kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শোক ও শ্রদ্ধা

শোক দিবসে দুস্থদের পাশে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



শোক দিবসে দুস্থদের পাশে

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল বনানী কবরস্থানে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের পক্ষ থেকে দুস্থদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের অন্যতম শিকার ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিশুপুত্র শেখ রাসেল। তার নামে প্রতিষ্ঠিত ক্রীড়া সংগঠনটির জন্য তাই ১৫ই আগস্ট দিনটির রয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এর আলোকেই জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল, ভোজ, তবারক বিতরণ, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড।

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এ কর্মসূচি।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার দিনব্যাপী গরিব, দুস্থ মানুষ এবং ছিন্নমূল পথশিশুদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। খাবার পেয়ে আপ্লুত মানুষ বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের সব শহীদের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করে।

সকালে বনানী কবরস্থানে কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ করা হয়। এ সময় ১৫ আগস্ট শাহাদাতবরণকারী বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে বাদ জোহর বসুন্ধরায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের ক্লাব অফিসে মিলাদ, দোয়া মাহফিল এবং গরিব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

দিনব্যাপী পথশিশু, ভিক্ষুক, ছিন্নমূল মিলিয়ে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। শোক দিবসে ক্লাবে জাতীয় পতাকা ও ক্লাবের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। উত্তোলন করা হয় কালো পতাকা।

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের চেয়ারম্যান ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের পক্ষ থেকে ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ ইসমত জামিল আকন্দ লাভলু বলেন, ‘আমরা ক্লাবের চেয়ারম্যান ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষ থেকে বনানী কবরস্থানে এসে ১৫ আগস্টে শাহাদাতবরণকারী বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছি। পাশাপাশি এতিম ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ’

দুপুরে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের বসুন্ধরা অফিসে ক্লাবের পরিচালক (অর্থ) মো. ফখরুদ্দীন বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে বনানীসহ চারটি স্থানে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও খাবার বিতরণ করেছি। আমরা এভাবেই জাতির জনক, তাঁর পরিবারসহ সব শহীদকে স্মরণ করে যাব। বিভিন্ন স্থানে পাঁচ হাজার মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়া হয়েছে। ’

এ সময় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের পরিচালক আবুল কাসেম, রফিকুল আলম জর্জ, মাকসুদুর রহমান, হাবিবুর রহমান খান, মীর মো. শাহাবুদ্দিন টিপু, মো. আবুবকর, মো. আসাদুজ্জামান, ক্লাবের আজীবন সদস্য মো. পিজিরুল আলম খান, শেখ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, মো. মারুফ কাজি, শেখ আবু সোহেলসহ অন্যান্য পরিচালক, আজীবন সদস্য, স্থায়ী সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাইকোর্ট মাজারে তবারক বিতরণ

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র হাইকোর্ট মাজার প্রাঙ্গণে দুস্থ ও পথশিশুদের মধ্যে তবারক বিতরণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের পরিচালকরা ও স্থায়ী সদস্যরা। পরে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট নিহত সবার জন্য দোয়া করা হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানার দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

এ সময় ষাটোর্ধ্ব রিকশাচালক হাশেম মিয়া বলেন, ‘হাইকোর্ট এলাকার আশপাশেই আমি রিকশা চালাই। এই তবারক দিয়া দুপুরের খাবার হইয়া যাইবে। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের জন্য অনেক দোয়া করব। ’

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ

গুলিস্তানের শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সের সামনে দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ করা হয়। দোয়া মাহফিল শেষে প্রায় ২০০ পথশিশু, ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

সেখানে ৬৫ বছর বয়সী হোটেল শ্রমিক মাশরুদের সঙ্গে কথা হয় কালের কণ্ঠের প্রতিবেদকের। মাশরুদ স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘সকালে ঘুম থাইকা উইঠা শুনি রেডিওতে কইতাছে—বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হইছে, কারফিউ জারি হইছে, কেউ বাইরে বাইর হইবেন না। এরপর কত মানুষরে অত্যাচার করছে। পিটায়া প্যারালাইজ বানায়া দিছে। ’

বসুন্ধরা সিটিতে জাতীয় শোক  দিবস পালন

বসুন্ধরা সিটি কর্তৃপক্ষ ও বসুন্ধরা সিটি শপিং মল দোকান মালিক সমিতির যৌথ আয়োজনে গতকাল আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ইনচার্জ মেজর (অব.) মো. মোহসিনুল করিম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলার। তিনি এ দেশের মানুষকে উজ্জীবিত করেছিলেন স্বাধীনতার জন্য। আমরা সে জন্য স্বাধীন হয়েছিলাম। ’ বসুন্ধরা সিটি শপিং মল দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হান্নান আজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তির পথ রচনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করে এ দেশকে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা করেছিল। তিনি বেঁচে থাকলে নতুন নতুন অনেক কিছু পেতাম। ’ বসুন্ধরা সিটি শপিং মল দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে আমরা কাজ করব। ’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মেজর (অব.) মো. রবিউল ইসলাম, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি কার্ত্তিক কর্মকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটন হাওলাদার প্রমুখ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করা হয় চার হাজার মানুষের মধ্যে। কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি মোনাজাতও করা হয় মিরপুরে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘অনেক হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে আমার আম্মাও মারা গেছেন। কিন্তু ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোটার তুলনা হয় না। এটা পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। ছোট রাসেল থেকে শুরু করে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, কাউকেই ছাড় দেয়নি খুনিরা। ’

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফুটবলার কাজী সালাহউদ্দিনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল বঙ্গবন্ধু পরিবারের। বাফুফে ভবনে শোক দিবসের কর্মসূচি পালনের সময় তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমাদের মনে রাখতে হবে স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে দুঃখের দিন, সবচেয়ে কালো দিন হলো আজ। তিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন বলে আজ এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। যখনই দিনটি আসে, তখনই আমাদের সবার বুকে ব্যথা হয়। সবাই জানেন উনি (বঙ্গবন্ধু) ও উনার ছেলেমেয়ে সবাই স্পোর্টসের সঙ্গে যুক্ত। ’

যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করেছে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, শেখ জামাল ধানমণ্ডি লিমিটেড, আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও দাবা ফেডারেশন।

 



সাতদিনের সেরা