kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

ভর্তিযুদ্ধে দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থী অভিভাবকরা

শরীফুল আলম সুমন   

২১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ভর্তিযুদ্ধে দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থী অভিভাবকরা

ডিসেম্বর মাস এলেই অভিভাবকদের উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সবারই চিন্তা থাকে তাঁর সন্তানকে একটি ভালো স্কুলে ভর্তি করাতে পারবেন তো! এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। ইতিমধ্যে রাজধানীর কয়েকটি নামিদামি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির লটারি সম্পন্ন হয়েছে। আর দুই-চার দিনের মধ্যে বাকি স্কুলগুলোতেও অনুষ্ঠিত হবে ভর্তি লটারি।

বিজ্ঞাপন

আগামী ২৪ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর সরকারি ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারি। যেহেতু বেশির ভাগ বেসরকারি স্কুলে লটারি শেষ হয়েছে, তাই যারা সুযোগ পায়নি তারা আছে মহাদুশ্চিন্তায়। এখন তাদের সবার চোখ রাজধানীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর দিকে।

জানা যায়, রাজধানীতে ৩২১টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যার প্রায় সবই শুরু প্রথম শ্রেণি থেকে। কিন্তু এর মধ্যে মানসম্পন্ন নামিদামি স্কুল রয়েছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি। ফলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আগ্রহ ওই নামিদামি স্কুলগুলো ঘিরে। বাকি স্কুলগুলোতে আসন খালি থাকলেও অভিভাবকদের আগ্রহ খুব একটা নেই। মূলত ভালো স্কুলের সংখ্যা না বাড়ায় কয়েকটি স্কুল ঘিরেই অভিভাবকদের চাহিদা বাড়ছে।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীতে প্রায় ৩০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে অবকাঠামো, খেলার মাঠ, শিক্ষকসহ অন্যান্য সুবিধা থাকার পরও সেখানে অভিভাবকদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। মূলত নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা অন্য কোনো স্কুলে ভর্তির সুযোগ না পেয়েই এসব স্কুলে ভর্তি হয়। এর মধ্যে আবার অনেক অভিভাবকই ভালো স্কুলে সুযোগ না পেলে ভর্তি করান কিন্ডারগার্টেন স্কুলে।

সূত্র জানায়, রাজধানীতে প্রতি জানুয়ারিতে বিভিন্ন স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এর মধ্যে নামিদামি স্কুলে ভর্তির সুযোগ পায় মাত্র ২৫ হাজার শিক্ষার্থী। অথচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভালো সুবিধা থাকার পরও সেখানে অভিভাবকদের আগ্রহ একেবারেই নেই।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলেই স্কুলগুলোর মান বাড়ানো সম্ভব। রাজধানীর যেসব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে সেখানে যদি অভিভাবকদের আগ্রহ থাকে তাহলে সরকারি প্রাথমিকে কেন থাকবে না? কেন অভিভাবকরা সরকারি প্রাথমিকে যান না সেই কারণ আগে খুঁজে বের করতে হবে। এরপর এর প্রতিকারে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামছুল হুদা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এত দিন আমরা শিক্ষা বিস্তারে জোর দিয়েছিলাম। সেই কাজটা শেষ হয়েছে। এখন আমরা মান বাড়াতে কাজ করছি। যদিও এখনো আমরা রাজধানীতে খুব বেশি একটা মানসম্পন্ন স্কুল তৈরি করতে পারিনি। তবে আমরা বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এতে ভালো স্কুলের সংখ্যা আগামীতে বাড়বে। আর সারা বিশ্বেই ভর্তিযুদ্ধ আছে। অভিভাবকরা সাধারণত তাঁদের পছন্দের স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করে নিশ্চিন্ত হতে চান। ’ জানা যায়, রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারি গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ২০, ২১ ও ২২ ডিসেম্বর এই লটারি কার্যক্রম চলবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লটারি কার্যক্রম প্রতিষ্ঠানের বেইলী রোডের প্রধান শাখায় অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার অনুষ্ঠিত হয় ধানমণ্ডি প্রভাতি ও দিবা এবং আজিমপুর দিবা শাখার লটারি। আজ মঙ্গলবার বসুন্ধরা প্রভাতি ও দিবা এবং আজিমপুর প্রভাতি শাখার লটারি হবে। বুধবার ইংরেজি মাধ্যম প্রভাতি ও মূল দিবা শাখার এবং বৃহস্পতিবার মূল প্রভাতি ও ইংরেজি মাধ্যমের দিবা শাখার লটারি হবে।

গতকাল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আজিমপুর দিবা শাখায় মেয়েকে ভর্তির উদ্দেশ্যে লটারি অনুষ্ঠানে আসেন আতাউর রহমান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বাসা লালবাগে। এই এলাকার মধ্যে ভালো স্কুল এটিই। আজ দিবা শাখার লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু মেয়েটা চান্স পায়নি। এখন প্রভাতি শাখার লটারি বাকি আছে। কিন্তু খুবই চিন্তায় আছি। এতে সুযোগ না পেলে মেয়েকে কোথায় ভর্তি করাব? মেয়ের ভর্তি নিয়ে আমরা এই পুরো মাসটাই দুশ্চিন্তার মধ্যে কাটাচ্ছি। ’

এদিকে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিলে ইতিমধ্যেই প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবম শ্রেণি বাদে অন্যান্য শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষাও শেষ হয়েছে। তবে যেহেতু জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ভিত্তিতে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে, তাই নবম শ্রেণির ফরম বিক্রি শুরু হবে আগামী ৩ জানুয়ারি। রাজধানীর মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজেও ভর্তি লটারি শেষ হয়েছে। আগামী ২৮ ডিসেম্বর বিভিন্ন ক্লাসের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ডেমরার শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজও অভিভাবকদের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছে। এই স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ ডিসেম্বর। আর ভর্তি পরীক্ষা হবে ৩০ ডিসেম্বর। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৭ ও ৩০ ডিসেম্বর। এ ছাড়া রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। অনেক স্কুলেই ভর্তি কার্যক্রমও প্রায় শেষের পথে।

ডেমরার শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্কুলের মান বাড়াতে অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বের গুণাবলি থাকাটা খুবই প্রয়োজনীয়। আর শিক্ষকদেরও দক্ষ হতে হবে। এ ছাড়া ভালো স্কুলের জন্য সুশৃঙ্খল থাকাটাও খুবই জরুরি। ’

রাজধানীর ১৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারি হবে ২৪ ডিসেম্বর। প্রথম শ্রেণি রয়েছে এই স্কুলগুলো হলো—গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল, আজিমপুর গার্লস স্কুল, ধানমণ্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল, মতিঝিল বালক উচ্চ বিদ্যালয়, শেরে বাংলানগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, শেরে বাংলানগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সংযুক্ত বিজ্ঞান হাই স্কুল, নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও গভর্নমেন্ট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাংলাবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

এ ছাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আগের মতো তিনটি গুচ্ছে ভাগ করা হয়। গত ১৭, ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর এই তিন গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষাও শেষ হয়েছে। এবার রাজধানীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১০ হাজার ৫৯৫টি আসনের বিপরীতে এবার ৭১ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। এবারও সরকারি স্কুলে ৪০ শতাংশ এলাকা কোটা বরাদ্দ থাকবে। এর বাইরে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ২ শতাংশ প্রতিবন্ধী, ১ শতাংশ লিল্লাহ বোর্ডেংয়ের শিশু এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৫০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।



সাতদিনের সেরা