* মোদি আসায় ভালো হয়েছে। ছিটমহলবাসী মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশের নাগরিক হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের মানুষ তিস্তার পানি পায় না বলে ফসল ভালো হয় না। এবার তিস্তা চুক্তি হবে বলেও মোদি কথা দিয়েছেন। রিফাতুল ইসলাম রিফাত পঞ্চম শ্রেণি, নদের চাঁদ, বোয়ালমারী, ফরিদপুর। * ভারত আমাদের প্রতিবেশী। মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলোতে ভারতের সর্বাত্মক সহযোগিতা আমরা ভুলি কেমন করে। কিন্তু যে বিষাক্ত ছোবলে ভারতবর্ষ খণ্ডিত হয়েছিল তার পরম্পরায় আমরা বড় হয়েছি। ফলে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের সে মূল এখনো আমরা উপড়ে ফেলতে পারিনি। এখানেও যেমন শেরওয়ানি আচকান আমাদের রক্ত ও নিঃশ্বাসে উন্মাদনা ছড়িয়েছে ওপারেও তেমনি ধুতি ও গেরুয়ায় তারা উন্মত্ত হয়েছে। এই পরম্পরার মিশেল অনুভূতিকে সামনে রেখেও যখন একজন গেরুয়া ও চন্দনতিলকের অখণ্ড মালিক দামোদর সাহা মোদি প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমাদের এই ভূখণ্ডে শান্তি ও বন্ধুত্বের বাণী নিয়ে আসেন, তখন আমরা বাঙালিরা তাতে উৎসাহীই হই বেশি। কারণ মহান নেতার যোগ্য উত্তরসূরি আমাদের মাথার ওপরে আছেন যে! আমরা প্রবল আস্থা নিয়ে দুই দেশের মানুষের মেলবন্ধনের আকাঙ্ক্ষায় চাতকের মতো চেয়ে আছি। দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে। নিজের অস্তিত্ব ও স্বকীয়তা অটুট রাখার স্বার্থে আমাদের এভাবেই এগোতে হবে। কানেক্টিভিটির নতুন সূচনায় আমাদের সব দিক দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করে বৃহৎ প্রতিবেশীর আস্থা অর্জন করতে হবে এবং তা হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটি ঠিক রেখে। এ ক্ষেত্রে মোদি ও হাসিনার পারস্পরিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগটা আরো সুদৃঢ় করতে হবে এবং সফর ও আলোচনার মাত্রা বাড়াতে হবে। মোদি তাঁর দেশে হিন্দুত্ববাদ করুন আর যা-ই করুন, আমরা আমাদের বর্তমান নেতৃত্বের সুফল যেন ঘরে তুলতে পারি তার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। জালাল উদ্দিন আহমেদ তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। * সফরটি ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির দীর্ঘ ৪১ বছর পর স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হলো। নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে যেসব চুক্তি প্রটোকল স্বাক্ষর হলো তাতে বাংলাদেশ আগামীতে লাভবান হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। জাহাঙ্গীর কবির পলাশ শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ। * ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি, অভ্যন্তরীণ নৌ প্রটোকল, উপকূলীয় নৌ চলাচল চুক্তি, পণ্যের মান স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন সংক্রান্ত চুক্তি, সাংস্কৃতিক বিনিময় সহযোগিতা চুক্তি, উভয় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা চুক্তি, মানবপাচার প্রতিরোধ, জাল নোট পাচার প্রতিরোধ ও সমুদ্রভিত্তিক ব্লু-ইকোনমির সহযোগিতাসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, ২০০ কোটি ডলারের ঋণবিষয়ক সমঝোতা, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে সামুুদ্রিক অর্থনীতির সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারে সমঝোতা, ইন্টারনেটের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ লিজ বিষয়ে বিএসএনএল ও বিএসসিসিএলের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি, এলআইসি কার্যক্রম শুরু নিয়ে সম্মতিপত্র, ভেড়ামারা ও মংলায় ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সমঝোতা চুক্তিসহ উভয় দেশের দুই রুটে বাস চলাচলের বিষয়ে চুক্তি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার নতুর দ্বার যে উন্মোচন করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এককথায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক সুসংহত করার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। তবে বহুল প্রতীক্ষিত স্থল সীমান্ত চুক্তির মতো যদি আলোচিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিটি বাস্তবায়ন হতো, তাহলে প্রাপ্তির খাতাটা পরিপূর্ণ হতো। তার পরও মোদির আশার আলোয় আমাদের বুকেও প্রত্যাশার চর জেগেছে। দুই দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নয়নের শীর্ষ স্পর্শ করে একদিন তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। নাজমুল করিম ফারুক তিতাস, কুমিল্লা। * মোদির সফরে আশার সঞ্চার হয়েছে, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত বিষয়গুলোর পুনরুজ্জীবন হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। পুরনো স্মৃতিরও নবজাগৃতি ঘটেছে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের পথ দেখিয়েছে। স্বাধীনতার সুপ্ত বিষয়গুলো উন্মোচিত হয়েছে। কামরুজ্জামান কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর। * পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি বাংলাদেশ সফরে আসায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভিত আরো একটু মজবুত হলো। ভারত-বাংলাদেশের জনগণ আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হলো- যেটা অতীতে হয়েছিল ১৯৭১ সালে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার কথা বাঙালি জাতি চিরদিন মনে রাখবে। নরেন্দ্র মোদি অল্প বয়সে সংসার চালানোর জন্য চা বিক্রি করেছেন, সেখান থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি বোঝেন জনগণের সুখ-দুঃখের কাহিনী। রাজ্যসভায় ও বিধানসভায় সবাইকে রাজি করিয়ে তিনি স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন করিয়ে বাংলাদেশ সফরে এলেন। যে ২২টি চুক্তি ও প্রটোকল সই হলো সেগুলো যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে বাংলাদেশের ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন সম্ভব। আবার স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অবশ্যই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিমন্ত্রণ জানাবে বাংলাদেশ- এটাই প্রত্যাশা করছি। সবশেষে আমরা শ্রমিকসমাজ সরকারের কাছ থেকে রেশন কার্ড দাবি করছি। শ্রমিকদের অবহেলিত রেখে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। কুমারেশ চন্দ্র বাসশ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল। * মোদির সফর নিয়ে আমরা বেশি আশান্বিত নই। যে চুক্তিগুলো হয়েছে, এতে ভারতেরই বেশি লাভ হবে। বাংলাদেশ থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্যই ভারত বিভিন্ন বিষয়ে ছাড় দিয়েছে। যেমন- ভ্রমণ ট্যাক্স বাংলাদেশ থেকে ভারত অনেক বেশি নেয়। এটা কমানো হলো না। সফিকুল খিলগাঁও, ঢাকা। * মোদি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়নে, সন্ত্রাস দমনে, ভাতৃত্বের বন্ধনে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে ঢাকায় এসেছিলেন বলে আমার মনে হয়েছে। মানুষ বাঁচতে চায়। এগিয়ে যেতে চায়। সন্ত্রাস, অত্যাচার, অবিচার, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক জীবন যাপন করতে চায়। তাঁর এই সফরে মানুষের সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তবে আমাদের বাঁচার অধিকার, তিস্তার পানি চুক্তি না হওয়ায় আমরা মনের মাধুরী দিয়ে তাঁকে যে মালাটি পরাতে চেয়েছিলাম, তা পরাতে পারলাম না। এর পরও প্রতীক্ষায় থাকলাম। এইচ কে নাথ পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম। * নানা হিসাব-নিকাশ করা হলেও ভারত এ সফর থেকে তার ফায়দা ঠিকই তুলে নিয়েছে। সে তুলনায় বাংলাদেশের অর্জন তেমন বেশি নয়। একসময় বলা হচ্ছিল কানেক্টিভিটির বদলে তিস্তা চুক্তি হবে; কিন্তু হচ্ছে-হচ্ছে করেও শেষ পর্যন্ত তিস্তা চুক্তি হলো না। ৫৪টি নদীর পানিবণ্টন সমস্যা, সীমান্তে মানুষ হত্যা, বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল ভারতে প্রদর্শনসহ অনেক বিষয়ই সেভাবে আসেনি। রয়ে গেছে ধোঁয়াশা। তার পরও আমরা আশা করব, মোদির এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনাগুলো দ্রুত আদায় হবে। কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম মরিয়মনগর, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম। * বাংলার মানুষের বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি এ সফরেও হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতই লাভবান হলো বেশি। তা ছাড়া প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের জন্য উপকারী হবে। আমরা আশা করি, অন্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করে উন্নয়নের গতি বেগবান করা হবে। তরিকুল ইসলাম চরনিলক্ষ্মী, মতলব, চাঁদপুর। * ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে আমরা শুভ লক্ষণ বলেই মনে করি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি এ সফরে দুই দেশের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভারত ও বাংলাদেশ মিলে কাজ করলে আমাদের দেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে। দুই দেশের জনগণ সব সময়ই বন্ধুত্ব চেয়েছে। বর্তমানে দিল্লি ও ঢাকার নেতৃত্বে তথা মোদি ও হাসিনার আন্তরিকতায় সে বন্ধুত্বের প্রকাশ ঘটল। এটাই যুগের চাহিদা, জনগণের আকাঙ্ক্ষা। দুই নেতা যে বন্ধুত্বের আবহ তৈরি করলেন, নিঃসন্দেহে তা এ অঞ্চলের দারিদ্র্য, সাম্প্রদায়িকতা ও পরাশক্তির রক্তচক্ষুকে দমন করতে সহায়ক হবে। তবে তিস্তা নদীর চুক্তি না হওয়ায় আমরা হতাশ হয়েছি। পানির সঠিক প্রাপ্যতা না থাকায় বাংলাদেশ অনেক কষ্টের মধ্যে আছে। যা বাস্তবে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪টি নদীর সমস্যা দ্রুত সমাধান করবে, আমরা সাধারণ নাগরিক হিসেবে এ আশা করি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অত্যন্ত বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। এই পরিচয়ের সুফল অচিরেই দেখতে পাব বলে আমরা আশা করি। অভিন্ন নদীর পানি, সীমান্ত, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ব্যবসা-বাণিজ্য, সমুদ্র ব্যবহার, নিরাপত্তাজনিত ক্ষেত্রগুলোতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। যদি উভয় পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে, সব বিষয়ই সমাধানযোগ্য। এখন শত্রু শত্রু খেলার উত্তেজনার রাজনীতি পেছনে ফেলে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন সম্পর্কের ভিত্তিতে আন্তঃসম্পর্ক গতিশীল করা প্রয়োজন। আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে। সম্মান, সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে। দীর্ঘ ৬৬ বছরের সমস্যা স্থল সীমান্ত চুক্তি করে ভারত সরকার বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতির নজির সৃষ্টি করেছে। ছিটমহল সমস্যার সমাধান হওয়ায় আমাদের সীমানাও বর্ধিত হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ছিটমহলবাসী বাংলাদেশি পতাকা উড়িয়ে স্বদেশি চিন্তা ও চেতনায় কাজ করবে বলে আশা করি। মোহাম্মদ আবদুল হান্নান মানপুর, লাখাই, হবিগঞ্জ। * ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে এসেছিলেন এবং যেসব চুক্তি হয়েছে তা খুব সুন্দর হয়েছে। দেশের জন্য ভালো হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি যদি উভয় দেশ সুন্দরভাবে করতে পারে, তাহলে দুই দেশই এগিয়ে যাবে। আশা করি ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরালো হবে। শিবুপ্রসাদ মজুমদার লেক সার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা। * নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার আগে একটা ধারণা ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো নাও হতে পারে। কিন্তু ধারণা উল্টো হলো। গত ৭ মে স্থল সীমান্ত চুক্তি ভারতের লোকসভায় পাস হলো। এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ১১১টি ছিটমহল, যার আয়তন ১৭১৬০.৬৩ একর বাংলাদেশকে দেবে ভারত; অন্যদিকে ভারতের মধ্যে থাকা ৫১টি ছিটমহল ৭১১০.০২ একর বাংলাদেশ দেবে ভারতকে। এই সীমান্ত চুক্তির ফলে দুই দেশের ছিটমহলের বাসিন্দা বা নাগরিক সুবিধা পাবে। অবশ্যই এটা বাংলাদেশের বড় কূটনৈতিক সাফল্য। ৪১ বছর ধরে এই ছিটমহলবাসী নিদারুণ কষ্টে ছিল। মোদি সরকার এদের শান্তির পথ খুলে দিল। এ চুক্তি অনুমোদনের পর তিনি শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। এ সফরের ফলে স্থল সীমান্ত চুক্তির কার্যপদ্ধতিসংক্রান্ত নথিপত্র, দুই দেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি, সড়কপথে যোগাযোগ চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। ভারতের দুটি শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন এবং চার হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মংলা ও ভেড়ামারায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের চুক্তি হয়েছে। যেহেতু কানেক্টিভিটি গুরুত্ব পেয়েছে, তাই বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ২০০ কোটি ডলার ঋণসহায়তার চুক্তিও হয়েছে। এত কিছুর পরও আমাদের সবার মধ্যে যেন পানি নিয়ে চরম ভাবনা। মোদি আশ্বাস দিয়েছেন অচিরেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সমর্থন নিয়ে শুধু তিস্তা নয়, অন্যান্য নদীর পানিবণ্টনেও যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। সর্বশেষ তিনি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশকে উন্নয়নে একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে এগিয়ে যেতে চান। মিজানুর রহমান বানাসুয়া, কুমিল্লা। * মোদির ঢাকা সফর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা করেছে। সম্পাদিত চুক্তি ও প্রটোকলগুলো বাস্তবায়ন হলে দুই দেশই লাভবান হবে। তিস্তা চুক্তি সম্পাদন ও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিলে বাংলাদেশের জনগণ আরো খুশি হতো। মো. ফখরুল ইসলাম টিপু সেনবাগ, নোয়াখালী। * বাংলাদেশের সহযোগিতা ছাড়া তথা ভূ-ট্রানজিট ছাড়া ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরামসহ সাতটি রাজ্যের সঠিক ও দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের মাথাব্যথা। নতুবা মোদি বা প্রণব কেউই বাংলাদেশে এসে সময় নষ্ট করতেন না। বাংলাদেশ ভারতকে সব ট্রানজিট সুবিধা দেবে বলে চুক্তি নামক চুক্তি করেছে, কিন্তু ভারত বিনিময়ে এক ফোঁটা পনি দেবে এমন চুক্তি করেনি। শুধু বিশ্বাসের কথা বলে বা ভবিষ্যতের বাণী শুনিয়ে বাংলাদেশের সরল আতিথেয়তা নিয়ে চলে গেলেন। ধন্যবাদ মোদি, আপনি সত্যিই ভারতের যোগ্য প্রধানমন্ত্রী। তিস্তা ও গঙ্গা ছাড়াও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫২টি নদী আছে। আমরা প্রতিটি নদীর পানির হিস্যা পাব বলছেন, কিন্তু হবে হবে, দেব দেব, আর কত দিন? বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৪ বছর, কিন্তু ভারত তা কিভাবে দেখে? নেপালের জনগণের ভারত যেতে ভিসা লাগে না, কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের ক্ষেত্রে নানা বাহানা। তারা সহজে ভারতের ভিসা পায় না। ছিটমহল চুক্তি একটি মানবিক দিক, তাও হলো ৪০ বছর পর। নজরুল ইসলাম খান নতুন জুরাইন, ঢাকা। * ছোট্ট একটি দেশ বাংলাদেশ। ভারত পাশে থাকলে আশা করছি বাংলাদেশ উন্নত হবে। আমরা যেকোনো মূল্যে দেশের অগ্রগতি চাই। নাজিরুল হক বেলাব, নরসিংদী। * মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা দানকারী আমাদের পাশের দেশ ভারত বাংলাদেশের বন্ধু- এটা আবারও প্রমাণিত হলো। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য। তিন দিক ভারতবেষ্টিত হয়ে বাংলাদেশের অবস্থান। তাই ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উভয়ের স্বার্থ অভিন্ন। ভারত যেমন বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অনেক সুবিধা পেতে পারে, ঠিক তেমনি ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশও অনেক সুবিধা পেতে পারে। কারণ বর্তমান যুগ মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগ। যে যার দেশকে যত বেশি উন্মুক্ত করে দিতে পারে, অর্থনৈতিকভাবে সে দেশ তত দ্রুত সমৃদ্ধি লাভ করতে সক্ষম হয়। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা স্থল সীমান্ত বিল ভারতের লোকসভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। এই ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্র ধরে দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই সফর নিয়ে দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। মোদির এ সফরের সময় কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা কিংবা ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি সরাসরি বাস চলাচল উদ্বোধন দুই দেশের মানুষের জন্যই উৎসাহব্যঞ্জক। মোদির সফর নিয়ে আমাদের চিরাচরিত বৈরী রাজনীতিতে যে বিরল মতৈক্য লক্ষ করা গেছে, তা উপেক্ষীয় নয়। জাতীয় সব ইস্যুতে যদি আমরা ঐকমত্য স্থাপন করতে পারতাম, তাহলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন যেমন ত্বরান্বিত হতো, তেমনি অনেক রাজনৈতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান পাওয়া যেত। তবে ঐতিহাসিক এ সফরে কাঁটার মতো যে বিষয়টি বিঁধছে তা হলো, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি না হওয়া, যা তিন বছর আগে চূড়ান্ত হয়েছিল। এ ব্যাপারে ভারতের কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ আশা করা নিশ্চয়ই অন্যায় হবে না। কোনো সমস্যা জিইয়ে রেখে যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উচ্চমাত্রায় নিয়ে যাওয়া যায় না, এ সত্যটি তাদের উপলব্ধি করতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে এ সমস্যার সমাধান হবে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার হোক। ফারুক আহমেদ বাগমারা, রাজশাহী। * তিস্তা চুক্তির তো এবারও কিছু হলো না। আমরা তিস্তার পানির জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। মো. মারজুল হোসেন মনোহরদী, নরসিংদী। * ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৬ ও ৭ জুন বাংলাদেশ সফর করেছেন। এটা একটি ঐতিহাসিক ও অর্জনের সফর। এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর দীর্ঘদিনের আটকে থাকা ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা সীমান্ত চুক্তি বাস্তব রূপ দেখেছে। এতে ছিটমহলবাসীর নাগরিকত্ব অর্জনের পথ সুগম হয়েছে। এ সফরে দুই দেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি, সমঝোতা ও প্রটোকল স্বাক্ষর হয়েছে। কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা ও ঢাকা-গুয়াহাটি বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা আরো সহজ হয়েছে। তবে ভারত থেকে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির যে চুক্তি হয়েছে তাতে আর্থিক দিক থেকে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ আমদানির জন্য যে টাকা খরচ হবে, তার চেয়েও কম টাকা দিয়ে দেশে এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। তা ছাড়া বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তি করার পক্ষে মোদি সমর্থন জানালেও কখন তা বাস্তব রূপ নেবে, এ নিয়ে সংশয় থেকে গেল। এ ছাড়া ফেনী নদীর পানি সম্পর্কেও সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি দুই দেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদির পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে, তা নিয়ে অনেক ভালো-খারাপ ধারণা কাজ করেছিল। অবশেষে সব ধারণার অবসান ঘটিয়ে মোদি পররাষ্ট্রনীতিতে আগের সব সরকারের চেয়েও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করেছেন। মোদির বাংলাদেশ সফরে তা ফুটে উঠেছে। এ সফরকে অর্জনের সফর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ সফরে দুই দেশের সম্পর্কে গতি এসেছে। মোদির বাংলাদেশ সফর দুই দেশের জন্য ঐতিহাসিক সফর। ইয়াকুব আল মাহমুদ হিমেল সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী। * বাংলাদেশের মানুষের জন্য মোদির সফর অসীম সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। মো. জসিম উদ্দিন টানবাজার, নারায়ণগঞ্জ।