিজ্য

অভিযুক্ত পুলিশ কর্তাকে অব্যাহতি!

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কনস্টেবল নিয়োগে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ দুই আসামিকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ২০ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে চার লাখ টাকা করে মোট ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া ওই মামলার তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আর মামলার আসামি ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাহাবুদ্দিনসহ দুজন।

ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ রাশেদ মোবারক সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তিনি জানান, মামলার দুজন আসামি এএসআই সাহাবুদ্দিন ও বাদশাকে অভিযুক্ত করার মতো কোনো ধরনের আনুষঙ্গিক ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে পারেনি মামলার বাদীসহ অন্যরা। ঘটনার সঙ্গে এএসআই সাহাবুদ্দিন ও বাদশার কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়া যাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতি দিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। 

জানা গেছে, কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লার পুলিশ লাইনস মাঠে শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় ছয় শতাধিক প্রার্থীকে বাছাই করা হয়। ওই পরীক্ষায় প্রতারণার শিকার হওয়া তরুণদের অনেকে বাদ পড়লে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ২৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের হাজরাদি চানপুর এলাকার মোতাহার হোসেন ভূইয়ার ছেলে স্বদেশ ভূইয়া বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন এসবির এএসআই ও বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের নিশং এলাকার বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন এবং একই এলাকার মোশারফের ছেলে বাদশা। মামলায় অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, কনস্টেবল পদে নিয়োগ সামনে রেখে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাইতুল্লাহ মসজিদের পূর্ব পাশে গ্যালাক্সি স্কুলের ভেতরে প্রত্যাশা নামে একটি কোচিং সেন্টার খোলেন এএসআই সাহাবুদ্দিন ও বাদশা। সেখানে কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে স্বদেশ, সিয়াম, মোস্তাকিম, রায়হান, তৌহিদ, মারুফা আক্তার মলি, রুবেলসহ ২০ জনের কাছ থেকে চার লাখ করে টাকা হাতিয়ে নেন সাহাবুদ্দিন ও বাদশা। ওই মামলা দায়েরের পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এএসআই সাহাবুদ্দিনকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক রাশেদ মোবারক। তবে গ্রেপ্তার হলেও অসুস্থ দেখিয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ভর্তি রাখার পর আদালত থেকে জামিন পান এএসআই সাহাবুদ্দিন।

 

মন্তব্য