kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

প্র্রেস ক্লাবের সামনে নিজের গায়ে আগুন দিলেন ঠিকাদার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্র্রেস ক্লাবের সামনে নিজের গায়ে আগুন দিলেন ঠিকাদার

কাজি আনিস

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন একজন ঠিকাদার।

তাঁর নাম কাজি আনিসুর রহমান আনিস (৫০)। গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর দেহের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কাজি আনিস ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায়।  

গতকাল সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কী কারণে তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে গায়ে আগুন দিলেন তার তদন্ত চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, বিকেল ৫টার দিকে প্রেস ক্লাবের ফটকের পাশে খোলা স্থানে আনিস শুয়ে ছিলেন। এর এক পর্যায়ে তিনি নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তাঁর গায়ে আগুন জ্বলছে দেখে আশপাশ থেকে সবাই ছুটে যান। দ্রুত তাঁরা পানি ঢেলে আগুন নেভান। তবে ততক্ষণে তাঁর গায়ের পোশাক সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইউব হোসেন জানান,  আনিসের শরীরের ৯০ শতাংশ বার্ন হয়েছে।

আনিসকে বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়ার সময় ছিলেন মো. আলী নামের এক ব্যক্তি। তিনি হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, দগ্ধ অবস্থায় তাঁর (আনিস) সঙ্গে একটু কথা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, ‘একটি কম্পানির কাছে তিনি এক কোটি ২৬ লাখ টাকা পাবেন। ওই কম্পানি তা দিচ্ছে না। পাওনা পেতে তিনি এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছিলেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তাই তিনি নিজের গায়ে আগুন দেন। ’

কাজি আনিস কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টিবাজার এলাকার ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার ইকবাল মাহমুদ গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, কাজি আনিস ১৯৯২ সালে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তবে কী কারণে তিনি গায়ে আগুন দিয়েছেন, সেটা তিনি বুঝতে পারছেন না। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে শাহবাগ থানার এসআই গোলাম হোসেন বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, কাজি আনিস ‘হেনোলাক্স কম্পানির কাছে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা পান। দীর্ঘদিন ধরে এ টাকা না দেওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ’ 

হাসপাতালে কাজি আনিসের এক বন্ধু বলেন, হেনোলাক্স নামের একটি কম্পানির কাছে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা পাবেন কাজি আনিস। কিন্তু কম্পানি পাওনা টাকা দিচ্ছে না। এ নিয়ে এর আগে মানববন্ধন করেছেন তিনি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এই ক্ষোভ আর কষ্টে গায়ে আগুন দিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, গত ৩১ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন আনিস। সেখানে তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে হেনোলাক্স গ্রুপের কর্ণধার মো. নুরুল আমিন ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আমিনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাঁদের সঙ্গে আমার সখ্য এবং আন্তরিকতা গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালে কলকাতা হোটেল বালাজিতে একই সঙ্গে অবস্থানকালে তাঁরা আমাকে হেনোলাক্স গ্রুপে বিনিয়োগের এবং যথেষ্ট লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে বলে জানান। আমি প্রথমে অসম্মতি জ্ঞাপন করলেও পরে রাজি হই এবং প্রাথমিকভাবে এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করি। পরে আরো ২৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি (বেশির ভাগ টাকা ঋণ হিসেবে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে নেওয়া)।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ করার সময় পরস্পরের প্রতি সম্মান এবং বিশ্বাসের কারণে তাঁদের অনুরোধে চূড়ান্ত রেজিস্ট্রি চুক্তি করা হয়নি, তবে প্রাথমিক চুক্তি করা হয়। বিনিয়োগ-পরবর্তী চূড়ান্ত রেজিস্ট্রি চুক্তিপত্র সম্পাদন করার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও তাঁরা গড়িমসি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাঁরা প্রতি মাসে যে লভ্যাংশ প্রদান করতেন, সেটাও বন্ধ করে দেন এবং কয়েকবার তাঁদের লোকজন দিয়ে আমাকে হেনস্তা ও ব্ল্যাকমেইল করেন। বর্তমানে লভ্যাংশসহ আমার ন্যায্য পাওনা তিন কোটি টাকার বেশি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া আদালতে আমি তাঁদের আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করেছি, যা বিচারাধীন। ’

স্বজনরা জানায়, গ্রামের বাড়ি কুমারখালীর পান্টিতে হলেও কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকার পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে বসবাস করতেন আনিস। তিনি পানি, গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাও করতেন। তাঁর তিন কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁরা মায়ের সঙ্গে যশোরে বসবাস করেন, সেখানে পড়াশোনা করে মেয়েরা।

কাজি আনিসের আর্থিক দাবির বিষয়ে হেনোলাক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

 



সাতদিনের সেরা