kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

প্রথম ভারতীয়র আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার জয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রথম ভারতীয়র আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার জয়

গীতাঞ্জলী শ্রী

হিন্দি ভাষায় লেখা উপন্যাস ‘টুম অব স্যান্ড’-এর (হিন্দি নাম ‘রেত সমাধি’) জন্য এ বছর আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার জিতলেন ভারতীয় লেখক গীতাঞ্জলী শ্রী ও মার্কিন অনুবাদক ডেইজি রকওয়েল। এবারই প্রথম কোনো ভারতীয় লেখক ও ভাষার কোনো বইকে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার দেওয়া হলো।

প্রতিবছর ইংরেজিতে অনূদিত এবং যুক্তরাজ্যে ও আয়ারল্যান্ডে প্রকাশিত একটি বইকে আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারটি ‘ম্যান বুকার প্রাইজ’ থেকে আলাদা।

বিজ্ঞাপন

অরুন্ধতী রায়, অরবিন্দ আদিগাসহ কয়েকজন ভারতীয়কে এর আগে ম্যান বুকার প্রাইজ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের উত্তরাঞ্চলের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাসটিতে তুলে ধরা হয়েছে এক ৮০ বছর বয়সী নারীর গল্প, যাকে কিশোর বয়সে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল।

উপন্যাসে পাঠকরা পরিচিত হয় ‘মা’ চরিত্রটির সঙ্গে, যে স্বামীর মৃত্যুর পর বিষণ্নতায় ভোগে। পাকিস্তানে গিয়ে অতীতের অমীমাংসিত এক মানসিক পীড়নের মুখোমুখি হয় সে।

শ্রী উপন্যাসের ভূমিকায় লিখেছেন, ‘আপনি একবার নারী ও সীমান্তকে এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়ে দিলে গল্প নিজে থেকেই চলতে শুরু করে। শুধু নারী একাই যথেষ্ট। নারীরা নিজেরাই গল্প। ’

বিচারকরা বলেছেন, ‘এটি এমন একটি বই যা আকর্ষণীয়, মজাদার ও একেবারে মৌলিক, আবার একই সময়ে খুব জরুরি ও সময়োপযোগী—সীমান্ত ও সীমানার ধ্বংসাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে, হোক তা কোনো ধর্মের, দেশের বা লিঙ্গের সীমানা। ’ 

বিচারক পর্ষদের সভাপতি ফ্র্যাংক উইনি বলেন, ‘উপন্যাসটিতে উদ্দীপনা ও প্রাণ রয়েছে। রয়েছে ক্ষমতা ও আবেগ, যা এখন বিশ্বের দরকার। ’

নয়াদিল্লির লেখক শ্রীর এটি তৃতীয় বই। তবে যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস এটি। ১৯৫৭ সালে জন্মগ্রহণকারী শ্রীর লেখা অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, সার্বিয়ান ও কোরিয়ান ভাষায়। শ্রী বলেন, ‘এটি শুধু আমার ব্যাপারে নয়, একক প্রসঙ্গে নয়। আমি একটি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করি। এই স্বীকৃতি হিন্দি সাহিত্যকে এবং বৃহত্তর পরিসরে ভারতীয় সাহিত্যকে সমগ্র বিশ্বের বড় পরিধির মধ্যে এনে দিয়েছে। ’ 

অনুবাদক ডেইজি রকওয়েল থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টে। বিংশ শতাব্দীর বেশ কিছু ক্লাসিক তিনি হিন্দি ও উর্দু থেকে অনুবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘টুম অব স্যান্ড ছিল আমার অনুবাদ করা সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। ’ ‘গীতাঞ্জলির লেখার পরীক্ষামূলক স্বভাব ও নিজস্ব ভাষা শৈলীই’ তার কারণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ১৯৬৯ সালে জন্মগ্রহণকারী রকওয়েল চিত্রকর ও লেখক। তিনি শুধু নারীদের লেখা অনুবাদ করেন বলে জানিয়েছেন। পুরুষের দৃষ্টি ও নারী বিদ্বেষের প্রতি বিরক্তি থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন টুইটারে।

নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কার বাবদ ৫০ হাজার পাউন্ড লেখক ও অনুবাদকের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি



সাতদিনের সেরা