kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

মালয়েশিয়ায় পাচার ৫৯ বাংলাদেশি উদ্ধার

বিডিনিউজ   

২১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ কুয়ালালামপুরের দুটি ভবনে অভিযান চালিয়ে ৫৯ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে, যারা চাকরির আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে পাচারের শিকার হয়েছিলেন।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামার খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দেসা পেতালিং এলাকার দুই ভবনে অভিযান চালিয়ে ওই বাংলাদেশিদের উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে দালাল সন্দেহে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মালয়েশীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, বিদেশ থেকে লোক আনা এবং বিভিন্ন কারখানা বা খামারে অবৈধভাবে তাদের কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির হাত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মালয়েশিয়ার স্টার অনলাইন পত্রিকা জানিয়েছে, পাচার করে আনা লোকজনকে সাময়িকভাবে ওই দুই আস্তানায় রাখা হতো। সেখান থেকে তাদের পাঠানো হতো এজেন্ট আর চাকরিদাতাদের কাছে। ওই দুই আস্তানা দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ব্যক্তি ও এক নারীকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।

মুস্তাফার আলী এক বিবৃতিতে বলেন, পাচারের শিকার বাংলাদেশিদের মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট ও নগদ টাকা রেখে দিয়েছিল চক্রের সদস্যরা। তাদের ওই বাড়ি থেকে বের হতে বা ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হতো না।

অল্প জায়গার মধ্যে গাদাগাদি করে আটকে রাখা হতো ওই বাংলাদেশিদের। কথামতো না চললে বা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের শারীরিকভাবে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হতো বলেও জানান অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলী।

একটি আস্তানার একটি কক্ষ থেকে কম্পিউটার, প্রিন্টার ও বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধারের কথা জানিয়ে অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই চক্রটি ভুয়া ইমিগ্রেশন স্টিকার ছাপার সঙ্গেও জড়িত বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

মুস্তাফার আলীর বরাত দিয়ে স্টার অনলাইন লিখেছে, চাকরির আশা দিয়ে ওই বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়। প্রথমে তাদের আকাশপথে ইন্দোনেশিয়ায় নেওয়া হয়। পরে নৌকায় সাগর পার করে ঢোকানো হয় মালয়েশিয়ায়। ইন্দোনেশিয়া থেকে মালয়েশিয়ায় ঢোকার জন্য ১৮ থেকে ২০ হাজার রিংগিত আদায় করা হয় তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা মালয়েশীয় কর্মকর্তাদের বলেছেন, ইন্দোনেশিয়াতেও তাদের একটি আস্তানায় রাখা হয়েছিল, যেখানে ওই চক্রের লোকজন তাদের পাহারা দিত।

এর আগে গত মার্চে মালয়েশিয়ার পেনাং থেকে ২৭ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়, যারা পাচারকারীদের প্রায় তিন লাখ টাকা করে দিয়েছিল চাকরির আশায়।



সাতদিনের সেরা