kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

স্বাচিপের সম্মেলন 'সেবায়' ব্যস্ত ১৩ হাজার চিকিৎসক

তৌফিক মারুফ   

১২ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বাচিপের সম্মেলন 'সেবায়' ব্যস্ত ১৩ হাজার চিকিৎসক

সরকার সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ-স্বাচিপের সম্মেলন ঘিরে দেশের সব হাসপাতাল ও মেডিক্যাল শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে চলছে ব্যাপক তোড়জোর। আগামীকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকাল ১০টায় এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। ১২ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে সারা দেশের ১৯ হাজারের বেশি চিকিৎসক অংশ নেবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা। যদিও স্বাচিপের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২০০৩ সালে স্বাচিপের সম্মেলন ও নির্বাচনকালে সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র এক হাজার ২০০ জন। তবে এবারের সম্মেলন ছাপিয়ে স্বাচিপের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের দিকেই বেশি নজর চিকিৎসকদের। এ সম্মেলন ঘিরে চিকিৎসাসেবাও অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে কয়েক দিন ধরে। দল বেঁধে কোনো কোনো চিকিৎসক নেতা বিভিন্ন সময় যাচ্ছেন একেকটি হাসপাতালে। ফলে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা লোকজন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

স্বাচিপের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ। এখন কেবল অপেক্ষার পালা। সুন্দরভাবেই সম্মেলন শেষ হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। ' স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, 'আমরা নির্বাচনের বাইরে কিছুই ভাবছি না। সারা দেশের স্বাচিপের চিকিৎসকরা ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই সম্মেলনে আসবেন। সম্মেলন নিয়ে সবার মধ্যেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে।

এদিকে নতুন কমিটিতে কারা আসছেন তা নিয়ে আলোচনা-গুঞ্জনের কমতি নেই। বর্তমানে স্বাচিপের সভাপতি পদে আছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক ও মহাসচিব পদে আছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান।

স্বাচিপের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন কমিটির সভাপতি ও মহাসচিব পদ পাওয়ার জন্য এক ডজনেরও বেশি নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আরো আগে থেকেই। যদিও সর্বশেষ খবর অনুসারে নতুন কমিটি গড়তে নির্বাচনের পরিবর্তে মনোনয়নে আসতে পারে সমাধান। এ ক্ষেত্রে প্রার্থী থেকে শুরু করে ভোটাররাও তাকিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে। সিনিয়র স্বাচিপ নেতাদের কারো কারো মতে, শেষ পর্যন্ত স্বাচিপের দুই গ্রুপের বিরোধ মেটাতে বর্তমান মহাসচিবকে বহাল রেখে সভাপতি পদে নিয়ে আসা হতে পারে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএমএর সাবেক সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে।

মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রথমদিকে চুপচাপ থাকলেও শেষ পর্যায়ে এসে দুই-তিন দিন ধরে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে শুরু করেছেন। আর আগে থেকেই অনেকটা প্যানেল আকারে জোরালো প্রচারণা ও সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন ইকবাল আর্সলান। এ ছাড়া সভাপতি পদে আরো পাঁচ-ছয়জনের নাম প্রথমদিকে আলোচনায় এলেও যতই সম্মেলনের দিন ঘনিয়ে আসে ততই তা কেবল ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও ইকবাল আর্সলানের মধ্যে সীমিত হয়ে আসে। অন্যদিকে মহাসচিব পদে বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ, ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, ডা. নজরুল ইসলামসহ আরো কয়েকজনের নাম শোনা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে ডা. এম এ আজিজ ও ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়াকে নিয়ে বেশি আলোচনা শোনা যায়। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে একধরনের আর মনোনয়নের ভিত্তিতে হলে আরেক ধরনের ফল আসতে পারে বলে স্বাচিপের সাধারণ ভোটারদের ধারণা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাচিপের একাধিক সিনিয়র নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বাচিপের ভেতরে গ্রুপিং চলছে অনেক আগে থেকেই। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সভাপতি রুহুল হক আর ইকবাল আর্সলান এক মেরুতে থাকলেও মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন তাঁদের ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করেন। অনেক চেষ্টা করেও এ দুই গ্রুপকে মেলানো যায়নি। তবে দুই গ্রুপই প্রধানমন্ত্রীর ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখার কথা বলছে।

প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূইয়া বলেন, 'আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি রেখেছি। তবে ভোটার তালিকা নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন ওঠায় ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় বেশির ভাগ সদস্যই সরাসরি ভোটাভুটিতে না গিয়ে বরং আলোচনার মাধ্যমে নেতৃত্ব মনোনীত করার কথা বলেছেন। '

 



সাতদিনের সেরা