kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

দেশি বিজ্ঞানীদের সাফল্য

২৫০ টাকার কিটে শনাক্ত হবে কভিড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৫০ টাকার কিটে শনাক্ত হবে কভিড

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিসিএসআইআর মিলনায়তনে গতকাল কভিড কিটস উদ্ভাবন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাজারে প্রচলিত আরটিপিসিআর কিটের তুলনায় ১০ গুণ সাশ্রয়ী হবে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) আবিষ্কৃত কিট। ‘বিসিএসআইআর কভিড কিট’ নামে এই কিটের মাধ্যমে কভিড-১৯-এর ন্যূনতমসংখ্যক ভাইরাসও শনাক্ত করা যাবে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায়। রোগের উপসর্গ প্রকাশের আগেই ভাইরাসের উপস্থিতি জানা সম্ভব হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গতকাল রবিবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে বিসিএসআইআর মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আফতাব আলী শেখ এই কিট উদ্ভাবনের ঘোষণা দেন।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক মো. আফতাব আলী শেখের নেতৃত্বে বিসিএসআইআর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এই কিট উদ্ভাবন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএসআইআর জানায়, এই কিটের ন্যূনতম শনাক্তকরণ ক্ষমতা ১০০ কপি ভাইরাস/মিলি, যেখানে আমদানি করা অন্য কিটগুলোর শনাক্তকরণ ক্ষমতা এক হাজার কপি ভাইরাস/মিলি। অর্থাৎ বিসিএসআইআরের কভিড কিট দিয়ে একেবারেই ন্যূনতমসংখ্যক ভাইরাসকে শনাক্ত করা যাবে। এতে রোগের উপসর্গ প্রকাশের আগেই ভাইরাসের উপস্থিতি জানা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া বলা হয়, দেশে কভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিটের পুরোটাই আমদানি করতে হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া করোনাভাইরাস ঘন ঘন তার জিনগত পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। এতে বাজারের বাণিজ্যিক কিটগুলোর কভিড-১৯ শনাক্ত করার সেনসিটিভিটি ও স্পেসিফিকেশন কমছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ভুল ফল দিতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত কিউআরটি-পিসিআর কিট দিয়ে প্রতি পরীক্ষায় ব্যয় হয় আনুমানিক তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা; কিন্তু বিসিএসআইআরের কিটে ২৫০ টাকা খরচ হবে। ফলে বিপুল আমদানি ব্যয় কমবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, বিজ্ঞান গবেষণায় যখনই প্রয়োজন হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সায় দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরফুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমরাও পারি, তার প্রমাণ এই কিটস আবিষ্কার। সে ক্ষেত্রে বিসিএসআইআরসহ কিছু প্রতিষ্ঠান ভালো অবদান রাখছে। চিকিৎসকরাও সমান তালে এগিয়ে যেতে চাই বলে একত্রে এই কিট আবিষ্কার করতে পেরেছি। ’

অধ্যাপক আফতাব আলী শেখ বলেন, ‘এরই মধ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আমাদের এই কিটসের কর্মক্ষমতা অধ্যয়নের অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিক্যাল গবেষণা পরিষদ এই কিটের নৈতিক ছাড়পত্র দিয়েছে। ’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কর্মক্ষমতা অধ্যয়নের জন্য আমরা এরই মধ্যে ১২০টি স্যাম্পল তৈরি করেছি এবং তা ঔষুধ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর আমরা এগুলো তৈরি করে বাজারজাত করার অনুমোদন পাব। ’

এই কিট বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারণ করা হয়েছে কি না—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা বড় পরিসরে এটা করতে পারব না। বড় কোনো প্রতিষ্ঠান এটা কিনে নিয়ে উৎপাদনে যাবে। তবে মেধাস্বত্ব থাকবে আমাদের। আমেরিকায় এক সপ্তাহের মধ্যে এর প্যাটেন্টের জন্য সাবমিট করব। ’

 



সাতদিনের সেরা