kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

আইইউবির সমাবর্তনে শিক্ষামন্ত্রী

দুর্নীতিগ্রস্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, 'কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনিয়ম, দুর্নীতি ও বেআইনি ক্যাম্পাস স্থাপন করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। তাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত চাপ রেখেও সঠিক ধারায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তবে অর্ধ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা দান ও মান উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।'

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) ১৬তম সমাবর্তনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ও আইইউবির আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসব কথা বলেন। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাস্থ আইইউবি ক্যাম্পাসে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমরা সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। তাদের সবার জন্যই মানসম্মত শিক্ষা ও সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার পরিবেশ ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও শিক্ষাদানের পদ্ধতি উন্নত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও টিউশন ফিসহ সব প্রকার ব্যয় একটি সীমা পর্যন্ত নির্ধারিত রাখতে হবে। আইইউবি প্রথম জেনারেশনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম। আমি আশাবাদী এ বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে আরো সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে।'

সমাবর্তন বক্তা ড. মজিদ খান নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পন্ন আধুনিক মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আইইউবির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ড. এ মজিদ খান বলেন, শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি মানোন্নয়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আইইউবির ১৬তম সমাবর্তনে ৪৩৪ জন স্নাতকোত্তর ও ৭২৯ জন স্নাতকসহ মোট এক হাজার ১৬৩ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঁচজন চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক লাভ করেন। তাঁরা হলেন স্নাতক পর্যায়ে মাইশা আয়েশা এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তানজিনা আহমেদ চৌধুরী, রাজিবুল হাসান, আলী আশরাফ মোল্লা, আজমিনা পানজাওয়ানী ও নাবিলা রহমান। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা আয়েশা সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে এ সমাবর্তনের 'ভ্যালিডিকটোরিয়ান' হওয়ার সম্মান অর্জন করেছেন।

শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ৮৩ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়া আইইউবি অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা, সমাজ সেবা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সব্যসাচী শিক্ষার্থী শ্রেণিতে পুরস্কৃত করা হয়। মিডিয়া ও কমিউনিকেশন বিভাগের শিক্ষার্থী সাবানাজ রশীদ দিয়া, মারুফা মাহানাজ চেতনা, ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী এস কে হাশমী রাফসানজানি, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা আয়েশা এই পুরস্কার পান।

এ ছাড়াও বক্তব্য দেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম ওমর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রাশেদ চৌধুরী ও প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্ট, ইএসটিসিডিটির চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান, মনোনীত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মিলান পাগন প্রমুখ।