kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

শাহ আবদুল করিম

বাউলগানের কিংবদন্তি গীতিকার ও শিল্পী শাহ আবদুল করিমের জন্ম সুনামগঞ্জে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯১৬ সালে। তাঁর বাবার নাম ইব্রাহীম আলী ও মা নাইওরজান। দারিদ্র্য ও জীবনসংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া করিমের সংগীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। গানের জগতে তাঁর প্রেরণা তাঁর স্ত্রী, যাঁকে তিনি আদর করে ‘সরলা’ নামে ডাকতেন। তাঁর গান ভাটি অঞ্চলে জনপ্রিয় হলেও শহরের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায় তাঁর মৃত্যুর কয়েক বছর আগে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তাঁর গান কথা বলে অন্যায়-অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। যদিও দারিদ্র্য তাঁকে বাধ্য করে কৃষিকাজে শ্রম ব্যয় করতে, কিন্তু কোনো কিছু তাঁকে গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তিনি বাউলগানের দীক্ষা লাভ করেছেন সাধক রশীদ উদ্দীন, শাহ ইব্রাহীম মাস্তান বকশের কাছ থেকে। তিনি শরিয়তি, মারফতি, দেহতত্ত্ব, গণসংগীত, বাউলগানসহ অন্যান্য শাখায়ও চর্চা করেছেন। তাঁর গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। তাঁর সাতটি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। ‘শাহ আবদুল করিম : জীবন ও গান’, ‘শাহ আবদুল করিম সংবর্ধন-গ্রন্থ’ ইত্যাদি নামে তাঁর ওপর একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। সুবচন নাট্য সংসদ তাঁকে নিয়ে ‘মহাজনের নাও’ নাটকের ৮৮টি প্রদর্শনী করেছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা, রাগীব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার, সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস আজীবন সম্মাননা, একুশে পদকসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সালে তিনি মারা যান।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]

মন্তব্য