kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘জীবিত না অইলেও বাবার মরা মুখটা দেখতাম চাই’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘জীবিত না অইলেও বাবার মরা মুখটা দেখতাম চাই’

স্বজনের কান্না : বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ভোলার চরফ্যাশনের চরমানিকা ইউনিয়নের জেলে ইসমাইলের স্বজনদের আহাজারি। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘আমার ছেলের তিনডা পোলা-মাইয়া (ছেলে-মেয়ে) আছে। বাবায় সাগরে মাছ ধইরা ওই টিয়া দিয়া সংসার চালাইত। মঙ্গলবারে খবর আইয়ে সাগরে ওগো ট্রলার ডুইবা গেছে। এর পর থেকে বাবার আর খবর নাই।

বিজ্ঞাপন

আইজকা তিন দিন অইয়া গেল বাবার কোনো খবর পাই না। আমার বউ ও নাতি-নাতিনদের কে দেখবে! সরকারের কাছে আমাগো দাবি, জীবিত না অইলেও বাবার মরা মুখটা দেখতাম চাই। পোলার চিন্তায় আমাগো পুরা পরিবারের খাওন-দাওন বন্ধ হইয়া গেছে। ’

গতকাল বৃহস্পতিবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ জেলে ইসমাইলের মা শাহিনুর বেগম। ইসমাইলের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।

গত মঙ্গলবার পায়রা বন্দরসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে চরমানিকার ইউসুফ মাঝির মালিকানাধীন ট্রলার ১৩ জেলেসহ ডুবে যায়। ইউসুফ মাঝিসহ পাঁচ জেলেকে পাশের একটি ট্রলার  উদ্ধার করলেও বাকি আট জেলেসহ ট্রলারটির খোঁজ গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিকে না পেয়ে এই আট জেলের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চরফ্যাশনের দুই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম।

চরফ্যাশন ইউএনও আল নেমান বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য কোস্ট গার্ডকে বলা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়া ঠিক হলে খুব দ্রুত উদ্ধার অভিযানে যাবে কোস্ট গার্ড। নিখোঁজ জেলে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

জীবিত উদ্ধার তিন জেলে

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অদূরে মেঘনা নদীর অববাহিকায় বঙ্গোপসাগরে সোমবার রাতে মাছধরার ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ১১ মাঝিমাল্লা ও জেলের মধ্যে তিন জেলের খোঁজ পাওয়া গেছে। তাঁদের সুন্দরবন ও পাথরঘাটা এলাকা থেকে অন্য জেলেরা উদ্ধার করে পাখরঘাটায় চিকিৎসা দিচ্ছেন। কোস্ট গার্ডের হাতিয়া, ভোলা এবং কলাপাড়ার সদস্যরা মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।

ক্ষতবিক্ষত কক্সবাজার সৈকত

সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উচ্চ জোয়ারের পানির থাবায় কক্সবাজার সৈকত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতে সৈকতে ব্যাপক ভাঙন ধরেছে। আকস্মিক ভাঙনে বদলে গেছে সৈকতের চেহারা। পানির স্রোতে বালু সরে গেছে এবং সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। সৈকতের লাবণী পয়েন্টের পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত সৈকত স্নানের স্থানটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। ডায়াবেটিক পয়েন্ট সৈকতের বহু ঝাউবিথী জোয়ারের কারণে সাগরে তলিয়ে গেছে। গতকাল সকালে এক জোয়ারের স্রোতেই সৈকতের বালুচর তছনছ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে লাবণী পয়েন্ট এলাকাটি।

বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপে ঝালকাঠিতে দুই দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তিন ফুট বেড়েছে। এতে জেলার কাঁঠালিয়া, রাজাপুর ও নলছিটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ ভবন, ইউএনও অফিস, পরিসংখ্যান, যুব উন্নয়ন, সমবায়, আনসার বিডিপি, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও ডরমিটরিগুলোর অফিসকক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া মেঘনা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন ফুট পানি বেড়ে গতকাল লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় এলাকা এবং বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে পটুয়াখালীর গলাচিপার অন্তত ২০ গ্রাম, ভোলার নিম্নাঞ্চলের ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়। একই কারণে বরগুনার প্রধান তিনটি নদ-নদীতে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হওয়ায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল ও বীজতলা।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার  প্রতিনিধিরা]

বৃষ্টি পড়েনি, জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ



সাতদিনের সেরা