kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

মাঠে ১৪৩ মেডিক্যাল টিম

সিলেট অফিস   

২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাঠে ১৪৩ মেডিক্যাল টিম

সিলেটে বন্যার পানি নামছে। সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের শঙ্কা বাড়ছে। এরই মধ্যে জেলায় ৩৬৯ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আবার ডায়রিয়া আক্রান্ত অনেকে অবস্থা গুরুতর না হলে হাসপাতালে যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এলাকা ও ১৩ উপজেলায় ১৪৩টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডায়রিয়া হলেও তারা হাসপাতালে যাচ্ছে না। স্যালাইন ও ওষুধ খেয়ে বাসায়ই সেরে ওঠার চেষ্টা করছে। বেশি খারাপ অবস্থা না হলে হাসপাতালে যাচ্ছে না। পাশাপাশি অনেকে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগছে।

নগরের মেন্দিবাগ এলাকার দিনমজুর বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘বন্যার সময় পেট খারাপ হইছিল। পরে ফার্মেসিত জিগাইয়া ওষুধ আর স্যালাইন খাইছি। কইমা গেছে। আমার পরিবার ও মেয়েরও একই সমস্যা হইছিল। এখন ঠিক আছি আমরা। ’ যতরপুর নবপুষ্প এলাকার বাসিন্দা হাবিবা বেগম বলেন, ‘ডায়রিয়া হয়েছিল ছেলের। স্যালাইন খেয়েই কমে গেছে অনেকটা। ’

নগরের বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সিসিকের উদ্যোগে তিনটি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। প্রয়োজনে তা আরো বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বন্যা-পরবর্তী সময়ে সাধারণ পানিবাহিত রোগ বিস্তারের শঙ্কা থাকে। আমরা শুরু থেকে এ বিষয়ে সতর্ক আছি এবং প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছি। ’

সিলেট জেলার বন্যাকবলিত ১৩টি উপজেলার জন্য ১৪০টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬টি টিম কাজ করছে গোলাপগঞ্জে। উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় শুধু নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন অবস্থায় আছে। বাকি এলাকায়, বিশেষ করে মানুষের বাড়িঘর থেকে পানি নেমে গেছে। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানিবাহিত রোগী এখনো খুব একটা বাড়েনি। টুকটাক রোগী এলেও তা এখনো আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নয়।

সিলেটের সবচেয়ে বেশি বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোর অন্যতম জকিগঞ্জ। বিশেষ করে অমলসিদে তিন নদীর মোহনায় কুশিয়ারা নদীর ডাইক (বাঁধ) ভেঙে যাওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি সরাসরি উপজেলায় ঢুকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল।

সিলেটের সিভিল সার্জন এস এম শাহরিয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আমরা সতর্ক আছি বন্যা-পরবর্তী রোগের প্রাদুর্ভাব হয় কি না, তা নিয়ে। পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগসহ এ সময়ের রোগ নিয়ে একটু শঙ্কিত আছি। তবে সব ধরনের প্রস্তুতিও নেওয়া আছে। ’ বন্যাকবলিত এলাকায় এ পর্যন্ত কী পরিমাণ মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৩৬৯ জন আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। ’ বেশির ভাগই সুস্থ হয়ে ফিরে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন ৪৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

 

 



সাতদিনের সেরা