kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘গরিবের এসি বাড়ি’

মো. হারুন আল রশীদ, ধামইরহাট (নওগাঁ)   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘গরিবের এসি বাড়ি’

ধামইরহাটের চকউমর গ্রামে ‘গরিবের এসি বাড়ি’ খ্যাত মাটির ঘরটি দেখে পর্যটকরা বিমোহিত হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে খ্যাত ধামইরহাট উপজেলার ‘গরিবের এসি বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত মাটির ঘরের সৌন্দর্য এখনো পর্যটকদের টানে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ মাটির ঘর দেখার জন্য ছুটে আসে। বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে এসব ঘরের কথা।

পুরো নওগাঁ জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করছেন ধামইরহাটে বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক রাজু।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্রাচীন যুগের চর্যাপদ ও মধ্যযুগের মঙ্গল কাব্য থেকে জানা যায়, অতি প্রাচীনকাল থেকেই এই বরেন্দ্রভূমিতে মাটির বাড়ির প্রচলন ছিল। এখনো নওগাঁর প্রায় প্রতিটি গ্রামে মাটির বাড়ি চোখে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচুর গরম ও শীতে বসবাস উপযোগী মাটির

বাড়ি সময়ের পরিবর্তনে এখন দোতলা হচ্ছে। অনেক বিত্তবান আধুনিক রূপ দিয়ে মাটির বাড়ি বানাচ্ছেন। তাতে সংযোজন করা হচ্ছে কাঠের গ্রিলসহ বিভিন্ন উপকরণ। দেয়ালে পড়ছে ডিস্টেম্পার। শৌখিন গৃহিণীরা দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আলপনা এঁকে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছেন। আলপনায় গ্রামবাংলার হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভেসে উঠছে।

বিষয়টি নিয়ে ভাষাবিদ এনামুল হকের মেয়ে গবেষক সালমা হক বলেন, দেশে একসময় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ঘর ছিল মাটির তৈরি। তিনি বলেন, ইটের মজবুত ভিত ও মাটির সঙ্গে পাটের আঁশ, প্রয়োজনীয় কংক্রিট, গাছের তক্তা ও বাঁশের বাতা ব্যবহার করে দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম মাটির বাড়ি এখনো বানানো সম্ভব। সম্প্রতি ধামইরহাট থানার চক উমার গ্রামে ইটের মজবুত ভিতের ওপর মাটির দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন ফার্সিপাড়া জমিদার পরিবারের সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ছাত্র মো. মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল। তিনি শৌখিন কৃষক। তাঁর বাড়িটি এলাকার গৃহস্থদের নতুন করে মাটির বাড়ি তৈরিতে আকৃষ্ট করছে।

মাটির সহজলভ্যতা, প্রয়োজনীয় উপকরণ আর শ্রমিকের মজুরি কম হওয়ায় আগের দিনের মানুষ মাটির ঘর বানাতে আগ্রহী ছিল। এখনো প্রত্যন্ত গ্রামে অনেক মাটির বাড়ি চোখে পড়ে। এঁটেল বা আঠালো মাটি দলা করে দুই থেকে তিন ফুট চওড়া দেয়াল দিয়ে বাড়ি তৈরি করা হয়, যার উচ্চতা থাকে ১২ থেকে ১৫ ফুট। প্রতি তলার দেয়ালের ওপর কাঠ বা বাঁশের বর্গা দেওয়া হয়। এরপর চিকন বাঁশের কাঁড়ি বিছিয়ে তার ওপর মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। সব শেষে কাঠ বা বাঁশের কাঠামো তৈরি করে সুন্দরভাবে খড় বা টিনের ছাউনি দেওয়া হয়। শীতের দিনে মাটির ঘর থাকে উষ্ণ আর গরমের দিনে শীতল। এ জন্য মাটির ঘরকে গরিবের এসি ঘর বলা হয়। গ্রামের মানুষের কাছে মাটির ঘর ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। মাটির ঘরবাড়ির সঙ্গে মিশে আছে গ্রামবাংলার মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। জড়িয়ে আছে শৈশব-কৈশোরসহ হারানো স্মৃতি, প্রিয় মানুষগুলোর সুখ-দুঃখের ইতিহাস, মা-বাবা হারানোসহ নানা আবেগ-অনুভূতি।

 



সাতদিনের সেরা