kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলা

বিচারিক আদালত পরিবর্তন যুক্তিতর্ক আগামী ৫ মার্চ

সিলেট অফিস   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিচারিক আদালত পরিবর্তন যুক্তিতর্ক আগামী ৫ মার্চ

সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে হত্যাচেষ্টা মামলার বিচারিক আদালত পরিবর্তন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার মামলাটি মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। আগামী ৫ মার্চ ওই আদালতে যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ ঘোষণার কথা রয়েছে।

মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মাহফুজুর রহমান বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে মামলার বাকি কার্যক্রম মহানগর দায়রা জজ আদালতে সম্পন্ন হবে।’

অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি বলেন, ‘এ আদালতের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার না থাকায় উচ্চ আদালতে মামলাটি বদলি করা হয়।’

গতকাল মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চাঞ্চল্যকর এই মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ ঘোষণার কথা ছিল।

আদালত সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে মামলার একমাত্র আসামি বখাটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে শুনানির শুরুতে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দণ্ডবিধির ৩৪৭ ধারার আওতায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চান। জবাবে আদালত বলেন, তিনি আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে পারেন না। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরো মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরের আদেশ দেন।

অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান জানান, গতকালই মামলার যাবতীয় নথি মহানগর জজ আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ মার্চ ওই আদালতে মামলার যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তিতর্ক শেষ হলে ওই দিনই রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩ অক্টোবর সিলেট এমসি (মুরারী চাঁদ) কলেজে স্নাতক (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষে বের হয়ে হামলার স্বীকার হন খাদিজা। তিনি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম তাঁকে চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে।

খাদিজাকে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে সাভারের সিআরপিতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বাড়ি ফেরেন।

হামলার ঘটনায় বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস। বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। গত বছরের ৫ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বদরুল। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। এরপর ৮ নভেম্বর খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট নগরের শাহপরান থানার এসআই হারুনুর রশীদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২৯ নভেম্বর আদালত বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। এরপর ৫, ১১ ও ১৫ ডিসেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেন ৩৩ জন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খাদিজার জবানবন্দি নেওয়ার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়।