kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

প্রকৃতি

সাদা ফুল বন আসরা

মোহাম্মদ আসাদ   

২৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সাদা ফুল বন আসরা

গাছে ফুটে আছে সাদা ফুল বন আসরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বেশ কয়েক বছর আগে রাজধানীর মিরপুর উদ্ভিদ উদ্যানে হাঁটছিলাম। হাঁটতে হাঁটতে একটি গাছের দিকে তাকিয়ে দেখি ছোট সাইনবোর্ড। তাতে লেখা ‘আছর’। তখন ভূতের আছর শব্দটাই মনে হতে লাগল! ভয়ে যেন গা ছমছম করছে!

এরই মধ্যে উদ্যানের এক কর্মীকে যেতে দেখলাম পাশ দিয়ে।

বিজ্ঞাপন

জিজ্ঞেস করলাম, সাইনবোর্ডে ‘আছর’ লেখা কেন? উত্তরে তিনি বললেন, ‘এই গাছের নাম আছর, দেখেন না নিচে বৈজ্ঞানিক নামও লেখা আছে। ’ ওহ, তাইতো! ভয়ে অনেক সময় এমন উল্টাপাল্টা হয়ে যায়!

কিছুদিন পর আবার যাই সেই গাছের কাছে। দেখতে নকশাখচিত উপবৃতির মধ্য থেকে বেরিয়ে এসেছে নবীন ঢেঁড়সের মতো কলি। লম্বা বৃতি ছড়িয়ে তার মধ্য থেকে বেরিয়ে এসেছে সাদা রঙের ফুল। পাঁচ পাপড়ির সাদা ফুল, হালকা সবুজ বৃতি এবং নকশা করা উপবৃতিসহ গাছে অসাধারণ রূপ ধারণ করেছে। এবার আছর ফুলের ছবি তুললাম প্রাণ ভরে। পড়ে প্রখ্যাত প্রকৃতি গবেষক দ্বিজেন শর্মার কাছ থেকে জেনেছিলাম, ফুলটির আরেক নাম বন আসরা এবং এটি আমাদের নিজস্ব প্রজাতি। এই গাছ আরো পাওয়া যায় পূর্ব ভারত ও মিয়ানমারে। বিচিত্র এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম

Pterospermum semisagittatum. বন আসরা মাঝারি আকারের গাছ। পাতা স্বল্প বোঁটাযুক্ত বর্শার ফলার মতো। অগ্রভাগ চোখা, ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। মজার বিষয়, বন আসরার পাতার ওপরের দিক সবুজ এবং নিচের দিক সাদা। রোমশ হওয়ার কারণে পাতা হয় খসখসে। সাদা ফুল বৃতি-উপবৃতিসহ সাত/আট সেন্টিমিটার লম্বা হয়। ফুল হালকা সুগন্ধি। সকালে গাছে ফুল দেখা গেলেও দুপুরের আগেই চুপসে যায়। এরপর ঝরে পরে। বন আসরার ফল রোমশ ও শক্ত। সাধারণত বীজ থেকেই বংশবৃদ্ধি হয়ে থাকে। তবে কলম করেও চারা তৈরি করা যায়।

রমনা পার্কের রেস্তোরাঁ ও সেতুর মাঝখানে লেকের পারে গত শুক্রবার একটি বন আসরা গাছ চোখে পড়ল। অন্য গাছগাছালির সঙ্গে গাছটি এমনভাবে মিশে আছে, ভালো করে খেয়াল না করলে চেনার উপায় নেই। গাছের গোড়ায় অনেক নবীন ডালপালা বাঁশের কঞ্চির মতো মাথা উঁচু করে ওপরের দিকে ছুটছে। এখন ফুলে ফুলে ভরে আছে গাছ। সকালে গেলে ফুলের দেখা মিলবে।

 



সাতদিনের সেরা