kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাসচালকের সহকারীই রাতে ডাকাত সর্দার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাসচালকের সহকারীই রাতে ডাকাত সর্দার

কুষ্টিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল এক্সপ্রেসের বাসে ডাকাতি ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জন। ছবি : কালের কণ্ঠ‘

২১ বছরের তরুণ রতন হোসেন পেশায় বাসচালকের সহকারী। তবে রাতে হয়ে ওঠেন বাসে ডাকাতদের দলনেতা। তাঁর দলে আছে আরো ১২ জন। এঁদের কয়েকজন রতনের মতোই বাসচালকের সহকারী।

বিজ্ঞাপন

কেউ বা কাজ করেন কারখানায়। বিভিন্ন সময় রাতে তাঁরা যাত্রীবেশে অন্তত ১১টি বাসে হানা দিয়েছেন। ঢাকার সাভারে বাস ডাকাতির মামলায় একবার গ্রেপ্তার হন রতন। দেড় বছর আগে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার জড়িয়ে পড়েন অপরাধে। সর্বশেষ ২ আগস্ট টাঙ্গাইল মহাসড়কে তাঁর নেতৃত্বে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

টাঙ্গাইলে বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় রতনসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব কথা জানান।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, রবিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা, গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জে টানা অভিযান চালিয়ে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র‌্যাব-১২ ও র‌্যাব-১৪ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন রতন হোসেন (২১), আলাউদ্দিন (২৪), সোহাগ মণ্ডল (২০), খন্দকার মো. হাসমত আলী ওরফে দীপু (২৩), বাবু হোসেন ওরফে জুলহাস (২১), জীবন (২১), আব্দুল মান্নান (২২), নাঈম সরকার (১৯), রাসেল তালুকদার (৩২) ও আসলাম তালুকদার ওরফে রায়হান (১৮)। তাঁদের কাছ থেকে ২০টি মোবাইল ফোনসেট, রুপার চুড়ি, ১৪টি সিম কার্ড ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাসের কাউন্টারে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর দিয়ে টিকিট কাটলে মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা কমে আসবে। ডাকাতির ঘটনায় আমরা আমাদের দায় এড়াতে পারি না। পাশাপাশি রাতে মহাসড়ক থেকে বাসে যাত্রী তোলা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যাত্রীরা অস্ত্রশস্ত্র ব্যাগে নিয়ে বাসে উঠছে, কিন্তু তাদের চেকআপ ছাড়াই বাসে ওঠানো হচ্ছে। ’

টাঙ্গাইলের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার রতন বাস ডাকাতির তিন দিন আগে সহযোগী রাজা মিয়াকে ডাকাতির প্রস্তাব দিলে তিনি অন্যদের একত্রিত করার কথা বলেন। পরে মান্নান, জীবন, দীপু, আউয়াল ও নূরনবীকে ডাকাতির পরিকল্পনার কথা জানান। এরপর মান্নান তাঁর সহযোগী সোহাগ, আসলাম, রাসেল, নাঈম ও আলাউদ্দিনকে নিয়ে ডাকাতিতে যোগ দেন। ডাকাতিতে রতনের নেতৃত্বে মোট ১৩ জন অংশ নেন। ২ আগস্ট গাজীপুরের জিরানী বাজার এলাকায় সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসে ডাকাতির পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। ডাকাতির সরঞ্জাম কেনাসহ সব খরচ বহন করেন রতন। চক্রের সদস্যদের ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা মোড়ের একটি দোকান থেকে চারটি চাকু, দুটি ধারালো কাঁচি ও একটি ক্ষুর কেনা হয়। ডাকাতির রাতে রাজাসহ চক্রের অন্য সদস্যরা সিরাজগঞ্জ রোড মোড় এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের ওই বাস সিরাজগঞ্জ রোড মোড় এলাকায় পৌঁছলে রাজা থামার সংকেত দেন। এরপর যাত্রীবেশে প্রথমে রতন, রাজা, মান্নান ও নূরনবী বাসে ওঠেন। পরে আরো দুই দফায় ডাকাতচক্রের অন্য সদস্যরা বাসটিতে যাত্রীবেশে ওঠেন। বাসটিতে ২৪ জন সাধারণ যাত্রী থাকায় ডাকাতচক্রের বেশির ভাগ সদস্য পেছনের দিকে গিয়ে বসেন। বাসটি বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু এলাকা অতিক্রম করলে রতন তাঁর দলের সদস্যদের চাকু ও কাঁচি দেন। এ সময় ধূমপানের কথা বলে বাসের গেটের কাছে যান আউয়াল। তিনি অন্যদের ইশারা দিলে রাজা, রতন, মান্নান ও নূরনবী সিটের কাছে গিয়ে বাসচালককে মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে রতন বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন। ডাকাতদলের বাকি সদস্যরা বাসের চালক, সুপারভাইজার, হেলপারসহ অন্য সাধারণ যাত্রীদের হাত-মুখ বেঁধে সিট কভার দিয়ে মুখ ঢেকে দেন। এরপর তাঁরা যাত্রীদের সঙ্গে থাকা অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করেন। তাঁরা এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণ করেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, রতন ২০১৮ সালে নূরনবী, জীবন ও অন্য কয়েকজনকে নিয়ে রোড ব্লক করে সাভার পরিবহনের একটি বাস ডাকাতি করেন। ওই ঘটনায় রতন গ্রেপ্তার হন। জামিনে বের হয়ে ২০২০ সালে আবার নূরনবী, জীবন ও আউয়ালকে নিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি অটোরিকশা ছিনতাই করেন। তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা জীবনকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। ওই মামলায় রতন প্রায় এক বছর কারাভোগ করেন। আবার জামিনে বের হয়ে তিনি নিজ সিন্ডিকেট নিয়ে সাভার, গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় মহাসড়কে আরো কয়েকটি ডাকাতি করেন।

 



সাতদিনের সেরা