kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব

মাসুদুর হত্যা নিয়ে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও সচিবের দুই রকম বক্তব্য

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মারধরের পর চারতলার ছাদ থেকে ফেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসলামিয়া জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার ছাত্র হাফেজ মো. মাসুদুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষাসচিব মুফতি শামসুল হক। শুক্রবার গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তাতে বলা হয়, ‘অজ্ঞাতনামা ৪৫০-৫০০ লোক এ ঘটনা ঘটায়।’

এর আগে গত শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুর রহমানকে রাইফেল দিয়ে আঘাত, অমানুষিক নির্যাতন শেষে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মুবারকুল্লাহ দাবি করেছিলেন। পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায় উল্লেখ করে এর বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করা হয়।

এদিকে গত ১২ জানুয়ারির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলওয়ে স্টেশন গতকাল পরিদর্শন করেছেন রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক।

জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার শিক্ষাসচিব মুফতি শামসুল হকের দায়ের করা অভিযোগটি গত শুক্রবার রাত আড়াইটায় সদর থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, ‘কওমি মাদ্রাসা ছাত্র ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি খালেদ মো. মোশারফ জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে রনি ও আরেক দুষ্কৃতকারীর অতর্কিত হামলার শিকার হন। পরে এ ঘটনা নিয়ে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মাদ্রাসা নেতৃবৃন্দের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এরপর অজ্ঞাতনামা আসামিরা দা, লাঠি, লোহার রড, পিস্তল, ককটেল, হাতবোমা নিয়ে মাদ্রাসা মসজিদে হামলা করে। একপর্যায়ে মাদ্রাসায় ঢুকে ছাত্রদের ওপর হামলা করা হয়। এ সময় অজ্ঞাতনামা আসামিরা মাসুদুরকে মারধর করে ছাদ থেকে ফলে দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ হামলায় মাদ্রাসা ও মসজিদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে দাবি করা হয়েছে।’

ওলামাদের সংবাদ সম্মেলন : গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ওলামা সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে পূর্বপরিকল্পিত ছক অনুযায়ী ওই তাণ্ডব চালানো হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমে যারা বিশ্বাস করে না, তারাই এ হামলা চালিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মাদ্রাসা ছাত্র মাসুদুর রহমানের জন্য দোয়া করা হয়। পাশাপাশি এসব ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অচিরেই দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাদের নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইসলামী মহাসম্মেলন করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

রেলপথমন্ত্রীর আশ্বাস : ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশনে যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী, ইসলামবিরোধী, শান্তিবিরোধীরাই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ শান্তিকামী। এখানকার মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে।

এমপির ক্ষোভ : গত মঙ্গলবারের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। গতকাল সকালে ক্ষতিগ্রস্ত সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সেদিন পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। কী কারণে নেয়নি তা খতিয়ে দেখা দরকার। এর জন্য কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মন্তব্য