kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আদর্শের রাজনীতি ও আধুনিক রাষ্ট্রে উত্তরণ

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



আদর্শের রাজনীতি ও আধুনিক রাষ্ট্রে উত্তরণ

রাষ্ট্রের রাজনীতি এবং প্রশাসন আদর্শ ও নিয়মনীতিতে পরিচালিত না হলে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কখনোই প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো বর্তমান পর্যায়ে উন্নীত হতে বেশ সময় নিয়েছিল—এ কথা আমরা সবাই জানি। এই সময় নেওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত রাজনৈতিক দল ও সরকারকে পালন করতে হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। সুশাসন কথাটি অনেক বিস্তৃত। এককথায় নিয়মকানুন, আইন, বিচার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যত্যয় না ঘটিয়ে জনগণ, প্রশাসন, রাজনৈতিক শক্তিগুলো তথা রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত সবাইকে অভ্যস্ত করার মাধ্যমে আধুনিকতার মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা। এটি সব আধুনিক রাষ্ট্রকেই নিজ নিজ বাস্তবতায় অর্জন করতে হয়েছে। সরকার, রাজনৈতিক দল এবং জনগণ—এ ক্ষেত্রে যার যার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। ফলে আধুনিকতার মানদণ্ডে রাষ্ট্র উন্নীত হতে পেরেছে।

আমরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশটি অর্জন করেছি তা আধুনিক রাষ্ট্র দর্শনে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক তথা উন্নত জীবনব্যবস্থা প্রদানের লক্ষ্যেই করেছি। এ ক্ষেত্রে নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে আমাদের এ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অতিক্রম করতে হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক জীবনমানের পরিবর্তন ছাড়া মানুষের মধ্যে আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়। কেননা আধুনিক রাষ্ট্র বলতে শুধু অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ দূরীভূত করার মাধ্যমে সমৃদ্ধির দিকে ধাবিত হওয়াই নয়, একই সঙ্গে শিক্ষা-সংস্কৃতি ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে গড়ে তোলাকেও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হয়। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে আমরা গত কয়েক দশকে আর্থ-সামাজিকভাবে পরিবর্তনের রোডম্যাপে চলতে শুরু করেছি, গত এক দশকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করতেও সক্ষম হয়েছি। অল্প কয়েক বছরের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জিত হলে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়া এখন আর আমাদের জন্য একেবারেই অকল্পনীয় বিষয় নয়। তবে শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদের যুগপৎ অগ্রগতি ছাড়া এসব লক্ষ্য অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আমাদের আংশিকভাবে চললেও পরিপূর্ণ আধুনিক রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় আমাদের উত্তরণ প্রশ্নসাপেক্ষ হয়ে থাকবে। সে কারণে এই মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল অর্থনৈতিক উন্নতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আধুনিক মতাদর্শের চর্চা সুসংহত করা।

আমাদের গত এক দশকে অভূতপূর্ব অর্জনের বিষয়টি দেশে-বিদেশে স্বীকৃতি লাভ করেছে। কিন্তু আমাদের সমাজে দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম এতটাই বিস্তৃত হয়ে উঠেছে যে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক সুফল সাধারণ মানুষ কতটা ভোগ করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় ও সন্দেহ তৈরি হতে থাকে। কেননা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অরাজনৈতিক, দুর্নীতিপরায়ণ, নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ এতটাই ঘটেছে যে মূল রাজনৈতিক দলগুলোতে আদর্শের রাজনীতি এখন অনেকটাই যেন পরাহত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল হলে তো কথাই নেই। এতে সমাজের অপেক্ষাকৃত অর্থবিত্তবান ব্যক্তিরা দলের পদ-পদবি বাগিয়ে নিতে শুরু করেন। তাঁদের হাতে দলটি জিম্মি হয়ে থাকে। দলকে ব্যবহার করে তাঁরা আরো বেশি বিত্তবান ও ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দলটির দীর্ঘদিনের আদর্শ ও ঐতিহ্য তৃণমূল থেকে ওপর পর্যন্ত প্রায় সর্বস্তরে দ্রুতই এসব বিত্তবান, ক্ষমতাবান ব্যক্তির কাছে চলে যায়। দলের শিক্ষাদীক্ষা, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চর্চার কোনো গুরুত্ব কেউ অনুভব করেননি। দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে সর্বত্র প্রভাবের যে বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও আদর্শের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠী গত এক দশকে দলের ভেতরের আদর্শবান, নিষ্ঠাবান, ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের হয় কোণঠাসা করে ফেলেছেন, নতুবা দল থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছেন। দলের নাম ভাঙিয়ে দেশে অসংখ্য সংগঠন একইভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতির চেয়ে ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থ ও ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, দেশের যাবতীয় নির্মাণকাজ, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে দলের নামধারী নেতাকর্মীরা যুক্ত হয়েছেন, নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন। তৈরি হয়েছেন সর্বত্রই একেকজন রাজা, সম্রাট, বাদশা, রাজপুত্র ইত্যাদি নামধারী ব্যক্তি—যাঁরা স্থানীয়ভাবে প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারে লিপ্ত হয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকেরই একেকটি ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী তৈরি হয়েছে। তাঁরা রাজনীতিকে ধ্বংস করা ছাড়া সৃষ্টি করার ন্যূনতম কোনো সাধারণ জ্ঞান রাখেন না। তাঁদের বেশির ভাগেরই রাজনৈতিক শিক্ষা নেই, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও খুবই সীমিত। তাঁদের দ্বারা আওয়ামী লীগের মতো রাজনৈতিক দলের আদর্শ বাস্তবায়ন দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়।

গত ১০ বছরে যাঁরা আওয়ামী লীগের নানা ধরনের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তাঁদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার মিশন-ভিশন প্রতিষ্ঠায় সামান্যতম রাজনৈতিক চিন্তা করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে হয় না। সামগ্রিকভাবে আওয়ামী লীগ এ ধরনের একটি দুর্নীতিপরায়ণ, দুর্বৃত্তায়িত, নীতি-আদর্শহীন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। বিষয়টি দেশের সচেতন রাজনৈতিক মহল দীর্ঘদিন থেকেই লক্ষ করে আসছে। এই অপশক্তির হাত থেকে আওয়ামী লীগকে মুক্ত করার দাবিও তাঁদের দিক থেকে করা হচ্ছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার পক্ষে এসব অপশক্তির হাত থেকে দলকে এবং দেশকে মুক্ত করার সাহস দেখানো সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ তাঁরা কতটা উল্টো পথে যেতে পারেন তা ১৯৭৫ সালের পর সবাই দেখেছেন। আসার কথা হলো, শেখ হাসিনা দেশে শুদ্ধি অভিযানের নামে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তদের অপসারণের একটি অভিযান সেপ্টেম্বর মাসের ২০ তারিখ থেকে শুরু করেছেন। তিনি শুরুই করেছেন নিজ দলের দুর্নীতিপরায়ণ ও দুর্বৃত্তায়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ধারণা করা হচ্ছে, শুধু নিজ দলেই নয়, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের সর্বত্র বিরাজমান দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের বিরুদ্ধে এই অভিযান সম্প্রসারিত হবে।

অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে অনেকেই গাঢাকা দিয়েছেন বলে প্রচারিত হচ্ছে। বিশেষত কাউন্সিলরদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত অফিসে যাচ্ছেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাও নোটিশ জারি হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। গ্রামগঞ্জে কেউ কেউ এখনই ভোল পাল্টে ভালো মানুষ সাজার চেষ্টা করছেন। এর পরও অনেক ক্ষেত্রেই দুর্নীতিবাজদের দীর্ঘদিনের অভ্যাস যেন ছাড়তে দেখা যাচ্ছে না। অফিস-আদালতে ঘুষ, দুর্নীতির অভিযোগ এখনো শোনা যায়। তবে আড়ালে-আবডালে সেটি হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক এবং পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। যাঁরা কিছুদিন আগেও বেপরোয়াভাবে চলতেন, তাঁদের মধ্যে এই আতঙ্কটি বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। আবার যাঁরা আওয়ামী লীগের আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করছেন তাঁরা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। একটি বিষয় লক্ষ করা যাচ্ছে, কিছুদিন পর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সম্মেলন প্রস্তুতি চলছে। তাতে আগের মতো পদ-পদবি গোপনে বা প্রকাশ্যে নিলামে ওঠার কোনো গুজব এখন আর শোনা যায় না। মনে হচ্ছে ওই সব পদ-পদবি পেতে আগের মতো অনুপ্রবেশকারী, বিত্তবান, ক্ষমতাবানরা দৌড়ঝাঁপ করছেন না। এটি একটি শুভ লক্ষণ। সবাই দাবি করছেন দলীয় সভানেত্রী যাঁকে ভালো মনে করবেন তাঁকে দিয়েই সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করবেন—এর বিপক্ষে কারো কোনো বক্তব্য নেই। খুবই ভালো কথা। তবে যাঁরা অতীতে দলের এসব পদ-পদবি গ্রহণ করে দলকে নির্জীব করে রেখেছিলেন কিংবা দলকে মানুষের কাছে সমালোচিত করেছিলেন, তাঁদের জবাবদিহি করার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন থেকে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের পদ-পদবি যাঁরা লাভ করবেন তাঁদের কাছ থেকে আর যা-ই হোক মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ জনগণের কাছে কিভাবে পৌঁছানো যায়, মানুষকে কিভাবে দলের প্রতি আকৃষ্ট করা যায়, সেটি সাংগঠনিক দায়-দায়িত্বের অপরিহার্য বিষয় হিসেবে যদি ক্রিয়াশীল হয়—তাহলেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি সাধারণ মানুষের কাছে সমর্থনপুষ্ট হতে পারে। অন্যথায় মানুষ নিকট অতীতে সংগঠনের নিষ্ক্রিয়তা, নেতাকর্মীদের ব্যক্তিস্বার্থে দলকে ব্যবহার করার প্রবণতা দেখে যে ধারণাটি পোষণ করেছিল, তা থেকে বের করে আনা মোটেও সহজ কাজ হবে না।

আওয়ামী লীগের জন্য এখন মাঠের রাজনীতি খুব সহজ হবে না। কেননা মাঠ এরই মধ্যে ঘুঘুরা ধান খেয়ে শস্যশূন্য করে ফেলেছে। সেখানে এখন রাজনীতির বীজ নতুন করে বুনতে হবে। মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই কাজটি করতে পারেন একমাত্র রাজনীতিসচেতন, আদর্শবান, জনগণের বন্ধু বলে পরিচিত নেতাকর্মীরা। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ গোড়া থেকে জনগণের মধ্যে আদর্শের যে স্বাক্ষর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত রেখেছিল, সেটি নানা সংকট অতিক্রম করার পরও ৮০-৯০ দশকে আওয়ামী লীগের দিকে ফিরে এসেছিল। কিন্তু ২০০৯ সালের পর থেকে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলকে সেভাবে জনগণের কাছে মেলে ধরতে পারেনি। তার পরও বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই মনে করে শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে এখনো আদর্শের বাতিঘর হিসেবে বিরাজ করছেন। তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক মুক্তি ইত্যাদি কোনোভাবেই নেতৃত্ব দেওয়ার মতো দ্বিতীয় নেতা নেই।

তবে আওয়ামী লীগে এখনো বেশ কিছু পোড় খাওয়া মেধাবী ও যোগ্য নেতা রয়েছেন, যাঁরা এই অভিযানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ধারায় ঘুরে দাঁড়াতে এখনই হাল ধরতে অপেক্ষা করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, শেখ হাসিনা তাঁদের হাতেই দলের আগামী দিনের পতাকা তুলে দেবেন। এই পতাকাবাহী নেতৃত্ব যদি সফল হয় তাহলে বাংলাদেশ একটি আধুনিক রাষ্ট্রের রাজনীতিকে বহন করার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে। কাজটি মোটেও সহজ নয়, তবে ধারাটি সূচিত হলে অনেকেই আদর্শের রাজনীতির চর্চায় নিজেদের শুদ্ধ করার সুযোগ পাবেন। প্রয়োজনটি হলো তাঁদের সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রাজনীতির উপাদানে পরিণত করা। এখন যেসব তরুণ ছেলে-মেয়ে ছাত্রলীগে আছেন, তাঁদের মধ্যে আদর্শের শিক্ষাটিকে গুরুত্ব দিতে হবে—হল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে দখল, মাস্তানি, র‌্যাগিং করা নয় বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে আগামী দিনের রাজনীতিতে আকৃষ্ট হওয়া ও অংশগ্রহণ করার পথ সুগম করে দেওয়াই হবে মূল কাজ। যুবলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনেও মেধাবী, যোগ্য, সৃজনশীল, দক্ষ, অভিজ্ঞ, তরুণদের রাজনীতিতে সম্পদে পরিণত করাই উচিত হবে সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া নেতাকর্মীদের প্রধান কাজ। সেখানে সততা, আদর্শ, শিক্ষাদীক্ষা, আজকের বিশ্ব বাস্তবতা ইত্যাদিকে ধারণ করে রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। মূল দল আওয়ামী লীগেও যেন ঘটে সৎ, মেধাবী, ত্যাগী, যোগ্য নেতাদের সমাবেশ। তাহলেই বাংলাদেশ উন্নয়নের যাত্রায় রাজনৈতিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার সংগঠক খুঁজে পাবে। নতুবা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা, আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র গড়ে তোলা মোটেও সহজ কাজ হবে না। তবে এ মুহূর্তে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে, সেটি অবশ্যই দুর্নীতিবাজ, দুর্বৃত্ত, অসৎ, অযোগ্যদের রাজনীতি থেকে হটিয়ে যোগ্য, মেধাবীদের স্থান করে দেওয়ার একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও অর্জন মোটেও অসম্ভব ব্যাপার হবে না। বাংলাদেশ এখন এই অভিঘাতের মধ্য দিয়ে নতুন পর্বে উত্তরণ ঘটানোর প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। এই প্রক্রিয়া কোনো অবস্থায়ই যেন থেমে না যায় কিংবা ব্যাহত না হয়—সেদিকে লক্ষ রাখতেই হবে।

লেখক : অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা