kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

ডাক্তার-নার্সকে আনা হচ্ছে আইনের আওতায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডাক্তার-নার্সকে আনা হচ্ছে আইনের আওতায়

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খতনা করাতে নিয়ে যাওয়া শিশুর টনসিল অপারেশন করার ঘটনায় জড়িত চিকিৎসক ও নার্সদের আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনায় করা পৃথক দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত ১০ আগস্ট সকালে খতনা করাতে তিন বছরের শিশু সাবি রেহানকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা-বাবা। ওই সময় আরেকটি শিশু টনসিল অপারেশনের অপেক্ষায় ছিল।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগে ৮ আগস্ট ভর্তি হয়েছিল ওই শিশুটি। দুটি শিশুকে পৃথক অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন নার্সরা। তাঁরাই শিশু দুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সাবি রেহানকে নার্স নূপুরের হাতে তুলে দেন ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্স প্রিয়াঙ্কা। পরে রেহানকে ওটি ইনচার্জ নার্স মমতার কাছে বুঝিয়ে দেন নূপুর। রোগীর বিস্তারিত কাগজপত্র দেখার দায়িত্ব ছিল মমতার। কিন্তু তিনি দায়িত্ব পালন করেননি। অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসককে রোগীর হিস্ট্রি না দেখানোয় তিনিও তা দেখেননি। সব শেষে যে চিকিৎসক অপারেশনটি করবেন তিনিও সব কাগজপত্র দেখেননি।

ফলে কিসের ওপর ভিত্তি করে অপারেশনটি করা হলো, তা নিয়েই চলছে তদন্ত। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই নার্স নূপুর ও মমতা এবং চিকিৎসক এনামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, রেহানের টনসিল অপারেশনের পর আরো একটি অপারেশন হয়েছে। সে অপারেশনে তার খতনা করা হয়। অপারেশনের পর তাকে দুই দিন হাসপাতালে রাখা হয়। তবে তার কাছ থেকে চিকিৎসা বাবদ কোনো বিল রাখা হয়নি। খতনা করাতে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয় ছয় হাজার টাকা। ওই টাকাও নেওয়া হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার পর সাবি রেহানের পরিবার পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক আনিছুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনো একক ব্যক্তির ভুলের দায় পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না। তবে এই ভুলের খেসারত অবশ্যই প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে ও হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনামও নষ্ট হয়েছে। আমি মনে করি, এই ভুল চিকিৎসার সঙ্গে যে চিকিৎসক ও নার্স জড়িত তাঁদের সবার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। এর জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করছি, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সঠিক বিচারটাই আমরা করতে পারব। দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না। ’

তিনি বলেন, ‘একটা অপারেশনে চিকিৎসকই সব নন। সেখানে যুক্ত থাকে পুরো একটি দল। সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক দোয়েল ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সমর সাহা অ্যানেসথেসিওলজিস্ট। এই দুজনই অপারেশনের সময় উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলি ফ্যামিলি মেডিক্যাল কলেজের হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ’

অধ্যাপক আনিছুজ্জামান বলেন, ‘দুটি তদন্ত কমিটির মধ্যে একটি হাসপাতালের পক্ষ থেকে, আরেকটি রেড ক্রিসেন্টের। অধ্যাপক ডা. আবুহেনা মোস্তফাকে প্রধান করে ছয় সদস্যের কমিটি গত বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও রবিবার পর্যন্ত তারা সময় নিয়েছে। ওই দিন তারা প্রতিবেদন জমা দেবে। আর রেড ক্রিসেন্টের ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দুই সদস্য হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁরা কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। রবিবার তাঁরাও আসবেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের বেশির ভাগ হাসপাতালে রোগীর নিরাপত্তায় আইডির ব্যবস্থা নেই। ব্যক্তিমালিকানাধীন অনেক হাসপাতালে রোগীর তাতে একটা ব্যান্ড থাকে। রোগীর নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালগুলোয় আইডি প্রথা চালু করা জরুরি। ’



সাতদিনের সেরা