kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাগর উত্তাল

ভরা মৌসুমে ইলিশ শিকার বন্ধ, মৎস্যজীবীরা বিপাকে

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভরা মৌসুমে ইলিশ শিকার বন্ধ, মৎস্যজীবীরা বিপাকে

নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল। তাই এভাবেই ঘাটে বাঁধা পড়ে আছে মাছ ধরার শত শত ট্রলার। ছবি : কালের কণ্ঠ

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে পারছেন না। কেউ কেউ দুর্যোগ উপেক্ষা করে সাগরে গেলেও দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। অনেককে মাছ ছাড়াই ঘাটে ফিরতে হয়েছে। এ কারণে বেশির ভাগ ট্রলারই ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভরা মৌসুমে ইলিশ শিকার করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা।

৯ আগস্ট থেকে সাগরে ৩ নম্বর সিগন্যাল জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আবহাওয়া বেশি খারাপ হওয়ায় শত শত ট্রলার সমুদ্রে রওনা দিলেও মাছ না ধরেই ফিরেছে উপকূলে। বরগুনার পাথরঘাটা এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মৎস্যবন্দর আলীপুর ও মহিপুরে আশ্রয় নিয়েছে ট্রলারগুলো। টানা কয়েক দিনের দুর্যোগ মৎস্যজীবীদের জীবিকার সমস্যা তৈরি করেছে।

মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত ২২ জুলাই মধ্যরাতে উঠে যায়। এর পরের দিন থেকে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছিল। সাগরতীরের বরগুনায় মাইকিং করে রাতেও ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, জেলেদের জালে আটকে যাওয়া ইলিশের প্রায় অর্ধেকটাই বড় আকারের। গত বছর বড় আকারের ইলিশ ছিল গড়ে ২০ শতাংশের মতো। এতে গতবারের চেয়ে এবার রাজস্ব প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। কিন্তু ৭ আগস্ট থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে ইলিশ ধরা বন্ধ হয়ে যায়।

মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ইলিশের মৌসুমে পাথরঘাটা, কলাপাড়া, তালতলীসহ বিভিন্ন ঘাট থেকে পাঁচ থেকে ছয় হাজার ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাছ ধরার কাজে কয়েক লাখ মানুষ জড়িয়ে আছে। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাদে সারা বছরই সমুদ্রে মাছ ধরা হয়। কিন্তু ইলিশ মাছের দেখা মেলে বর্ষাকালে। তাই বর্ষা যত দিন থাকে, মাছ ধরার জন্য গভীর সমুদ্রে মৎস্যজীবীরা যান। এবার মৌসুমের নির্দিষ্ট সময় থেকে ইলিশ ধরা শুরু করার পর কয়েক দিন বেশ ভালোই মাছের দেখা মেলে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৭ অগস্ট থেকে আবহাওয়া এত খারাপ যে সাগরে টিকতে না পেরে ঘাটে আশ্রয় নিয়েছেন জেলেরা। সাগরে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে। প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এমনিতেই এক-একটি ট্রলার গভীর সমুদ্রে পাঠাতে ১৫ থেকে ১৭ জন শ্রমিকের মজুরি, বরফ, জ্বালানি, জালসহ সব মিলিয়ে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয় মালিকের। কিন্তু দিনের পর দিন সমুদ্রে যেতে না পারায় মালিকরা ক্ষতির মুখে। অনেকে বাজার থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ট্রলার সমুদ্রে পাঠান। তাঁরা বেশি বিপদে আছেন। এমনিতেই করোনার কারণে লকডাউনের ফলে অনেকে টাকার অভাবে ট্রলার মেরামত ও নতুন করে জাল কিনতে পারেননি। এর পরও কিছু ট্রলার সমুদ্রে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ পাচ্ছে না। তাই অনেকেই ট্রলার সমুদ্রে পাঠাতে রাজি নন।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সাগরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। আবার প্রচণ্ড রোদও হচ্ছে। তার ওপর পূর্ণিমার জো। পানির চাপ অনেক। সবমিলিয়ে সাগরে ইলিশ ধরার পরিবেশ নেই। তাই জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছেন। যাঁরা বৈরী আবহাওয়া থাকার পরও সাগরে গেছেন, তাঁদের অন্তত পাঁচটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এখনো ২১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

 

 

 



সাতদিনের সেরা