kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

ফোরকান মল্লিকের রায় যেকোনো দিন

সাবেক এমপি সাখাওয়াতসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফোরকান মল্লিকের রায় যেকোনো দিন

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে। গতকাল রবিবার এ মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দিয়েছেন।

ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করে প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কামনা করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুছ সালাম খানের দাবি, কোনো অভিযোগই রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি।

এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় পার্টির নেতা ও যশোরের সাবেক এমপি সাখাওয়াত হোসেনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুট, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

গতকাল শেষ দিনের মতো ফোরকান মল্লিকের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তাঁর আইনজীবী। এর আগে ২৮ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত তিন কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল।

এই মামলায় গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। এর পর গত ২৬ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ফোরকানের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন চারজন।

ফোরকানের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরকরণ ও দেশান্তরকরণের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২ ডিসেম্বর ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। গত ১৭ নভেম্বর ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন। এতে আটটি অভিযোগ আনা হয়। ২০০৯ সালে পটুয়াখালীতে ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এক মামলায় গত বছরের ২৫ জুন পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ওই বছরের ৩ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল।

সাখাওয়াতসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ : তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান এবং এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খান গতকাল তদন্ত প্রতিবেদনের নানা বিষয় তুলে ধরেন সংবাদ সম্মেলনে। আব্দুর রাজ্জাক খান জানান, আগামী ১৮ জুন এই তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে। প্রসিকিউশন এই তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করবে।

এই ১২ জনের বিরুদ্ধে আগামী ২১ জুনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে গত ১৭ মে নির্দেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এই মামলায় সাবেক এমপি সাখাওয়াতসহ চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। কারাবন্দি অন্য তিনজন হলেন কেশবপুর উপজেলার নেহালপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেন, ভাল্লুকঘর গ্রামের আকরাম হোসেন ও চিংড়া গ্রামের ওজিয়ার মোড়ল। পলাতক আটজন হলেন কেশবপুরের মো. ইব্রাহিম হোসেন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, মো. আব্দুল আজিম সরদার, মো. আজিম সরদার, কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম, মো. লুৎফর মোড়ল, মো. আব্দুল খালেক মোড়ল ও মশিয়ার রহমান।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোরের কেশবপুরের চিংড়া, বগা, ভাণ্ডারখোলা, নেহালপুর, হিজলডাঙ্গা, গৌরীঘোনা, ভাল্লুকঘরসহ বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন এই ১২ জন। সাখাওয়াত কেশবপুরের রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। অন্যরা ছিলেন এ বাহিনীর সদস্য। তাঁদের অত্যাচার-নির্যাতনে এলাকার সংখ্যালঘুরা দেশ ছাড়তেও বাধ্য হয়।

সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করার জন্য গত বছরের ২৯ অক্টোবর আবেদন করা হলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ নভেম্বর আটক করে ৩০ নভেম্বর সাখাওয়াতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠনো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা