kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

উদ্যোগ

বৃক্ষমেলায় মধু জাদুঘর

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার আজ শেষ দিন

মোহাম্মদ আসাদ   

৪ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৃক্ষমেলায় মধু জাদুঘর

বৃক্ষমেলায় আলওয়ান মধু জাদুঘর। ছবি : কালের কণ্ঠ

জাতীয় বা যেকোনো বৃক্ষমেলায় মূলত বৃক্ষলতা-গুল্মের সমাহার হওয়ার কথা। সেখানে মধুর জাদুঘর দেখলে প্রথমে খটকা লাগতেই পারে। তবে একটু মাথা খাটালেই মনে পড়বে দুয়ের মধ্যে সম্পর্কটা। পরাগায়ণের মাধ্যমে ফল, ফসল তথা উদ্ভিদের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে মৌমাছিসহ কীটপতঙ্গের।

বিজ্ঞাপন

আর এ বিষয়টা তুলে ধরতেই এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় মৌমাছি ও মধু সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে মধু জাদুঘর খুলে বসেছিলেন মধু গবেষক সৈয়দ মোহাম্মদ মঈনুল আনোয়ার।

জাতীয় বৃক্ষমেলায় প্রবেশের পর হাতের ডানে হাঁটলে এক পর্যায়ে ৩২ নম্বর স্টল। মধু জাদুঘরের ঠিকানা এটাই। স্টলের সামনেই মাথার ওপর একটি মৌমাছির বাসা, অর্থাৎ মৌচাক। তার নিচে লেখা ‘হাত পাতলেই বিশুদ্ধ মধু’। সত্যিই মধুর চাকের নিচে হাত পাতার সঙ্গে সঙ্গেই চুইয়ে পড়ে মধু! স্টলটি ‘আলওয়ান মধু জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র, চট্টগ্রাম’-এর। এই স্টলে আছে নানা রকম মধু, মধুসংশ্লিষ্ট সব উপাদান। ক্রেতাদের মধুর পাত্রের সঙ্গে দেওয়া হয় বীজ। ক্রেতারা জায়গা বুঝে এদিক-সেদিক ছিটিয়ে দিতে পারেন। প্রত্যাশা হয়তো তা থেকে গজিয়ে ওঠা গাছটি টিকে যাবে। গাছ থেকে হবে ফুল। সেখানে আসবে মৌমাছি। পূর্ণ হবে চক্র।

বাংলাদেশের ভালো মধুর বেশির ভাগই পাওয়া যায় সুন্দরবন থেকে। তাই স্টলের বাইরে তৈরি করা হয়েছে কিছুটা সুন্দরবনের পরিবেশ। সুন্দরবনের নানা রকম গাছ এখানে এনে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে মিনি সুন্দরবন। তার ভেতর রাখা হয়েছে নৌকা। আরো রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের মৌমাছির বাসা। নানা ধরনের মৌমাছির বর্ণনা রয়েছে সেখানে।

আলওয়ান মধু জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র লোকজনকে মধু চাষে আগ্রহী করে তোলে। মৌমাছি পালন করার পরামর্শ দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। কোন মৌমাছির স্বভাব কেমন, কোন গাছের ফুল থেকে কেমন মধু পাওয়া যায় ইত্যাদি বিষয়ে মাসব্যাপী অনেক লোকেরই কৌতূহল মিটিয়েছে আলওয়ান মধু জাদুঘর স্টল কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, আজই রাজধানীতে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার শেষ দিন।

এই জাদুঘর ও গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন মধু গবেষক সৈয়দ মোহাম্মদ মঈনুল আনোয়ার। একবার বাবার চিকিৎসার কাজে মধুর প্রয়োজন হয়। কিন্তু কিনতে গিয়ে দেখেন, বিক্রেতাদের কেউ জোর দিয়ে বলতে পারছে না তার মধুটা খাঁটি। মঈনুল আনোয়ার তখনই ঠিক করলেন মধু নিয়ে কাজ করবেন। চাকরি ছেড়ে চট্টগ্রামের আসকার দিঘিরপারে গড়ে তুললেন ‘আলওয়ান মধু জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র’। ধীরে ধীরে সম্ভাব্য সব ধরনের মধু সংগ্রহ করে সেখানে সংরক্ষণ করলেন। তাঁর সংগ্রহে আছে বহু ধরনের মৌমাছি ও মধুর চাকের নমুনাও।

 

 



সাতদিনের সেরা