kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

চট্টগ্রামে পাহাড়ধস

মায়ের মৃত্যু ছেদ টানল ভাই-বোনের বন্ধনে

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২০ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মায়ের মৃত্যু ছেদ টানল ভাই-বোনের বন্ধনে

পাহাড়ধসে মায়ের মৃত্যুর পর যমজ বোনের মধ্যে একজনের আশ্রয় হয়েছে বড় চাচার বাড়ি রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে, আরেকজন আছে মিরসরাইয়ে বাবার বাড়িতে। ছবি : কালের কণ্ঠ

খালার বাসায় গত শনিবার বিকেলে তিন ভাই-বোন মিলে খেলছিল। ওদের এখনো সেই বয়স হয়নি যে বুঝবে—মা আর নেই, তাঁকে এরই মধ্যে দাফন করা হয়ে গেছে। এই তিন ভাই-বোনকে নিয়ে খালা নার্গিস আক্তারের কান্নাও যেন আর থামছে না। চট্টগ্রাম শহরের আকবরশাহ থানার ১ নম্বর ঝিল এলাকায় পাহাড়ধসে গত শুক্রবার রাতে দুই বোনকে হারিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আহত মা-বাবা হাসপাতালে। একসঙ্গে এত নিষ্ঠুরতা নিতে পারছিলেন না। একখণ্ড জমি কিনে সেখানে টিনশেড ঘর তুলে বাস করেন। পাশেই বাস করতেন মা-বাবাসহ বোনেরা। সেখানে পাহাড়ধসে মারা গেছেন আপন দুই বোন শাহীনুর বেগম ও মাইনুর বেগম।

শাহীনুরের রয়েছে দুটি যমজ মেয়ে। মাত্র সাত মাস বয়সে মেয়ে দুটি মাকে হারাল। আবার যমজ দুই বোনও এখন আর একসঙ্গে নেই। চার বছর বয়সী ভাই তরিকুল ইসলাম তানিমের সঙ্গে তাকিয়া ইয়াসমিন তিন্নি থাকছে বাবার বাড়িতে। সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাসকিয়া ইসলাম তানহা।

তানহাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই বরইছড়ি এলাকায়। সেখানে বড় চাচা এমরানুল হকের বাসায় থাকছে সে। আপাতত সেখানে চাচির তত্ত্বাবধানে থাকবে সে। তিন্নি ও তামিম থাকবে বাবার সঙ্গে দাদাবাড়িতে।

গতকাল রবিবার দুপুরে নার্গিসের বাসায় গেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানালেন এত সব বিচ্ছেদের কথা। পাহাড়ধসে শাহীনুর মারা গেলে দুই যমজ শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েন বাবা জয়নাল আবেদীন। তিনি শ্রমজীবী মানুষ। ঘটনার আকস্মিকতায় এখনো হতবিহ্বল তিনি। কোনো কথাই বলতে পারছিলেন না। শেষে কথা বলেন জয়নালের ছোট ভাই এনামুল হক।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাতে মৃত্যুসংবাদ পেয়ে মিরসরাই থেকে এখানে চলে আসি। ভাবিকে (শাহীনুর) দাফনের পর তাঁর দুই যমজ শিশুকে নিয়ে চিন্তায় পড়ি—মায়ের অনুপস্থিতিতে কিভাবে তাদের লালন-পালন করা যায়। ভাবির বড় ছেলে তানিমের বয়স চার বছর। এ অবস্থায় পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়, মেয়ে তানহাকে নিয়ে যাবেন আমাদের বড় ভাই এমরানুল হক। তিনি রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় থাকেন। এরই মধ্যে তিনি তানহাকে নিয়ে রাঙামাটি চলে গেছেন। আর আমরা জয়নাল ভাই, তাঁর দুই সন্তান তানিম ও তিন্নিকে নিয়ে মিরসরাই থাকব। দাদি-চাচিরাই তিন্নি ও তানিমকে দেখভাল করবেন। ’ মায়ের দাফনের পরই তিন ভাই-বোনের বন্ধন এভাবে ছিঁড়ে যাবে, ভাবা কষ্টকর।

 

চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার ১ নম্বর ঝিল এলাকায় পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে ঘরবাড়ি, রাস্তা। পাহাড়ধসের ঝুঁকি নিয়েই সেই সব বাড়িতে বাস করছে মানুষ।    ছবি : কালের কণ্ঠ

 

 



সাতদিনের সেরা