kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

দেশের অতি উচ্চ দারিদ্র্য চর রাজিবপুর উপজেলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের অতি উচ্চ দারিদ্র্য চর রাজিবপুর উপজেলায়

রংপুর বিভাগের তিন জেলাসহ মোট চার জেলার ৩২টি উপজেলায় অতি উচ্চ দারিদ্র্য রয়েছে। জেলাগুলো হলো কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুর ও জামালপুর। এসব জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য রয়েছে কুড়িগ্রামে চর রাজিবপুর উপজেলায়, ৭৯.৮ শতাংশ। আর তুলনামূলক কম দারিদ্র্য রয়েছে একই জেলার রাজারহাট উপজেলায়, ৭০.১ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্রে উঠে এসেছে এসব তথ্য। গতকাল রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে ‘দারিদ্র্য এবং বাংলাদেশের অপুষ্টি মানচিত্র’ শীর্ষক দুটি পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘পোভার্টি অ্যান্ড আন্ডার নিউট্রিশন  ম্যাপস বেইজড অন স্মল এরিয়া এস্টিমেশন টেকনিক’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে বিবিএস ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি)।

বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব শাহনাজ আরেফিন এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেনি পেয়ার্স এবং ভালনারেবিলিটি অ্যানালিসিস অ্যান্ড ম্যাপিং ইউনিটের অফিসার দিন আরা ওয়াহিদ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে বিবিএসের পোভার্টি অ্যান্ড আন্ডার ম্যাপিংয়ের ফোকাল পয়েন্ট আলমগীর হোসেন বলেন, ২০১৬ সালের হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেনডিচার সার্ভের তথ্য থেকে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র। এ ছাড়া ২০১৯ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের তথ্য থেকে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের অপুষ্টি মানচিত্র। এ দুটি মানচিত্রে প্রথমবারের মতো উপজেলা পর্যায়ের তথ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে।

দারিদ্র্য ম্যাপে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশের চারটি জেলার সব উপজেলায় অতি উচ্চ দারিদ্র্য বিরাজ করছে। অন্য জেলাগুলোতে বিভিন্ন উপজেলায় অতি উচ্চ দারিদ্র্যের পাশাপাশি উচ্চ, মধ্যম, নিম্ন এবং অতি নিম্ন দারিদ্র্যও রয়েছে। কিন্তু অতি উচ্চ দারিদ্র্য থাকা কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ দারিদ্র্য হার চর রাজিবপুর উপজেলায়, ৭৯.৮ শতাংশ। এ ছাড়া রৌমারীতে ৭৬.৪ শতাংশ, চিলমারীতে ৭৩.৫ শতাংশ এবং  কুড়িগ্রাম সদরে ৭২.৬ শতাংশ দারিদ্র্য রয়েছে। সেই সঙ্গে নাগেশ্বরী উপজেলায় ৭২.৭ শতাংশ, উলিপুরে ৭০.৮ শতাংশ, রাজারহাটে ৭০.১ শতাংশ, ভূরুঙ্গামারীতে ৭১.৯ শতাংশ এবং ফুলবাড়ী উপজেলায় ৬৯ শতাংশ দারিদ্র্য রয়েছে।

গাইবান্ধার সাতটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য ফুলছড়িতে, ৪৮ শতাংশ। এ ছাড়া সুন্দরগঞ্জে ৬৭.৬ শতাংশ, গাইবান্ধা সদরে ৪৬.৬ শতাংশ এবং সাঘাটায় ৪৪.৯ শতাংশ দারিদ্র্য রয়েছে। সেই সঙ্গে সাদুল্যাপুরে ৪২.৫, গোবিন্দগঞ্জে ৪১.৫ শতাংশ এবং  পলাশবাড়ীতে ৪১.৯ শতাংশ দারিদ্র্য রয়েছে। দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য খানসামা উপজেলায়, ৬৮.২ শতাংশ। জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যের হার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়, ৬৩.২ শতাংশ।

এদিকে অপুষ্টি ম্যাপে বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ে (পাঁচ বছরের কম বয়সী) খর্বাকৃতি শিশুর হার সবচেয়ে  বেশি হচ্ছে পঞ্চগড়, সিলেট ও ভোলা জেলায়। এগুলোতে এই হার ৩৭.৫৫ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া শিশুদের ওজনস্বল্পতার হার সবচেয়ে বেশি হবিগঞ্জ জেলায়। সেখানে এই হার ৩২.৯৩ শতাংশ অথবা এর বেশি। কৃশকায় (রোগাটে) শিশুর হার বান্দরবান, লক্ষ্মীপুর ও শেরপুর জেলায়। এই  হার ১৪.৪১ বা তার বেশি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পুরনো তথ্য দিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা করা যায় না। এ জন্য বিবিএসকে হালনাগাদ তথ্য তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এসডিজি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ তথ্য আমাদের হাতে রয়েছে। এখনো অনেক তথ্য ঘাটতি। এই ঘাটতি পূরণে কাজ করতে হবে। ’

এ সময় বিবিএস সচিব শাহনাজ আরেফিন বলেন, জনশুমারির প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ১৫-২১ জুন সারা দেশে একযোগ জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ করা হবে। এর মাধ্যমে অনেকগুলো হালনাগাদ তথ্য চলে আসবে।

 



সাতদিনের সেরা