kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভুক্তভোগীদের ৫০.২৭% বুলিংয়ের শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ভুক্তভোগীদের ৫০.২৭% বুলিংয়ের শিকার

দেশে সাইবার অপরাধের শিকার ৫০.২৭ শতাংশ ভুক্তভোগী বিভিন্ন ধরনের সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। এদের মধ্যে ৮০.৯০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর। ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার, পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার এবং অনলাইনে-ফোনে মেসেজ হুমকিতে এরা মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছে। ক্রমেই বাড়ছে এ ধরনের অপরাধ।

বিজ্ঞাপন

সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়্যারনেস ফাউন্ডেশনের (সিসিএ ফাউন্ডেশন) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে ‘বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ প্রবণতা ২০২২’ শিরোনামের গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

গবেষণাটিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাইবার প্যারাডাইজ লিমিটেড। সিসিএ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজি মুস্তাফিজের সভাপতিত্বে প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন গবেষকদলের প্রধান ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার মনিরা নাজমী জাহান। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার বাড়ছে। ভুক্তভোগীর বেশির ভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর, এই হার ৮০.৯০ শতাংশ। হয়রানির শিকার ৭৩.৪ শতাংশ আইনের আশ্রয় নেয় না। তবে আইনের আশ্রয় নেওয়া ৭.০৪ শতাংশ আইনি সেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত দেশজুড়ে ভুক্তভোগী ১৯৯ জনকে ১৮টি প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে পুরুষ ৪৩.২২ শতাংশ এবং নারী ৫৬.৭৮ শতাংশ।

অপরাধের ধরন

এদের মতামতের ভিত্তিতে গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। গবেষণা জরিপে দেখা গেছে, গতবারের তুলনায় এবার সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৫০.২৭ শতাংশ; গতবার যা ছিল ৫০.১৬ শতাংশ।

সাইবার অপরাধের শীর্ষে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনা। এবার এর হার ২৩.৭৯ শতাংশ। ২০২১ সালে ছিল ২৮.৩১ শতাংশ। এবারের তুলনায় গতবার ৪.২ শতাংশ বেশি ছিল। গত বছরের প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের ঘটনা ছিল ১৬.৩১ শতাংশ। এবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮.৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ ২.৩৬ শতাংশ বেড়েছে।

একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও (পর্নোগ্রাফি) ব্যবহার করে হয়রানির সংখ্যা গত বছর ছিল ৭.৬৯ শতাংশ, এবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯.৩৪ শতাংশে। ফটোশপে ছবি বিকৃত করে হয়রানির ঘটনা গত বছর ছিল ৫.৮৫ শতাংশ, এবার তা ১.০৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৬.৯৩ শতাংশে। এ ছাড়া করোনা মহামারির মধ্যে ১৫.০৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছে।

ভুক্তভোগীর ধরন

সাইবার অপরাধের শিকার বেশির ভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর। এই হার ৮০.৯০ শতাংশ। এরপর রয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সী ভুক্তভোগী। এদের হার ১৩.৫৭ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ৩১-৪৫ বছর বয়সের ভুক্তভোগী, যার হার ৫.০৩ শতাংশ। সব শেষে রয়েছে ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বের ভুক্তভোগী। এদের হার ০.৫০ শতাংশ।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে বলা হয়, ১৮ থেকে ৩০ বছর এবং ১৮ বছরের কম বয়সীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইডি হ্যাকিং বা তথ্য চুরির মতো সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছে বেশি। আশঙ্কাজনক বিষয় হচ্ছে, ১৮ বছরের কম বয়সী ভুক্তভোগীর হার গত বছরের তুলনায় এবার ৪.৬৪ শতাংশ বেড়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৪৩.২২ শতাংশ এবং নারীর সংখ্যা ৫৬.৭৮ শতাংশ। এদের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক আইন সম্পর্কে জানে ৪৩.২২ শতাংশ। বাকি ৫৬.৭৮ শতাংশের দেশে বিদ্যমান আইন সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। ১৯৯ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে মাত্র ৫৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেছে। এটি মোট ভুক্তভোগীর ২৬.৬ শতাংশ, ২০২১ সালের তুলনায় যা ৫.১৭ শতাংশ বেশি। ভুক্তভোগী ১৫.৫৮ শতাংশ পুরুষ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দ্বারস্থ হয়েছে, ২৭.৬৪ শতাংশ হয়নি। নারী ভুক্তভোগীর মধ্যে ১১.৬ শতাংশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দ্বারস্থ হয়েছে, ৪৫.৭৩ শতাংশ আইনের আশ্রয় নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দ্বারস্থ হয়ে ৭.৪ শতাংশ আশানুরূপ ফল পেয়েছে, ৫৫.২৭ শতাংশ প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পায়নি।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, সমস্যা গোপন রাখতে আইনি ব্যবস্থা নেয়নি সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ ভুক্তভোগী। ১৭ শতাংশ ভুক্তভোগী সামাজিক ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য, ১৭ শতাংশ আইনি ব্যবস্থা নিয়ে উল্টো হয়রানি পোহাতে হবে এবং ১৭ শতাংশ অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না ভেবে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ৭ শতাংশ ভুক্তভোগী। আর ২ শতাংশ ভুক্তভোগী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন আছে বলে মনেই করেনি।

সুপারিশ 

গবেষণা প্রতিবেদনে আট দফা সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলো—ব্যাপকভাবে সাইবার সচেতনতামূলক কার্যক্রম, জাতীয় বাজেটে সাইবার সচেতনতায় গুরুত্ব দেওয়া, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিএসআরে সাইবার সচেতনতা বাধ্যতামূলক করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাইবার পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা, সাইবার সাক্ষরতা বৃদ্ধি, সচেতনতামূলক কাজে রাজনৈতিক জনশক্তির সঠিক ব্যবহার, গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার এবং অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে সুস্থ সাইবার সংস্কৃতি গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা।

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির পরিচালক সাকিফ আহমেদ, সাবেক অডিটর জেনারেল ও প্রযুক্তিবিদদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইসাকা ঢাকা চ্যাপ্টারের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সুলতানা ইশরাত জাহান।



সাতদিনের সেরা