kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

১১৬ প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা দেড় লাখ কোটি টাকা

সজীব হোম রায়   

১ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১১৬ প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা দেড় লাখ কোটি টাকা

রাজধানীবাসীর পানির সমস্যা দীর্ঘদিনের। কোনো কোনো এলাকার পানিতে দুর্গন্ধ বলে অভিযোগ রয়েছে। ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়লে অনেকেই ঢাকা ওয়াসার ময়লা পানিকে দোষারোপ করে। এসব সমস্যা সমাধানে সংস্থাটিকে সরকার উন্নয়নমূলক কাজে ঋণ দেয়।

বিজ্ঞাপন

সেই ঋণ ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত সুদ-আসলে জমে ১৭ হাজার ৩৬২ কোটি ৮৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা হয়েছে। ঋণ এরই মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের সুদ-আসলের এই টাকা কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তা কেউ জানে না।

ঢাকা ওয়াসার মতো এমন ১১৬ প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকার মেয়াদোত্তীর্ণ ডিএসএলের সুদ ও আসল বাবদ এক লাখ ৬০ হাজার ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পায়। আর মেয়াদ অনুত্তীর্ণ ঋণ ধরলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৯৩ হাজার ৬৭৮ কোটি সাত লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

জানা গেছে, সরকার বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, আধাস্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পাবলিক সেক্টর করপোরেশনগুলোকে উন্নয়ন প্রকল্প ও অনুন্নয়নমূলক কাজের জন্য ঋণ দেয়। ‘ডেবট সার্ভিস লায়াবিলিটি’ বা ডিএসএল হলো সরকারের সেই পাওনা অর্থ।

উন্নয়ন প্রকল্প ও অনুন্নয়নমূলক কাজের অর্থের উৎস দুটি—বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রকল্প সহায়তা। উভয় ক্ষেত্রেই সরকার চুক্তির মাধ্যমে ঋণস্বরূপ এ অর্থ ওই সংস্থাগুলোকে দিয়ে থাকে। ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তির শর্ত মতে পরিশোধের সময় অনুযায়ী কিস্তিভিত্তিক সুদসহ অথবা সুদ ব্যতীত এ অর্থ সরকারকে ফেরত দিতে বাধ্য। কিন্তু বলা বাহুল্য, এসব শর্ত ও ঋণ বেশির ভাগ কম্পানি আর পরিশোধ করে না। ফলে সরকারের পাওনা বছর বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এসব সংস্থা, আধাস্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার সংস্থার কাছে সরকারের বৈদেশিক ও স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো এসব ঋণ পরিশোধ না করলেও সরকার বিভিন্নভাবে তা নিজেই পরিশোধ করতে বাধ্য হয়।

সবচেয়ে বেশি পাওনা বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে : বিদুৎ বিভাগের অধীন ১১টি সংস্থা রয়েছে। এগুলো হলো—বিপিডিসি, আরইবি, ডিপিডিসি, আরপিসিএল, পিজিসিবি, ডেসকো, ইজিসিবি, এপিএসসিএল, এনডাব্লিউপিজিসিএল, কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা এবং নেসকো।

সরকার ১১৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছে যে টাকা পায় তার প্রায় অর্ধেকই এই ১১টি সংস্থার কাছে। এই সংস্থাগুলোর কাছে সুদ-আসলে সরকারের পাওনা ৭৮ হাজার ৯০ কোটি ৯৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

যোগাযোগ করা হলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ডিএসএল বকেয়া রাখি না। পরিশোধ করে ফেলি। এগুলো সব পরিশোধ করা হবে। ’

১১ বছরে সরকারের পাওনা দ্বিগুণের বেশি : অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২০০৯-১০ অর্থবছর পর্যন্ত ৬৯টি প্রতিষ্ঠানের কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের সুদ-আসলের পরিমাণ ছিল ৭৮ হাজার ৭১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আর মেয়াদ অনুত্তীর্ণ ঋণের পরিমাণ ছিল ২০ হাজার ১৯১ কোটি তিন লাখ টাকা। ১১টি অর্থবছরের ব্যবধানে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের সুদ-আসলের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের সুদ-আসলের পরিমাণ এক লাখ ৬০ হাজার ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঋণের আসল ৬৪ হাজার ৪১৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সুদের পরিমাণ ৯৬ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা।

যেহেতু হিসাবটি ২০২০-২১ অর্থবছরের, তাই বাজেটের দিকে তাকালে দেখা যায় পাওনা টাকা দিয়ে ওই অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটানো প্রায় সম্ভব ছিল। ওই অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।

তবে বিশাল এ পাওনার ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এসব টাকা জনগণের করের টাকা। সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং জবাবদিহির অভাব রয়েছে। সুতরাং প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার করতে হবে। তা না হলে সরকারের দায় আরো বাড়বে।



সাতদিনের সেরা