kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

অজানা চর্মরোগ

দেড় বছর ধরে ভুগছে এক হল্লার ৬০ জন

নাটোর প্রতিনিধি   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেড় বছর ধরে ভুগছে এক হল্লার ৬০ জন

নাটোরের গুরুদাসপুরে এক মহল্লার প্রায় ৬০ জন মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত। দেড় বছর ধরে বিভিন্ন চিকিৎসকের চিকিৎসা নিয়েও তারা সুস্থ হয়নি বলে জানিয়েছে। এমনকি রোগটিও শনাক্ত হয়নি। গত বুধবার উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের পাবনাপাড়া মহল্লায় গিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. রোজী আরা খাতুন গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা মূলত ফাংগাল ইনফেকশন। পাট জাগ দিতে গিয়ে এ ধরনের চর্মরোগের সৃষ্টি হয়। ’

ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে ওই মহল্লার এক গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘামাচির মতো ওঠে। পরে এতে চুলকানি আরো বাড়ে। ওই গৃহবধূর এই সমস্যা দেখা দেওয়ার তিন দিন পর তাঁর মেয়ের একই লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথমে তারা স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসাসেবা নেয়। কিন্তু না কমায় এক পর্যায়ে নাটোর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধ সেবন করে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

পরে ওই গৃহবধূর প্রতিবেশীদের শরীরেও ওই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে মহল্লাজুড়ে। বর্তমানে ওই মহল্লার নারী-পুরুষ-শিশুসহ ৬০ জনের মতো ওই রোগে আক্রান্ত। আক্রান্তদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘামাচির মতো লাল ও গুটি গুটি হয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তারা ওষুধ সেবন করলেও কেউ সুস্থ হয়নি।

লিমা নামের এক গৃহবধূ জানান, চর্ম ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সাতজনের মতো ডাক্তার দেখিয়েছেন তিনি। কিন্তু সুস্থ হচ্ছেন না। এমনকি রোগটি সম্পর্কেও সুনির্দিষ্টভাবে কোনো চিকিৎসক বলতে পারেননি।

লিমার মতো হাজেরা, রিমা, সুলতান, মেহেদীসহ প্রায় ১৫ জন জানায়, চুলকানোর কারণে অনেক সময় রক্ত বের হয়। ফুলে লাল হয়ে যায়।

আক্রান্ত শিশু সুয়াইবার মা বলেন, ‘আমার ছোট্ট শিশু চুলকাতে না পেরে চিৎকার করে। শিশু বিশেষজ্ঞ, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। এখনো ভালো হয়নি। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল নাটোরের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুস সামাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু আমার কাছে অনেক রোগী আসে, এই মুহূর্তে ব্যবস্থাপত্র না দেখে বলা মুশকিল। ’

নাটোর অ্যাপোলো হাসপাতালে রোগী দেখা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বি জামান বলেন, ‘এটা কী ধরনের চর্মরোগ তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। তাদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র ও পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে আমি জানাতে পারব। ’

রোগী ভালো হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ রোগী তাদের চিকিৎসা শেষ না হতেই ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দেয়। এটাও একটা কারণ হতে পারে। ’

ওই মহল্লার বিষয়ে জানতে চাইলে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগী ও আক্রান্তের স্থান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন ডা. রোজী আরা খাতুন দাবি করেন, সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত মনিটরিং শুরু করেছে। দ্রুতই আক্রান্ত ব্যক্তিরা সুস্থ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদী।

 



সাতদিনের সেরা