kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

সেমিনারে মিজানুর রহমান

পার্বত্য অঞ্চলে পুনর্বাসিত বাঙালিদের সরাতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পার্বত্য অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে বাঙালি জনসংখ্যা বাড়িয়ে সেখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে সংখ্যালঘু করার রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। তিনি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার যেসব বাঙালিকে পুনর্বাসন করেছে যত দ্রুত সম্ভব তাদের সেখান থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার 'জাতিসংঘ ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর) সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে অগ্রগতির বর্তমান অবস্থা : আদিবাসী প্রেক্ষিত' শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, 'কোনো আদিবাসী আজ পর্যন্ত জাতির পিতাকে অসম্মান করেনি। এ থেকে বোঝা যায় আদিবাসীদের আস্থা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ওপর আছে। কিন্তু এ আস্থা আর কত দিন থাকবে? সরকারপক্ষ বা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাব আদিবাসীদের এ আস্থাকে সম্মান দেখাতে। এতে পারস্পরিক সম্প্রীতি যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারও লাভবান হবে।' তিনি বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিষয়ে সরকার শুধু বিভিন্ন বিভাগ হস্তান্তরের কথা বলে মূল সমস্যাকে এড়িয়ে যায়। কিন্তু আমি মনে করি, সেখানকার ভূমি কমিশনকে কার্যকর করতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।' পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও আঞ্চলিক পরিষদের কাছে হস্তান্তরের সুপারিশ করেন তিনি।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, 'এ দেশের আদিবাসীরা এখনো তাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাই আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের জন্য জাতীয় সংসদে নির্দিষ্ট পরিমাণ আসন সংরক্ষন করতে হবে। শুধু আদিবাসীদের ভোটেই তারা নির্বাচিত হবেন, এমন ব্যবস্থা করতে হবে।' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর যেকোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তিনি সবাইকে মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ পাঠানোর অনুরোধ জানান। সম্প্রতি নানিয়ারচরে পাহাড়িদের গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শানাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তিরও দাবি জানান তিনি।

সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সালমা আক্তার জাহান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম, পলিসি অ্যান্ড ক্যাম্পেইনের পরিচালক আসগর আলী সবরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের বিনোতা ময় ধামাই।

খুশী কবির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের ওপর সহিংসতার কথা তুলে ধরে বলেন, ' আদিবাসী নারীর প্রতি সহিংসতার কোনো ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো দোষী ব্যক্তিকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি।'

 



সাতদিনের সেরা