kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

দারিদ্র্য বিমোচনে নতুন প্রকল্প

নিখিল ভদ্র   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) ১৩১ কোটি ৩৯ লাখ ৮২ হাজার টাকার নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ‘দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থানের সহায়তা প্রকল্প’টি খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৫৯ উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উত্থাপিত বিআরডিবির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের সংগঠিতকরণ, মূলধন সৃষ্টি, বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা দেওয়াসহ ভবন নির্মাণে এই অর্থ ব্যয় হবে; যা দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে সমবায়, দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণোত্তর সহায়তা, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক সেবা ও পরামর্শ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত বিশেষ কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমের আওতায় ২৮ লাখ সমবায়ী নারী-পুরুষের নিজস্ব সঞ্চয় আমানত প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা। এ কার্যক্রমের অধীনে ১৮টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে প্রায় ৬৭ হাজার অনানুষ্ঠানিক দল বা পল্লী উন্নয়ন সমিতি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিআরডিবির ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ তহবিল ৯৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার। বার্ষিক বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৯৯০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দারিদ্র্য বিমোচনে কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে ৬০ কোটি ৯৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ের অপ্রধান শস্য উত্পাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণের কর্মসূচি (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে ৬৪ জেলার ২৫৬টি উপজেলায়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র কৃষক, প্রান্তিক চাষি ও বর্গা চাষিদের সমন্বয়ে দল গঠন, অপ্রধান শস্য উত্পাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া, অপ্রধান শস্যের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন এবং ৪ শতাংশ সুদে সুফলভোগীদের ঋণ গ্রহণে সহায়তা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ষাটের দশকের শেষভাগে ড. আখতার হামিদ খানের উদ্ভাবিত বিশ্বনন্দিত কুমিল্লা মডেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে পল্লী উন্নয়নের ভিত্তি রচিত হয়। এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘দ্বি-স্তর সমবায় সমিতি’। স্বাধীনতার পর জাতীয়ভাবে ‘সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি (আইআরডিপি)’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৮২ সালে সরকারের অধ্যাদেশ নম্বর ৫৩/১৯৮২ অনুসারে আইআরডিপিকে উন্নীত করে বডি করপোরেট হিসেবে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) গঠিত হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গ্রাম উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এর যাত্রা শুরু হয়। এতে দেশের সব উপজেলার পল্লী অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, বর্গা চাষি, বিত্তহীন জনগোষ্ঠী, দুস্থ ও অসহায় নারী, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষায়িত অঞ্চলের পশ্চাত্পদ জনগোষ্ঠীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে যাদের অনেকেই সফলতা পেয়েছে।

মন্তব্য