• ই-পেপার

কুমিল্লায় মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

আজকের খেলা

আজকের খেলা

নরওয়ে-সেনেগাল (সকাল ৬টা)

জর্দান-আলজেরিয়া (সকাল ৯টা)

পর্তুগাল-উজবেকিস্তান (রাত ১১টা)

ইংল্যান্ড-ঘানা (রাত ২টা)

ক্রোয়েশিয়া-পানামা (কাল ভোর ৫টা)

হামে আরো তিন শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে আরো তিন শিশুর মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে আরো ১৬০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৯৬৫ জনের। তাদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮৪ জন। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে এ তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।  গতকাল হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশু রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৯০ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ২৫০ জনের। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৭৪, চট্টগ্রামে ৫০, বরিশালে ৩৯, ময়মনসিংহে ৫৪, খুলনায় ২৭ ও রংপুরে আটজন মারা গেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ৩৬৭ জন রোগীর মধ্যে ৩০৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রাজশাহীতে ৫২ জনের মধ্যে ৪৭, সিলেটে ৬৫ জনের মধ্যে ৬০ ও চট্টগ্রামে ২১০ জনের মধ্যে ২১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া বরিশালে ১১০ জনের মধ্যে ১১০, ময়মনসিংহে ৬০ জনের মধ্যে ৫৭, খুলনায় ৮৪ জনের মধ্যে ৮৩ ও রংপুরে ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

সরকারের তথ্যানুযায়ী, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৯৮৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী হামের প্রকোপ বর্তমানে হ্রাস পাচ্ছে। পরিস্থিতির মূল্যায়ন মূলত সিআরএফ রিপোর্ট বা কেস রিপোর্ট ফরমের ওপর ভিত্তি করে করা হয়। সন্দেহজনক হামের রোগীদের সমস্যার বিবরণ দিয়ে এই ফরম পূরণ করা হয় এবং পরে এই রিপোর্টগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পাঠানো হয়।

শান্তিরক্ষী বাহিনী বনাম দুর্ধর্ষ মিলিশিয়া

সাত নেপালি সেনা উদ্ধারের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাত নেপালি সেনা উদ্ধারের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ২০০৬ সালে আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর ইতুরি অঞ্চলে সেই শান্তিরক্ষীরাই মুখোমুখি হয়েছিলেন এক ভয়ংকর সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীর। মাত্র কয়েক ঘণ্টার প্রস্তুতিতে শুরু হওয়া একটি অভিযান পরিণত হয় জীবন্মৃতুর লড়াইয়ে। সেই অভিযানে একজন সেনা নিহত হন, কয়েকজন আহত হন এবং সাতজন নেপালি শান্তিরক্ষী সেনা মিলিশিয়াদের হাতে বন্দি হয়ে পড়েন।

নিউজ ২৪ ডিজিটালের বিশেষ আয়োজন অপারেশন হোস্টেজ রেসকিউ অনুষ্ঠানে সেই অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মাহবুব হায়দার খান এবং জেনারেল ঝংকার বাহাদুর কাদায়েত। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে অভিযানের পরিকল্পনা, ভুল তথ্য, আকস্মিক হামলা এবং দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে সাত সেনাকে উদ্ধারের রোমাঞ্চকর কাহিনি।

জেনারেল মাহবুব জানান, ২০০৬ সালের ২৭ মে সন্ধ্যায় কঙ্গোর কিসানগনি ডিভিশন হেডকোয়ার্টার থেকে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয় এফএনআই নেতা পিটার করিমকে আটক করার জন্য অভিযান পরিচালনা করতে। কিন্তু এত বড় অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য, প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার সময় দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সাধারণত কোনো অভিযানের আগে শত্রুর অবস্থান, অস্ত্র, জনবল ও সক্ষমতা যাচাই করে প্রস্তুতি নিতে হয়। কিন্তু এবার দ্রুত অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কমান্ডার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শুরু করতে চাপ দেন। জেনারেল মাহবুবের ভাষায়, পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি নেপালি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার কর্নেল ঝংকারকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে বলেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য, অস্ত্র, জনবল ও বিমান সহায়তা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেন।

জেনারেল ঝংকার জানান, আদেশ পাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন অভিযানটি অত্যন্ত তাড়াহুড়ার মধ্যে পরিচালনা করতে হবে। তিনি ব্রিগেড সদর দপ্তরে সময় চাইলেও উচ্চতর নির্দেশের কারণে অভিযান বাতিল করা সম্ভব হয়নি। রাতের মধ্যেই চারটি অবস্থান থেকে সৈন্য সমাবেশ করা হয়। ভোর ৪টার দিকে সেনারা মুভ করার জন্য প্রস্তুত হন। কঙ্গোর জাতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করেই অভিযান শুরু করা হয়। জেনারেল মাহবুব বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে সৈন্য, অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রস্তুত করে ফাতাকি এলাকায় নিয়ে যাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। তিনি কর্নেল ঝংকার ও তাঁর দলের এই প্রস্তুতির প্রশংসা করেন।

২৮ মে ভোর ৬টায় অপারেশন শুরু হয় এবং এফএআরডিসি (কঙ্গোলিজ ন্যাশনাল আর্মি)-কে গাইড হিসেবে নিয়ে নেপব্যাটের ১৫০ জনের একটি টহল দল সামনের দিকে এগোতে থাকে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে টার্গেট এলাকায় পৌঁছানোর আগেই ডেড গ্রাউন্ড পার হওয়ার সময় মিলিশিয়া গ্রুপ তাদের ওপর তীব্র ফায়ার ওপেন করে। গোয়েন্দা তথ্যে তিন-চারজনের কথা বলা হলেও সেখানে প্রায় ৪০০ মিলিশিয়া সুপরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার ভয়াবহতা দেখে শুরুর দিকেই কঙ্গোলিজ আর্মি রণে ভঙ্গ দিয়ে এলোমেলোভাবে পেছন দিকে পালিয়ে যায়। যুদ্ধ চলাকালে জ্ঞান বাহাদুর অধিকারী নামের একজন সাহসী রেডিও অপারেটর সার্জেন্ট নিহত হন এবং তিনজন সেনা আহত হন। টহল দলের সামনের অংশটি মূল বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সাতজন সেনাকে মিলিশিয়ারা জিম্মি করে নিয়ে যায়। জেনারেল ঝংকার জানান, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত অ্যামবুশ। কঙ্গোর সরকারি বাহিনীর সদস্যরা প্রথম ধাক্কায়ই পিছু হটে যায়। ফলে নেপালি সেনারা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যায়। তিনজন সেনা আহত হন এবং সামনের একটি দল মূল বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জেনারেল মাহবুব জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাতিসংঘের আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে মিলিশিয়াদের অবস্থানে হামলা চালানো হলেও রাত নেমে আসায় কার্যকর অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, সাত সেনাকে উদ্ধারের জন্য সরাসরি বড় ধরনের আক্রমণ চালানো হলে বন্দিদের জীবন আরো ঝুঁকিতে পড়তে পারত। তাই তাঁরা অন্য কৌশল গ্রহণ করেন হামলার পর প্রথম কয়েক দিন নিখোঁজ সেনারা বেঁচে আছেন কি না তা কারো জানা ছিল না। পরে নানা মহলের প্রচেষ্টায় যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত হয়। স্থানীয় কোয়ানি নামের এক কমিউনিটি লিডার এবং একজন যাজকের সাহায্যে মিলিশিয়াদের সঙ্গে ধীরে ধীরে যোগাযোগ স্থাপন করা হয় । 

প্রায় ১১ দিন পর বিদ্রোহী কমান্ডার পিটার করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেনারা বেঁচে আছেন। দীর্ঘ ৪২ দিন পর ব্যাপক দর-কষাকষির মাধ্যমে এই সংকটের একটি সমাধান আসে। এই উদ্ধার আলোচনায় কিনশাসা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা, ইউএনডিপি, ফোর্স কমান্ডার এবং লেন্দু সম্প্রদায়ের সংসদ সদস্যরাও কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। অবশেষে সব প্রচেষ্টার পর এক গভীর জঙ্গলের ক্যাম্পে বিদ্রোহী নেতা কমিউনিটি লিডারের মাধ্যমে জিম্মি সাত সেনাকে জেনারেল ঝংকারের হাতে তুলে দেয় এবং তাঁরা নিরাপদে ব্যারাকে ফিরে আসেন। জেনারেল ঝংকার বলেন, পুরো অভিযানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সৈন্যদের মনোবল ধরে রাখা। একদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি, অন্যদিকে বন্দি সেনাদের পরিবারের উদ্বেগসবকিছু সামলে অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। তিনি জানান, উচ্চ পর্যায় থেকেও বন্দিদের উদ্ধারে সামরিক অভিযান চালানোর চাপ ছিল। কিন্তু তিনি মনে করেছিলেন, সরাসরি হামলা করলে বন্দিদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। তাই আলোচনার পথেই সফলতা আসে।

দল থেকে ‘বাদ’ মমতা নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা তৃণমূল বিদ্রোহীদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
দল থেকে ‘বাদ’ মমতা নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা তৃণমূল বিদ্রোহীদের

নিজের গড়া রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকেই অপসারিত হলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটির দখল নিয়েছে বিদ্রোহী শিবির, অন্তত এমনই দাবি করছেন উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্যে তৃণমূলে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে হাওড়া মধ্য বিধানসভার বিধায়ক অরূপ রায়কে। শুধু তা-ই নয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তাঁর জায়গায় বেছে নেওয়া হয়েছে নতুন সাধারণ সম্পাদক।

গতকাল সোমবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন ছিল। সেই অধিবেশন শেষ হতেই তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা নিউ টাউনের একটি হোটেলে গোপন বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতার প্রায় ৭০ জন সাবেক কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকেই তৃণমূলের ৩০ জনের একটি নতুন কমিটি তৈরির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিদ্রোহী শিবিরের এই বৈঠকে তৃণমূলের গঠনতন্ত্রের ২০ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ধারা অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে; কিন্তু ২০২২ সালের পর আর তৃণমূলের কোনো জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয়নি। এই কারণ ও যুক্তি দেখিয়ে প্রস্তাব এনে ভেঙে দেওয়া হয় আগের জাতীয় কর্মসমিতি। এর পরই নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করে ঋতব্রতদের তৃণমূল। সেই কর্মসমিতির চেয়ারম্যান করা হয়েছে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে। এ ছাড়া বেছে নেওয়া হয়েছে সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ।

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ দেখা যায়। সেই ফুলকি ধীরে ধীরে বড়সড় আগুনের চেহারা নেয়। একে একে বিধায়করা বিদ্রোহ শুরু করেন। বিদ্রোহের সূত্রপাত সইকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা ও মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, অভিষেক বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে তৃণমূল বিধায়কদের সই করা প্রস্তাবিত চিঠি পাঠান, তাতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়। সেই অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন। সেই নিয়ে টালবাহানা চলে বেশ কয়েক দিন। দলের মধ্যে ভাঙন ক্রমেই স্পষ্ট হতে থাকে। তৃণমূলের রাশ আলগা হতে থাকে মমতার হাত থেকে। প্রথম পর্যায়ে একসঙ্গে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রতকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা করা হয়। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা