kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

নোবেলজয়ী মারিয়া রেসার মিডিয়া বন্ধের নির্দেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নোবেলজয়ী মারিয়া রেসার মিডিয়া বন্ধের নির্দেশ

মারিয়া রেসা

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া রেসা প্রতিষ্ঠিত অনুসন্ধানী অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘র‌্যাপলার’ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ। দেশটির বিগত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে সরকারের সমালোচনা করা হাতে গোনা কয়েকটি গণমাধ্যমের একটি র‌্যাপলার। দুতার্তের পর গত নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছেন সাবেক স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোসের ছেলে মার্কোস জুনিয়র।

মার্কোস জুনিয়রের নতুন সরকার কেমন হবে এমন উদ্বেগের মধ্যেই র‌্যাপলার বন্ধের নির্দেশনা এলো।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, এটা বন্ধ হবে না। এই আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে।

গতকাল বুধবার মারিয়া রেসা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আগের মতোই কাজ চালিয়ে যাব।

আমরা বৈধ পথ অনুসরণ করব এবং নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করব। আমরা চাপে নত হব না। ’

ফিলিপাইনের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, আপিলের পর কম্পানিটির নিবন্ধন বাতিলের আদেশ বহাল রয়েছে। কারণ র‌্যাপলারের তহবিল সংগ্রহের পদ্ধতি ছিল অসাংবিধানিক।

এসইসি ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো র‌্যাপলার বন্ধের আদেশ দেয়। সংস্থাটির ভাষ্য ছিল, মিডিয়া প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের কর্তৃত্ব একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়, যা ফিলিপাইনের মিডিয়া আইনের লঙ্ঘন। এর পর থেকে ওই আদেশের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছিল র‌্যাপলার। তাদের ভাষ্য, মার্কিন বিনিয়োগের মাধ্যমে কোনো আইন ভঙ্গ করা হয়নি।

নোবেলজয়ী মারিয়া রেসা আরো বলেন, ‘আমাদের হয়রানি করা হয়েছে, হুমকি দেওয়া হয়েছে। এগুলো রাজনৈতিক কৌশল, আমরা তাদের কাছে নত হব না। ’

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, “এই ‘ভুয়া’ পদক্ষেপের মাধ্যমে যেকোনো মূল্যে নোবেলজয়ী মারিয়া রেসার মুখ এবং র‌্যাপলারকে বন্ধ করতে চায় এসইসি। ”

মাদকের বিরুদ্ধে সাবেক প্রেসিডেন্ট দুতার্তের প্রাণঘাতী যুদ্ধের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে খবর প্রকাশ করেছে র‌্যাপলার। এ ছাড়া দুতার্তের আমলে প্রশাসনের নারীবিদ্বেষী মনোভাব ও দুর্নীতিরও সমালোচনা করেছে গণমাধ্যমটি।

মারিয়া রেসার বিরুদ্ধে কমপক্ষে সাতটি ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা করা হয়েছে। এগুলো তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছেন।

২০১২ সালে র‌্যাপলারের প্রতিষ্ঠাতা মারিয়া রেসা সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখায় গত বছর রাশিয়ার দিমিত্রি মুরাতভের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন।

গত মে মাসে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন দুতার্তের সহযোগী ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। গণমাধ্যমকে দমন ও বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফিলিপাইনের অধিকারকর্মীরা। বামপন্থীদের সমর্থনকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইট চলতি মাসে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। যেসব সাংবাদিক সরকারের সমালোচনা করেন তাঁরা প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হন।

মার্কোস জুনিয়রের বাবা ফিলিপাইনের সাবেক স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোস কয়েক দশকের শাসনামলে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী রাজনীতিকদের নির্যাতন করেছেন।

রিপোটার্স উইদাউট বর্ডারসের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচক অনুযায়ী, বৈশ্বিক তালিকার ১৮০টি দেশের মধ্যে ফিলিপাইনের অবস্থান ১৪৭তম। ২০২১ সালের তুলনায় এ বছর দেশটি ৯ ধাপ পিছিয়েছে। সূত্র : বিবিসি



সাতদিনের সেরা