kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

১০ টাকার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ সরকারের ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মানিকগঞ্জের শিবালয়, শেরপুরের শ্রীবরদী ও হবিগঞ্জের মাধবপুর। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কার্ডের নাম মুছে নতুন নাম সংযোজন, একই ব্যক্তির একাধিক কার্ডের চাল উত্তোলন, ওজনে কম দেওয়াসহ নানা অভিযোগ। এ ছাড়া ডিলারদের বিরুদ্ধে চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সাভারে ১০ টাকা দরের চাল বিতরণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে :

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ১০ টাকার চাল কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তালিকায় নাম থাকলেও অনেকে চাল পাচ্ছে না। খাদ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ডিলাররা কালোবাজারে চাল বিক্রি করে দিচ্ছেন।

উপজেলার দুর্গম কানাইদিয়া চরের মোহন মণ্ডল বলেন, “তালিকায় নাম থাকলেও আমাকে মাত্র একবার চাল দেওয়া হয়েছে। পরের মাসে চাল আনতে গেলে ডিলার আমার সাথে খারাপ আচরণ করেছে। বলেছে, ‘তোদের আর চাল দেওয়া হবে না। ২০০ টাকা নিয়ে চলে যা।’”

স্থানীয় দরিদ্র আমজাদ মৃধা, খইমুদ্দিনসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, ‘তালিকায় আমাদের নাম আছে। তবে চাল আনতে গেলে তালিকায় নাম নেই বলে ডিলার খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যার-মেম্বারদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।’

তবে অভিযোগের ব্যাপারে শিবালয় সদর ইউনিয়নের ডিলার মনোরঞ্জন শীল নকুল দাবি করেন, তালিকায় যাদের নাম আছে এবং যারা কার্ডধারী সবাইকে চাল দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সদস্যসচিব শাহ মো. হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘তালিকায় নাম থাকার পরও চাল পাচ্ছে না এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। আর কালোবাজারে চাল বিক্রির সঙ্গে আমাদের কেউ জড়িত থাকার সুযোগ নেই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘মৌখিক বা লিখিতভাবে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ডিলারশিপ বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শেরপুরের শ্রীবরদীতে কার্ডে আগের নাম মুছে নতুন নাম সংযোজন, একই ব্যক্তির একাধিক কার্ডের চাল উত্তোলন, ওজনে কম দেওয়াসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ২০ জন ডিলারের মাধ্যমে ৪৮০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ ডিলারের সুরক্ষিত গুদামঘর নেই। ডিজিটাল পরিমাপযন্ত্রের মাধ্যমে বিতরণের কথা থাকলেও বিতরণ করা হয় প্লাস্টিক বালতি বা বাটখারা দিয়ে।

উত্তর মাটিয়াকুড়া গ্রামের গৃহবধূ মেহেরুন নেছা, দক্ষিণ গড়গড়িয়ার জহুর আলী, রানীশিমুল গ্রামের রঞ্জিত গোস্বামী ও মাধব বর্মণ অভিযোগ করেন, ৩০ কেজির মধ্যে তাঁদের তিন কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়েছে।

ভায়াডাঙ্গা বাজারে কয়েকজন অভিযোগ করেন, প্রতি কার্ডে দুই-তিন কেজি করে চাল কম দেওয়া হচ্ছে। নামে-বেনামে কার্ড রয়েছে। কার্ডে ছবি নেই। ভোটার আইডির সঙ্গে কার্ডের নামের মিল নেই।

তবে ডিলার সুজন রেজা দাবি করেন, খাদ্যগুদাম থেকে চাল কম দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরাও ওজনে কম দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলা ওসিএলএসডি আশরাফুল আলম দাবি করেন, গুদাম থেকে চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার ইবনে হোসাইন বলেন, ‘কেউ চাল কম দিলে আমরা কী করব?’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফারুক আল মাসুদ বলেন, চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রির ৯৪ বস্তা চাল মাধবপুরের একটি রাইসমিল থেকে জব্দ করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মল্লিকা দে সরকারি এ চাল জব্দ করেন।

জানা গেছে, হতদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা দরে চাল বিক্রির জন্য উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নে দুজন ডিলারে মধ্যে একজন হচ্ছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এরশাদ আলী। গত বুধবার তাঁর কয়েকটি গ্রামের হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু তিনি হতদরিদ্রদের কিছু চাল দিয়ে বাকি ৯৪ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেন।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মল্লিকা দে অভিযান চালিয়ে উপজেলার মীরনগর আদনান অটো রাইসমিল থেকে ওই ৯৪ বস্তা চাল জব্দ করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মল্লিকা দে জানান, ৫০ কেজির ৬৯টি বস্তা এবং ৩০ কেজির ২৫ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খাদ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সালাম জানান, এ ব্যাপারে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাভারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুরে ডিলার নাছির মিয়ার দোকানে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব। এ সময় প্রতি পরিবারে ৩০ কেজি করে প্রায় ৫০০ পরিবারে চাল বিতরণ করা হয়।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা