kalerkantho

রবিবার । ৪ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

এবার ভূমিহীনকে হয়রানির অভিযোগ এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে

ভূঞাপুরের এসি ল্যান্ডকে বদলি

সুনামগঞ্জ ও ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




এবার ভূমিহীনকে হয়রানির অভিযোগ এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে

সম্প্রতি তিন ইউএনও ও এক এসি ল্যান্ডের পর আরো এক এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা এসি ল্যান্ড ফয়সাল আহমেদ।

এদিকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভূমি অফিসের দুই কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে এসি ল্যান্ড অমিত দত্তকে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসি ল্যান্ড) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে মর্মে এক ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করায় তাঁকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেখিয়ে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। পরে অভিযোগকারীর কাছ থেকে অভিযোগটি মিথ্যা মর্মে মুচলেকাও রাখা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানান ভুক্তভোগী। তবে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা প্রিয়াঙ্কা ও ভূমি কর্মকর্তা  ফয়সাল আহমেদ দুজনই লাঞ্ছিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র আরফান আলীকে গৃহহীন ও ভূমিহীন হিসেবে একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে একই গ্রামের মো. মানিক মিয়া উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। আরফান আলী এই টাকা সুদে ধার এনে পাঁচ-ছয়জন সাক্ষীর সামনে মানিক মিয়ার হাতে তুলে দেন। একই তালিকার সবাই ঘর পেলেও আরফান আলীর ঘরটি এখনো নির্মাণ করা হচ্ছে না। কেবল কিছু ইট ফেলে রাখা হয়েছে।

আরফান আলী আরো উল্লেখ করেন, তিনি তাঁর নামে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত বিনা মূল্যের ঘরটি নির্মাণসহ তাঁর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে ইউএনও বরাবর গত বুধবার লিখিত আবেদন করেন। ইউএনও আবেদনটি উপজেলা এসি ল্যান্ডকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

এসি ল্যান্ড অভিযোগ পেয়ে আরফান আলী ও অভিযুক্ত মানিক মিয়াকে থানায় পাঠিয়ে দেন। এ সময় মানিক মিয়া কোনো টাকা পয়সা নেননি বলে দাবি করেন। এরপর আরফানকে থানায় দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। পরে থানায় গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিলে বুধবার রাত ২টার দিকে মুক্তি পান অভিযোগকারী।

আরফান আলী বলেন, ‘পাঁচ-ছয়জন সাক্ষীর সামনে এসি ল্যান্ড ও পিআইও স্যারের নাম ভাঙিয়ে মানিক মিয়া আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি অভিযোগ করায় আমাকে উল্টো হয়রানি করে রাত ২টা পর্যন্ত থানায় রাখা হয়েছিল। ’  

দোয়ারাবাজার থানার ওসি দেবদুলাল ধর বলেন, ‘আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ না করায় এসি ল্যান্ড মহোদয়ের পাঠানো দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিইনি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা থানায় এসে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন। ’ 

এসি ল্যান্ড ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলতে হলে আমার অফিসে এসে কথা বলেন। ’ এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

দোয়ারাবাজারের ইউএনও ফারজানা প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমি এসি ল্যান্ডকে অভিযোগকারীর অভিযোগ তদন্ত করতে দিয়েছিলাম। তাঁর নামও অভিযোগপত্রে থাকায় তিনি থানার ওসিকে বিষয়টি দেখতে বলেছিলেন এবং দুজনকে তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন। পরে অভিযোগকারী তাঁর অভিযোগ তুলে নিয়েছেন। কেউ তাঁকে মানসিক হয়রানি করেনি।  

এর আগে ফুটবল টুর্নামেন্টের ট্রফি ভেঙে আলোচনায় আসা বান্দরবান আলীকদমের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহরুবা ইসলামকে ঢাকায় বদলি করা হয়। তাঁর আগে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও বগুড়া সদর উপজেলার ইউএনওদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করার অভিযোগ ওঠে এবং তদন্ত হয়।

 

 

 



সাতদিনের সেরা