kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

ঠিকাদারের গাফিলতি বেহাল দুই পার্ক

জহিরুল ইসলাম   

২৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঠিকাদারের গাফিলতি বেহাল দুই পার্ক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ইংলিশ রোডের মালিটোলা পার্কে হরিণের ভাস্কর্য ভেঙে যাওয়ায় রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে পিলারের সঙ্গে (বাঁয়ে) এবং সিক্কাটুলির খালেক সরদার পার্কে অনেক বেঞ্চের টাইলস ভেঙে গেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার সিক্কাটুলি শহীদ বুদ্ধিজীবী খালেক সরদার পার্ক ও ইংলিশ রোডের মালিটোলা পার্ক এখন বেহাল। এই দুই পার্কের উন্নয়নে ব্যয় করা হয় প্রায় সাত কোটি টাকা। কিন্তু দুই বছরের মাথায় পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনকারী ঘাস, গাছপালা ও রাইডগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে বেঞ্চের টাইলস।

বিজ্ঞাপন

এলইডি বাতি জ্বলছে না। তাই সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে আড্ডা বসে মাদকসেবীদের।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বলেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের গাফিলতির কারণে এই দুই পার্কের এমন পরিস্থিতি হয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ডিএসসিসি যদি বুঝে নেওয়ার পর সঠিকভাবে পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ করত তবে এমন হতো না।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, ঢাকাকে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ২০১৬ সালে ‘জল সবুজে ঢাকা’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নেয় করপোরেশন। এর আওতায় ডিএসসিসির ১৯টি পার্ক ও ১২টি মাঠ সংস্কার বা আধুনিকায়নের কাজ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই দুটি পার্কের সংস্কারের দায়িত্ব পেয়েছিল এইচএমএইচ ও এইচসি (জেবি) নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের নামে কাজটি বাস্তবায়ন করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নোয়াব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আমিনুল হক বিপ্লব।

ডিএসসিসির প্রকৌশল দপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের জুনে খালেক সরদার পার্কের সংস্কারকাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের ১৬ মে পার্কটির উদ্বোধন করা হয়। গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, সিক্কাটুলি শহীদ বুদ্ধিজীবী খালেক সরদার পার্কটি ত্রিভুজ আকৃতির। চারপাশ উন্মুক্ত। ফলে সব দিক থেকেই পার্কে ঢোকা যায়। তবে পার্কের মধ্যে শিশুদের রাইডগুলোর চারপাশে লোহার জাল দিয়ে বেড়া দেওয়া। এর ফটকে তালা লাগানো থাকলেও ভেতরের দোলনা ভেঙে পড়ে আছে। বেড়ার বাইরের অংশে শিশুরা ঘোরাঘুরি করছে। পার্কের উত্তর ও পশ্চিম পাশে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে রয়েছে। পার্কের উত্তর পাশে ফোয়ারার ভেতর বোতলসহ আবর্জনা। গণশৌচাগার তালাবদ্ধ।

পার্কসংলগ্ন সিক্কাটুলির বাসিন্দা ওয়াহিদুল হক বলেন, ‘এ পার্ক সংস্কারে তিন কোটি টাকা কোথায়, কিভাবে খরচ করা হলো তা বুঝে আসে না। এত টাকা যদি খরচ করেই থাকে, তাহলে কেন এখন এমন অবস্থা?’

ডিএসসিসির প্রকৌশল দপ্তর সূত্র জানায়, মালিটোলা পার্কের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। গত বছরের ৭ এপ্রিল এই পার্কটি উদ্বোধন করা হয়।

ইংলিশ রোডের মালিটোলা পার্কে সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, তিন কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পার্কটি আধুনিকায়ন করা হলেও কিছুই শুরুর মতো নেই। পার্কে নাগরিকদের জন্য দেওয়া পানির ফোয়ারা বন্ধ, কফিশপ, নারী-পুরুষদের জন্য পৃথক টয়লেট, হাঁটাচলার পথ থাকলেও অপরিচ্ছন্ন। পানি নিষ্কাশনের নালার ভঙ্গুর দশা। এলইডি বাতি নষ্ট হওয়ায় সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে আসে। এই সুযোগে ভবঘুরে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে।

পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা রুবেল মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পার্কের আজকে এইটা তো কালকে ওইটা নষ্ট হয়। এলইডিগুলা জ্বলে না। রাতে কে কোন দিক দিয়ে কী করছে বোঝা যায় না। ’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মুন্সি মো. আবুল হাসেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুটি পার্কের কাজ একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের করা। তাদের কাজে গাফিলতি ছিল বলে সাড়ে তিন কোটি টাকার বিল আটকানো হয়েছে। তারা বিলের জন্য চাপ দিচ্ছে। সিটি করপোরেশন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পার্কগুলো সরেজমিন দেখে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নোয়াব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আমিনুল হক বিপ্লব বলেন, ‘সব কাজ শেষ করে সঠিকভাবে সিটি করপোরেশনকে দুটি পার্কই বুঝিয়ে দিয়েছি। মেয়র সাহেব বলেছেন বাকি টাকা দিয়ে দেবেন। বুঝিয়ে দেওয়ার পর যদি সিটি করপোরেশন রক্ষণাবেক্ষণ না করে তাহলে সেটি আমরা কী করতে পারি। ’

 

 



সাতদিনের সেরা