kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শহীদ মিনারে চিকিৎসক লাঞ্ছনা

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে ঢামেকে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

লাইজুল ইসলাম   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে ঢামেকে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ইন্টার্ন চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসেনকে শহীদ মিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কর্মবিরতি পালন করছেন সেখানকার সব (প্রায় ২০০ জন) ইন্টার্ন চিকিৎসক। গত ৮ আগস্টের এই ঘটনার জেরে গত বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন তাঁরা। এতে হাসপাতালটির স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ইন্টার্ন চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে হাসপাতালটির পুরনো ভবনের ২০৮, ২০৯, ২১৬, ২১৭, ২১৮ এবং ২১৯ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,

সাধারণত সাপ্তাহিক ছুুটির দিনে নিয়মিত চিকিৎসকরা হাসপাতালে আসেন না। ইন্টার্ন চিকিৎসকরাই এসব দিনে রোগী সামাল দেন। কর্মবিরতির ফলে গতকাল কোনো ওয়ার্ডেই ইন্টার্ন চিকিৎসক ছিলেন না। তবে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নার্স ছিলেন। জরুরি বিভাগের নিয়মিত চিকিৎসকরা সকালে একবার ওয়ার্ডে রাউন্ড করেছেন বলে জানান রোগীর স্বজনরা।

এসব ওয়ার্ডের রোগীদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, সকালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা একবার রাউন্ড করে গেলেও এরপর আর কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। চিকিৎসকদের রুমগুলোও ছিল ফাঁকা। সাধারণত ছুুটির দিনে শিফট অনুসারে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা থাকেন। গতকাল কেউ ছিলেন না। রোগীর একমাত্র ভরসা ছিলেন নার্স। বার্ন ইউনিটেও একই অবস্থা দেখা গেছে।

চিকিৎসার জন্য শাশুড়িকে নিয়ে নোয়াখালী থেকে এসেছেন মোহম্মদ শরীফ। ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কথা হলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ডের ভেতরে কোনো চিকিৎসক নেই। কয়েকজন নার্স আছেন। তাঁরাই রোগীদের দেখভাল করছেন। এমনিতে শুক্রবার নিয়মিত চিকিৎসকরা থাকেন না, এখন আবার চলছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি। ওরা থাকলেও কিছুটা সাহস পাওয়া যায়। কোনো রোগীর বড় কোনো সমস্যা হলে কে কী করবে, বুঝতে পারছি না। ’

তখন সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট। ইমার্জেন্সি বিভাগের সামনে বেশ কয়েকজন মানুষের ভিড়। এগিয়ে গেলে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক কিশোরকে নিয়ে আসা হয়েছে মুন্সীগঞ্জ থেকে। পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন ওই কিশোরের মা। সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন না করলে এত দেরি হতো না তাঁদের চিকিৎসা পেতে।

জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ঝুমানা নাজনীন বলেন, ‘আমার এখানে কোনো সমস্যা না হলেও যাঁরা ইমার্জেন্সি রোগী ম্যানেজমেন্ট করেন, তাঁদের সমস্যা হচ্ছে। সব ইন্টার্ন চিকিৎসক একসঙ্গে কাজ বন্ধ করে দিলে সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। ’

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মহিউদ্দিন জিলানী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে। ঘটনা এখানে ছেড়ে দিলে ওরা আবার নতুন করে কোনো ঘটনা ঘটাবে। ’

ঢামেকে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে—এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। এখনো বড় কোনো সমস্যা হয়নি। ’

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সেক্রেটারি মারুফ উল আহসান শামীম বলেন, ‘দুষ্কৃতকারীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। আমরা চাই না এমন ঘটনা আবারও ঘটুক। এই দুষ্কৃতকারীদের হাতে সাধারণ মানুষও নিগৃহীত হচ্ছে। এর অবসান হতে হবে। ’

তিনি জানান, আজ শনিবার পুলিশ প্রশাসন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রশাসন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হবে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুষ্কৃৃতকারীদের হাতে লাঞ্ছিত ডা. সাজ্জাদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হামলার পর আমার চোখে সমস্যা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে দেখতে পাই না। কানেও সমস্যা হচ্ছে। তারা আমাকে এতটা মেরেছে, আমি প্রায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, সেটা মেনে নিতে পারছি না। আমি দোষীদের শাস্তি চাই। ’

ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতজন চিকিৎসক একসঙ্গে কাজে বিরত থাকলে সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা নিয়মিত চিকিৎসকদের বিভিন্নভাবে দায়িত্ব বণ্টন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাজে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ প্রশাসন ও ঢাবি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলছি। যত দ্রুত সম্ভব দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘দুষ্কৃতকারীরা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করতে আমাদের প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন একত্রে কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুতই তাদের খুঁজে বের করা যাবে। ’

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি স্পর্শকাতর। আশা করছি দ্রুতই আপনাদের ইতিবাচক খবর দিতে পারব। ’

 

 



সাতদিনের সেরা